উঠছে নিষেধাজ্ঞা, মধ্য রাত থেকে ইলিশ ধরা শুরু 

ঢাকা, বুধবার   ২০ জানুয়ারি ২০২১,   মাঘ ৭ ১৪২৭,   ০৫ জমাদিউস সানি ১৪৪২

উঠছে নিষেধাজ্ঞা, মধ্য রাত থেকে ইলিশ ধরা শুরু 

চাঁদপুর প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৬:২৫ ৪ নভেম্বর ২০২০   আপডেট: ১৬:৫০ ৪ নভেম্বর ২০২০

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

৪ নভেম্বর রাত ১২টায় শেষ হচ্ছে নদীতে মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা। ২২ দিন নিষেধাজ্ঞার পর বুধবার মধ্যরাত থেকে নদীতে ইলিশ ধরতে ছুটবেন জেলেরা।

নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নৌকা আর জাল নিয়ে নদীতে জাল ফেলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন জেলেরা। 

অমাবস্যা ও পূর্ণিমায় মা ইলিশ প্রচুর ডিম ছাড়ে। ইলিশের ডিমের পরিপক্কতা ও প্রাপ্যতা ও অতীত অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে মা ইলিশ রক্ষা কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়। 

এ বছর ১৪ অক্টোবর থেকে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত ২২ দিন চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনাসহ দেশের উপকূলীয় ১৯টি জেলার নদ-নদীতে ইলিশসহ সব ধরনের মাছ শিকারে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়। এতে চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল থেকে হাইমচর উপজেলার চরভৈরবী পর্যন্ত ৭০ কিলোমিটার নদীতে মাছ ধরা নিষিদ্ধ ছিল। 

১৪ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া নিষেধাজ্ঞা ৪ অক্টোবর রাত ১২টায় শেষ হচ্ছে। নিষেধাজ্ঞার সময়ে নদীতে মাছ ধরতে না পারায় মানবেতর জীবন যাপন করেছেন অনেক জেলে। তবে অনেক অসাধু জেলে এবার নিষেধাজ্ঞা না মেনেই নদীতে মাছ শিকার করেছেন। এছাড়া তারা পুলিশের ওপরও হামলা করেছেন। সব মিলিয়ে এ বছর নদীতে এবার পর্যাপ্ত মাছ শিকার করা হয়। 

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

চাঁদপুরের হানারচর, পুরানবাজার ও বহরিয়া এলাকার জেলেরা জানান, নিষেধাজ্ঞার সময়ে মাছ ধরতে না পারায় পরিবার পরিজন নিয়ে বিপাকে পড়তে হয়েছে। সংসার খচর চালাতে গিয়ে বিভিন্ন এনজিও ও মহাজনের কাছ থেকে ঋণ নিতে হয়েছে। এখন নদীতে মাছ পেলে এই ঋণ শোধ করা যাবে, নয়তো দুঃখের শেষ থাকবে না। 

জেলেরা জানান, নিষেধাজ্ঞার সময়টাতে নিবন্ধিত জেলেদের সরকারিভাবে ২০ কেজি করে চাল দেয়া হয়েছে। কিন্তু এই পরিমাণে সাহায্য দিয়ে কোনোভাবেই তাদের সংসার চালানো সম্ভব নয়। বাধ্য হয়েই পেটের দায়ে অনেক জেলে নদীতে ইলিশ ধরতে নেমেছে। 

অভিযানের সঙ্গে জড়িত অসাধু কর্মকর্তাদেরকে ঘুষ দিয়েও অনেক অসাধু জেলে নদীতে ইলিশ ধরেছে। এভাবে অভিযানের সফলতা আসবে না। জেলেদের সহায়তা বৃদ্ধি করে আরো জোড়ালোভাবে কাজ করলে ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করেন তারা। 

জেলা মৎস্য অফিস সূত্র জানায়, এ বছর নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ ধরায় দায়ে চাঁদপুরে দুই শতাধিক জেলেকে বিভিন্ন মেয়াদে জেল-জরিমানা করাসহ প্রায় ৫ টন ইলিশ ও ৬৮২ লাখ মিটার কারেন্ট জাল উদ্ধার করেছে প্রশাসন। 

চাঁদপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আসাদুল বাকী বলেন, বিগত বছরের ন্যায় এবছরও চাঁদপুরে মা ইলিশ রক্ষা কার্যক্রম অত্যন্ত সফল হয়েছে। রাত-দিন নদীতে টহল দিয়ে মা ইলিশকে ডিম ছাড়ার সুযোগ করে দেয়ার চেষ্টা করেছি। এতে সফলও হয়েছি। এর পরেও কিছু অসাধু জেলে নদীতে নেমে ইলিশ শিকার করেছে। বিভিন্ন সময়ে অভিযান করে এসব জেলেদের আটক করে আইনের আওতায় নেয়া হয়েছে। 

এই কার্যক্রমকে সফল করতে জেলা প্রশাসন, পুলিশ বিভাগ, কোস্টগার্ড, জনপ্রতিনিধি ও সাংবাদিক বন্ধুরা অনেক কষ্ট করেছেন। তাছাড়া এ বছর প্রথমবারের মত র‌্যাব ও নৌবাহিনীর সদস্যরা হেলিকপ্টার দিয়ে আমাদের সহায়তা করেছেন। ফলে অভিযান আরো কার্যকর হয়েছে। 

চাঁদপুরে পদ্মা-মেঘনা নদীতে মাছ ধরার কাজে নিয়োজিত রয়েছেন প্রায় ৫২ হাজার জেলে। এ বছর নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়ে ৫০ হাজার জেলেকে ২০ কেজি করে চাল সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে