দেশেই চাষ হচ্ছে মরুভূমির সুস্বাদু ‘ত্বীন’

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২৮ জানুয়ারি ২০২১,   মাঘ ১৪ ১৪২৭,   ১৩ জমাদিউস সানি ১৪৪২

দেশেই চাষ হচ্ছে মরুভূমির সুস্বাদু ‘ত্বীন’

গাজীপুর প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৬:৫৫ ৬ নভেম্বর ২০২০   আপডেট: ১৮:১৪ ৬ নভেম্বর ২০২০

গাজীপুরের শ্রীপুরে চাষ হচ্ছে মরুভূমির সুস্বাদু ‘ত্বীন’ ফল

গাজীপুরের শ্রীপুরে চাষ হচ্ছে মরুভূমির সুস্বাদু ‘ত্বীন’ ফল

দেশের মাটিতেই চাষ হচ্ছে মরুভূমির সুস্বাদু ও মিষ্টি ফল ‘ত্বীন’। গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বারতোপা গ্রামে এ ফলের বাগান গড়ে তুলেছে মডার্ন এগ্রো ফার্ম অ্যান্ড নিউট্রিশন নামে একটি প্রতিষ্ঠান। দিনদিন চাহিদা বৃদ্ধির কারণে বাগান আরো সম্প্রসারণ করার উদ্যোগ নিয়েছে মডার্ন এগ্রো।

বর্তমানে দেশের বিভিন্ন জেলায় ‘ত্বীন’ ফল ও চারা বিক্রি হচ্ছে। চাহিদা অনুযায়ী বাগান সম্প্রসারণ করতে পারলে দেশে বেকারত্ব হ্রাসের পাশাপাশি এ ফল রফতানি করে বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা সম্ভব বলে মনে করছেন উদ্যোক্তারা।

মডার্ন এগ্রো ফার্ম অ্যান্ড নিউট্রিশনের প্রতিষ্ঠাতা মো. আজম তালুকদার জানান, ২০১৪-২০১৫ সালে তিনি থাইল্যান্ড থেকে জীবন্ত ‘ত্বীন’ গাছ এবং তুরস্ক থেকে গাছের কাটিং নিয়ে আসেন। ২০১৭ সালে নির্দিষ্ট তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা বজায় রেখে বারতোপা এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে চারা উৎপাদন ও আবাদ শুরু করেন।

তিনি জানান, মরু অঞ্চলের এ ফল দেশের মাটি ও আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নিয়েছে। মাটিতে জৈব ও কম্পোস্ট সার মিশিয়ে মাঠে ও ছাদের টবে লাগিয়ে তিন মাসের মধ্যেই ফল উৎপাদনে শতভাগ সাফল্য পাওয়া গেছে। যারা ছাদ বাগান করেন তাদের মধ্যে ‘ত্বীন’ ফল বেশ আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। দেশের পাশাপাশি বিদেশেও সাড়া ফেলেছে ‘ত্বীন’ ফল। এরই মধ্যে এ ফল নেয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে ভারত ও জাপান।

আজম তালুকদার জানান, ‘ত্বীন’ ফল শুষ্ক ও শীতপ্রধান দেশে চাষ হলেও নাতিশীতোষ্ণ জলবায়ুতেও সারাবছর এ ফল উৎপাদন সম্ভব। বিদেশে চাহিদার তুলনায় উৎপাদন কম। আমাদের দেশে সারাবছর পুষ্টি ও ফলের চাহিদা পূরণ করে ‘ত্বীন’ ফল রফতানিও করা সম্ভব।

ডুমুর আকৃতির এ ফল পুষ্টি সমৃদ্ধ ও সুস্বাদু। প্রতিটি ‘ত্বীন’ ফল ৭০-১১০ গ্রাম পর্যন্ত হয়ে থাকে

তিনি আরো জানান, মডার্ন এগ্রো ফার্ম অ্যান্ড নিউট্রিশনের বাগানে ‘ত্বীন’ ফলের ১০৩টি জাত রয়েছে। তবে এখন ছয়টি জাতের চাষাবাদ হচ্ছে। জাতগুলোর ফল নীল, মেরুন, লাল, হলুদসহ বিভিন্ন বর্ণের হয়।

জানা গেছে, প্রতিটি গাছ থেকে প্রথম বছরে এক কেজি, দ্বিতীয় বছরে ৭-১১ কেজি, তৃতীয় বছরে ২৫ কেজি পর্যন্ত ফল পাওয়া যায়। এভাবে একটানা ৩৪ বছর পর্যন্ত ফল দিতে থাকে একেকটি গাছ। প্রতিটি গাছের আয়ু প্রায় ১০০ বছর। গাছের প্রতিটি পাতার গোড়ায় ফল ধরে। ডুমুর আকৃতির এই ফল পুষ্টি সমৃদ্ধ ও সুস্বাদু। প্রতিটি ‘ত্বীন’ ফল ৭০-১১০ গ্রাম পর্যন্ত হয়ে থাকে।

মডার্ন এগ্রো ফার্ম অ্যান্ড নিউট্রিশনের বিক্রয় ব্যবস্থাপক মো. পারভেজ আলম বাবু জানান, ‘ত্বীন’ ফল ও গাছের ব্যাপক চাহিদার কারণে সাতটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে ফার্ম কর্তৃপক্ষ। এখান থেকে কলম তৈরি করে নিজেদের প্ল্যান্ট ছাড়াও চাষিদের মধ্যে বিক্রি করা হচ্ছে। প্রতিদিন চট্টগ্রাম, রাজশাহী, ঠাকুরগাঁও, বগুড়া ও যশোরসহ বিভিন্ন জেলা থেকে ক্রেতারা এ ফল কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।

তিনি আরো জানান, প্রতিদিন ১৫-১৬ কেজি ‘ত্বীন’ বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজির দাম এক হাজার টাকা। দুই মাস বয়সী চারার পাইকারি মূল্য ৫২০ টাকা ও খুচরা মূল্য ৭২০ টাকা। এখান থেকে প্রতি মাসে দুই হাজার চারা বিক্রি হচ্ছে। ১০-২০ হাজার টাকায় টবসহ ফল ধরা চারা বিক্রি হচ্ছে। ‘ত্বীন’ গাছে রোগ জীবাণু সংক্রমণের মাত্রা একদমই কম।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর গাজীপুর কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. মাহবুব আলম বলেন, বাণিজ্যিকভাবে এতো বড় পরিসরে ‘ত্বীন’ চাষ দেশের আর কোথাও করা হয়নি। আমরা এ প্রকল্প পরিদর্শন করে বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ দিচ্ছি। রোগবালাই নেই বললেই চলে। ব্রেস্ট ক্যান্সার রোধে এ ফল খুবই উপকারী। এছাড়া উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ, চোখের দৃষ্টি শক্তি বৃদ্ধি, কোষ্ঠকাঠিন্য-শ্বাসকষ্ট নিরাময়, মানসিক ক্লান্তি দূর করতে সহায়তা করে ‘ত্বীন’। এতে প্রচুর পটাশিয়াম ও ক্যালসিয়াম রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, সৌদি আরব ও বাংলাদেশে ‘ত্বীন’ নামে ডাকলেও ভারত, তুরস্ক, মিসর, জর্ডান ও যুক্তরাষ্ট্রে এ ফল আঞ্জির নামে পরিচিত। ডুমুর জাতীয় এ ফলের বৈজ্ঞানিক নাম Ficus carica। এটি পুরোপুরি পাকলে রসে ঠাসা ও মিষ্টি হয়।

ডেইলি বাংলাদেশ/এআর/এইচএন