মাদক মামলায় কারাগারে ওসি কামরুল

ঢাকা, বুধবার   ২৫ নভেম্বর ২০২০,   অগ্রহায়ণ ১১ ১৪২৭,   ০৮ রবিউস সানি ১৪৪২

মাদক মামলায় কারাগারে ওসি কামরুল

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২০:২৪ ৩০ অক্টোবর ২০২০   আপডেট: ২০:২৫ ৩০ অক্টোবর ২০২০

নারায়ণগঞ্জ সদর থানার সাবেক ওসি কামরুল ইসলাম

নারায়ণগঞ্জ সদর থানার সাবেক ওসি কামরুল ইসলাম

নারায়ণগঞ্জ বন্দরে ৪৯ হাজার ইয়াবা উদ্ধারের মামলায় সদর মডেল থানার সাবেক ওসি মো. কামরুল ইসলামকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এক সপ্তাহ ধরে জেলা কারাগারে বন্দি আছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারের জেল সুপার মো. মাহবুবুল আলম। তিনি জানান, ২২ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন কামরুল ইসলাম। পরে বিচারক জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। সেই থেকে নারায়ণগঞ্জ কারাগারে আছেন ওসি কামরুল।

জানা গেছে, ২০১৮ সালের ৭ মার্চ নারায়ণগঞ্জ বন্দর থানার রূপালি আবাসিক এলাকা থেকে সদর মডেল থানার এএসআই আলম সরোয়ার্দি ও মাদকবহনকারী সাবিনা আক্তার রুনুকে ৪৯ হাজার ইয়াবা ও ৫ লাখ টাকাসহ গ্রেফতার করে ডিবি পুলিশ। এরপর তাদের বিরুদ্ধে বন্দর থানায় মামলায়।

ওই ঘটনায় আদালতে দেয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এএসআই আলম সরোয়ার্দি বলেন, রুনু ও আব্দুর রহমানকে ইয়াবাসহ আটকের পর ওসি কামরুল ইসলামকে আমি ফোন করি। উনি আমাকে নিরাপদ স্থানে যেতে বলেন। এরপর ঘাটের কাছেই বাসা হওয়ায় আমি আসামিসহ আমার বাসায় চলে যাই। পরে ওসি ৪৯ হাজার ইয়াবা ও ৫ লাখ টাকা রেখে আটক রুনুকে এসআই মোর্শেদের কাছে দিতে বলেন। রুনুকে নিয়ে এসআই মোর্শেদ বাসার নিচে যাওয়ার পর ওসি আমাকে ফোন করে আব্দুর রহমানকে ছেড়ে দিতে বলেন। এরপর আমি তাকে ছেড়ে দিয়ে ওসির নির্দেশ মতো ৫ হাজার ইয়াবা নিয়ে রাস্তা থেকে জনি নামে একজনকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসি। রাতে ডিবি পুলিশ অভিযান চালিয়ে ইয়াবা ও টাকা উদ্ধার করে।

মাদকগুলো থানায় না এনে বাসায় নেয়ার কারণ জিজ্ঞাসা করলে সরোয়ার্দি বলেন, ওসি কামরুল আমাকে আসামিসহ মাদকগুলো বাসায় রাখতে বলেছেন।

কনস্টেবল মো. আসাদুজ্জামান জবানবন্দিতে বলেন, সরোয়ার্দির বাসায় গিয়ে রুনু ও আব্দুর রহমানকে দেখতে পাই। সে দুইজনকে ইয়াবাসহ ধরেছে।

সুই পুলিশ সদস্যের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে ওসি কামরুলের নাম আসার পরেও তাকে বাদ দিয়ে আগস্ট মাসে ১২ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির এডিশনাল এসপি নাজিমউদ্দিন আল আজাদ।

জানা গেছে, চার্জশিটভুক্ত আসামি কনস্টেবল আসাদুজ্জামানের জামিন আবেদন পর্যালোচনায় বিষয়টি হাইকোর্টের দৃষ্টিতে আসে। এরপরই তদন্ত কর্মকর্তাকে তলব এবং ব্যাখ্যা চাওয়া হয়। হাইকোর্টে দেয়া ব্যাখ্যায় তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, দুইজনের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি ছাড়া পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ না পাওয়ায় ওসিকে আসামি করা হয়নি।

এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী ও এস এম শাহজাহান বলেন, তদন্ত কর্মকর্তার প্রধান কাজ মামলার তথ্য ও সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করা। তার মামলার তথ্য ও সাক্ষ্য-প্রমাণের বিশ্বাসযোগ্যতার প্রশ্নে সিদ্ধান্ত দেয়ার কোনো ক্ষমতা নেই। তদন্ত কর্মকর্তা ওসিকে আসামি না করার যে ব্যাখ্যা দিয়েছেন তা আইনত সঠিক নয়।

ওই মামলায় ওসি কামরুলের নাম আসায় আদালতের নির্দেশে গত বছরের ৪ মার্চ সদর থানা থেকে তাকে প্রত্যাহার করে নেয়া হয়। পরে তাকে মামলার চার্জশিট থেকে অব্যাহতি দেয়া হলে ২ এপ্রিল আবারো সদর থানায় বহাল করা হয়। তিনি পরে ডিবি পুলিশ ও অন্যত্র বদলি হন। এরপর ওসি কামরুলকে সম্পূরক চার্জশিটভুক্ত করে সিআইডি।

নারায়ণগঞ্জ এডিশনাল এসপি শফিউল ইসলাম জানান, নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার সাবেক ওসি কামরুল ইসলাম ২২ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জের একটি আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করলে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়। ১ নভেম্বর ওসি কামরুলের জামিন শুনানি হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এআর