মাগুরায় ৬ মণ কয়েন নিয়ে বিপাকে পড়া খবির এখন লাখপতি

ঢাকা, বুধবার   ০২ ডিসেম্বর ২০২০,   অগ্রহায়ণ ১৮ ১৪২৭,   ১৫ রবিউস সানি ১৪৪২

মাগুরায় ৬ মণ কয়েন নিয়ে বিপাকে পড়া খবির এখন লাখপতি

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৩:৪৪ ৩০ অক্টোবর ২০২০  

মাগুরার মুহম্মদপুরে কয়েন জমিয়ে বিপাকে পড়া ক্ষুদ্র সবজি ব্যবসায়ী খবির এখন লাখপতি - ডেইলি বাংলাদেশ

মাগুরার মুহম্মদপুরে কয়েন জমিয়ে বিপাকে পড়া ক্ষুদ্র সবজি ব্যবসায়ী খবির এখন লাখপতি - ডেইলি বাংলাদেশ

মাগুরার মুহম্মদপুরে কয়েন জমিয়ে বিপাকে পড়া ক্ষুদ্র সবজি ব্যবসায়ী খবির এখন লাখপতি। গলার কাঁটা হয়ে ওঠা সেই কয়েনই হলো তার গলার মালা। বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রচারের পর ঢাকার ব্যবসায়ী মিকা ফার্মা কেয়ার লিমিটেডের কর্ণধার নিয়ামুল কবির টিপু সেই ছয় মণ ওজনের ৬০ হাজার টাকার ধাতব মুদ্রার (কয়েন) বিনিময়ে তাকে এক লাখ টাকা প্রদান করেছেন। 

গত বুধবার দুপুরে মুহম্মদপুর উপজেলা সদরের জাঙ্গালিয়া গ্রামে খবিরের বাড়িতে উপস্থিত হয়ে জমানো কয়েনের বিনিময়ে এই টাকা তুলে দেন তিনি। 

মুহম্মদপুর উপজেলা সদরের জাঙ্গালিয়া গ্রামে খবিরের বাড়িতে উপস্থিত হয়ে টাকা তুলে দেন মিকা ফার্মা কেয়ার লিমিটেডের কর্ণধার নিয়ামুল কবির টিপু - ডেইলি বাংলাদেশ

খুদ্র সবজি বিক্রেতা খবির জানান, গত ১০ বছরে ক্রেতাদের কাছ থেকে নেয়া ১-২ টাকার অসংখ্য কয়েন জমে যায় তার কাছে। যার মোট মূল্য ৬০ হাজার টাকা। ক্রেতাদের কাছ থেকে খুচরা সবজি বিক্রির সময় মুদ্রাগুলো তিনি নিলেও তার কাছ থেকে কেউ নিচ্ছিল না। ফলে বিভিন্ন অংকের এই ৬ মণ ওজনের ৬০ হাজার টাকা মূল্যের মুদ্রাগুলো নিয়ে বিপাকে পড়েন তিনি। সবজির মূল্য হিসেবে এসব মুদ্রা নিলেও এক প্রকার অচল হয়ে জমে যাবে তা বুঝতে পারেননি তিনি। 

বিষয়টি গণমাধ্যমকর্মীদের মাধম্যে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রচারের পর দেশব্যাপী বিষয়টি আলোচিত হলে সোনালি ব্যাংক  মুহম্মদপুর শাখা পর্যায়ক্রমে কয়েনগুলো জমা নেবেন বলে সামান্য কিছু কয়েন জমা নেন। এরই মাঝে একটি বেসরকারি টেলিভিশনে প্রচারিত সংবাদের সূত্র ধরে ঢাকার ব্যাবসায়ী নিয়ামুল কবির টিপু এগুলোর বিনিময়ে খবিরকে এক লাখ টাকা প্রদান করে পাশে দাঁড়ান।

ব্যবসার পুঁজির তিনের দুই ভাগই এই কয়েনের মধ্যে আটকে ছিল - ডেইলি বাংলাদেশ

খবিরের স্ত্রী জানান, ব্যবসার পুঁজির তিনের দুই ভাগই এই কয়েনের মধ্যে আটকে ছিল। দুই ছেলে-মেয়ে স্বামীসহ চার সদস্যের পরিবার নিয়ে যে কষ্টে ছিলাম এই টাকা প্রাপ্তির বিনিময়ে তা অনেকটা লাঘব হবে।

স্থানীয় সাংবাদিক আনোয়ার হোসেন শাহিন জানান, ঢাকার নিয়ামুল কবির টিপু নামে এক ব্যাবসায়ী খবিরের বাড়িতে এসে এই কয়েনের বিনিময়ে এক লাখ টাকা প্রদান করেছেন তাকে। ব্যবসার পুঁজি আটকে বিপাকে পড়া দরিদ্র খবির এতে উপকৃত হয়েছেন।

এ সময় মুহম্মদপুরের ইউএনও রামানন্দ পাল, স্থানীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি বিপ্লব রেজা বিকো, সাধারণ সম্পাদক মাহামুদুন নবীসহ স্থানীয়রা উপস্থিত ছিলেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/টিআরএইচ