ভাই-ভাবি-ভাতিজাকে হত্যার গা শিউরে ওঠা বর্ণনা দিলো খুনি

ঢাকা, শনিবার   ২৮ নভেম্বর ২০২০,   অগ্রহায়ণ ১৪ ১৪২৭,   ১১ রবিউস সানি ১৪৪২

ভাই-ভাবি-ভাতিজাকে হত্যার গা শিউরে ওঠা বর্ণনা দিলো খুনি

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২০:৩৬ ৩১ অক্টোবর ২০২০   আপডেট: ১৭:৩০ ১ নভেম্বর ২০২০

নিহত আসাদ মিয়া, তার স্ত্রী পারভিন আক্তার ও ছেলে লিয়ন (ইনসেটে) ডানে  খুনি দীন ইসলাম

নিহত আসাদ মিয়া, তার স্ত্রী পারভিন আক্তার ও ছেলে লিয়ন (ইনসেটে) ডানে খুনি দীন ইসলাম

বুধবার রাত তখন ১০টা। রান্নার কাজে ব্যস্ত পারভিন আক্তার। এ সুযোগে ঘরে ঢুকেন দীন ইসলাম। একপর্যায়ে পেছন থেকে পারভিনের মাথায় শাবল দিয়ে আঘাত করেন তিনি। আর এ দৃশ্য দেখে ফেলে ভাতিজা লিয়ন। পরে তাকেও ছাড়েনি দীন ইসলাম। আঘাত করা হয় লিয়নকেও। এভাবে ভাবি ও ভাতিজাকে হত্যা করেন তিনি।

দুজনকে হত্যা করেও ক্ষান্ত হননি দীন ইসলাম। অপেক্ষা করতে থাকেন বড় ভাই আসাদের জন্য। রাত ১১টার দিকে আসাদ বাড়ি ফেরেন। এ সময় তাকেও শাবল দিয়ে মাথায় আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করেন। পরে বাড়ির পাশে মাটি খুঁড়ে ভাই, ভাবি ও ভাতিজার লাশ মাটিচাপা দেন। এসব করতে গিয়ে ভোর হয়ে যায়। এভাবেই পুলিশের কাছে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার যামষাইট গ্রামে ভাই, ভাবি ও ভাতিজাকে হত্যার বর্ণনা দেন দীন ইসলাম।

আরো পড়ুন: এক গর্তেই চাপা দেয়া হয় বাবা-মা-ছেলের লাশ

শনিবার বিকেলে কিশোরগঞ্জের ৫ নম্বর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন তিনি। দীন ইসলামের জবানবন্দি রেকর্ড করেন বিচারক সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আবদুন নূর।

একই আদালতে গ্রেফতার অপর তিন আসামির ১০ দিনের রিমান্ড চেয়েছে পুলিশ। আগামীকাল রোববার আদালতে তাদের রিমান্ড শুনানি হবে।

পুলিশ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে তাদের কাছে হত্যার দায় স্বীকার করে যেভাবে পুরো ঘটনার বর্ণনা দিয়েছে দীন ইসলাম, তারা মনে করছে বিচারকের সামনেও একই কথা বলেছে।

শুক্রবার সন্ধ্যায় কটিয়াদী থানায় দীন ইসলামসহ নয়জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন নিহত আসাদের বড় ছেলে তোফাজ্জল। তবে বৃহস্পতিবার রাতেই দীন ইসলাম, মা জুমেলা, বোন নাজমা ও ভাগ্নে আল-আমিনকে আটক করে পুলিশ। মামলার পর তাদের গ্রেফতার দেখানো হয়।

আরো পড়ুন: স্বামীর মানিব্যাগে প্রেমিকার ছবি, প্রতিবাদ করায় স্ত্রীকে হত্যা

কিশোরগঞ্জের এসপি মাশরুকুর রহমান খালেদ বলেন, আসাদের ছোট ভাই দীন ইসলাম অন্য আত্মীয়দের সহায়তায় একাই শাবল দিয়ে পিটিয়ে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। এ ঘটনায় অন্য কারা জড়িত তা বের করতে তিন আসামির রিমান্ড চাওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাতে কটিয়াদী উপজেলার বনগ্রাম ইউপির জামষাইট গ্রামে বসতঘরের পাশ থেকে আসাদুজ্জামান খান, তার স্ত্রী পারভীন আক্তার ও তাদের ছেলে লিয়নের মাটিচাপা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর