ভাসমান সবজি চাষে কৃষকের সাফল্য

ঢাকা, বুধবার   ২০ জানুয়ারি ২০২১,   মাঘ ৭ ১৪২৭,   ০৫ জমাদিউস সানি ১৪৪২

ভাসমান সবজি চাষে কৃষকের সাফল্য

শরীফুল ইসলাম, চাঁদপুর ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৪:৪৬ ৮ নভেম্বর ২০২০  

ভাসমান বেডে সবজি চাষ ও চারা উৎপাদন

ভাসমান বেডে সবজি চাষ ও চারা উৎপাদন

ভাসমান বেডে বিষমুক্ত সবজি চাষ ও চারা উৎপাদন করে ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেছেন চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার শত শত কৃষক। আধুনিক এ পদ্ধতি অবলম্বন করে নিজেদের ভাগ্য বদলের পাশাপাশি জেলার চাহিদা পূরণে ভূমিকা রাখছেন তারা। 

তবে কৃষকরা বলছেন, শীতে আগাম ফসল উৎপাদন করে বাজারজাত করায় অন্য সময়ের তুলনায় অধিক লাভবান হচ্ছেন। এতে স্থানীয়রা কৃষকরা এ চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। 

সরেজমিন ফরিদগঞ্জের শোভান এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বর্ষা মৌসুমের শেষ দিকে নিচু এলাকার অধিকাংশ জমি পানির নিচে থাকে। ওই সময় কৃষকের তেমন কোনো কাজ থাকে না। তাই গত কয়েক বছর ধরে স্থানীয় কৃষকরা কৃষি বিভাগের সহায়তায় ভাসমান বেডে জলজ উদ্ভিদ কচুরিপানার মাধ্যমে নিজেদের বুদ্বিমত্তায় ভাসমান বেড তৈরি করেন। এরপর সবজি ও চারা চাষাবাদ শুরু করেন। এতে ওই এলাকার কৃষকরা আগাম সবজি চাষ করে বেশ লাভবান হচ্ছেন। 

স্থানীয় কৃষকরা জানান, এ চাষাবাদে কৃষক পরিবার নিজেদের কর্মসৃষ্টি ও বিষমুক্তভাবে বিভিন্ন প্রকার ফসল ও উৎপাদিত সবজি বাজারে অধিক মূল্যে বিক্রি করে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হয়েছেন।  

এদিকে চাঁদপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সূত্রে জানা যায়, ডাকাতিয়া নদীর অববাহিকার ভাটি অঞ্চল ও ফরিদগঞ্জ উপজেলার বেশ কিছু এলাকা বর্ষাকালে পানিতে তলিয়ে থাকায় সেখানে অধিক হারে এ পদ্ধতিতে চাষাবাদের সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া এ ধরনের চাষাবাদে রাসায়নিক সার ব্যবহার না করায় বিষমুক্ত সবজি উৎপাদিত হচ্ছে। যা স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্য পেতে সহায়ক ভূমিকা রাখছে। 
 
ফরিদগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে উপজেলার সেকদী, কামতা, শোভান, বাঘপুর, ধানুয়া ও টুবগি এলাকার কৃষকরা ১৫/২০ ফুট দৈর্ঘ্যের প্রায় ৫ শত বেড তৈরি করে ভাসমান সবজি চাষ করছেন। কৃষকরা ওইসব বেডগুলোতে মিষ্টি কুমড়া, লাউ, কলমি শাক, লাল শাক, শসা, ডাটা শাক ও ধনিয়া পাতাসহ বিভিন্ন ফসল আবাদ করছেন। এতে শীতের আগেই ওইসব ফসল উৎপাদন করে কৃষক বহুগুণ লাভের মুখ দেখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ভাসমান বেডে সবজি চাষ ও চারা উৎপাদনবাঘপুর গ্রামের কৃষক আবদুল কাদের ও শোভান গ্রামের আলমগীর হোসেনসহ আরো কয়েক জন কৃষক জানান, কয়েক বছর ধরে কচুরিপানার স্তুপ করে জলজ সারের মাধ্যমে বিশেষ ব্যবস্থায় সবজি চাষ করে আসছি। বর্তমানে কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় ভাসমান বেডে সবজি চাষ করে আগের তুলনায় এখন বেশি ফসল উৎপাদনে বেশি লাভও পাওয়া যাচ্ছে। তাই এখন পরিবারের সদস্যদের নিয়ে অনেক ভালো আছি।

ফরিদগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আশিক জামিল মাহমুদ বলেন, উপজেলার কৃষকরা ভাসমান বেডে বিষমুক্ত সবজি উৎপাদন এবং সবজি চাষের পূর্বে বীজতলা তৈরি করতে অন্য স্থানের চাইতে খুব বেশি পারদর্শী। এমনকি কম খরচে তারা করতে পারছেন। এতে করে এ জেলায় উৎপাদিত সবজি পাশের জেলাগুলোরও চাহিদা মেটাতে বিশেষ ভূমিকা রাখছে। তবে তাদেরকে উৎসাহিত করতে কৃষি বিভাগ সবসময়ই পরামর্শ ও সহযোগীতা করছে। 

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএম