একটি ঘর চান প্রতিবন্ধী রতন

ঢাকা, বুধবার   ০২ ডিসেম্বর ২০২০,   অগ্রহায়ণ ১৮ ১৪২৭,   ১৫ রবিউস সানি ১৪৪২

একটি ঘর চান প্রতিবন্ধী রতন

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ০৪:৫৮ ৩০ অক্টোবর ২০২০  

প্রতিবন্ধী রতন মিয়া

প্রতিবন্ধী রতন মিয়া

প্রায় ১৮ বছর আগের কথা। এক সড়ক দুর্ঘটনায় মারাত্মক আহত হন কালিহাতী উপজেলার সোমজানি পশ্চিমপাড়া গ্রামের রতন মিয়া। দীর্ঘদিন চিকিৎসা করেও স্বাভাবিক জীবন ফিরে পাননি
তিনি।

পুরো শরীর প্যারালাইজড হয়ে যায়। চিকিৎসা করতে গিয়ে সঞ্চিত অর্থসহ মোটা অঙ্কের টাকা
খরচ হয়ে যায়। ছোট একটি মনোহারি দোকান করে তার কোনো রকম সংসার চলে। তার স্ত্রীও তাকে সেলাই কাজ করে সহযোগিতা করেন।

রতন মিয়া জানান, বাড়িতে একটি মাত্র ঘর। রতন মিয়া সেই ঘরেই বাস করেন স্ত্রী ও দুই ছেলে সন্তান
নিয়ে। এক ঘরে সবাইকে নিয়ে বসবাস করা কঠিন হয়ে পড়েছে রতন মিয়ার। এখন তার দরকার একটি ঘর। কিন্তু ঘর নির্মাণের সামর্থ্য তার নেই। সরকারের আশ্রয়ন প্রকল্পের আওতায় তাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দেয়া হলে তিনি স্ত্রী-সন্তান নিয়ে নিশ্চিন্তে বসবাস করতে পারবেন।

রতন মিয়ার দুই ছেলেই লেখাপড়া করছে। বড় ছেলে রাকিবুল হাসান সরকারি সা’দত কলেজে ম্যানেজমেন্ট বিভাগে মাস্টার্সের ছাত্র। সে টাঙ্গাইল শহরে থেকে প্রাইভেট পড়িয়ে লেখাপড়ার খরচ জোগার করেন। ছোট ছেলে তানভীর ইসলাম কালিহাতীর একটি কলেজে দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র। তার লেখাপড়া এবং সংসার খরচ নিয়ে বেকায়দায় পড়েছেন রতন মিয়া। বাড়িতেই ছোট মুদির দোকান চালান তিনি। তার আয় দিয়ে সংসার চলাতে হিমসিম খান। 

এদিকে বড় ছেলে বাড়ি এলে থাকা নিয়ে ভীষণ ঝামেলায় পড়তে হয় তাদের। একটি ঘরে চারজনের থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে। এজন্য বড় ছেলে রাকিবুল হাসান বেশি বাড়িতে আসতে পারেন না বলে তিনি জানান।

রাকিবুল হাসান বলেন, এটা খুবই কষ্টের। রাতে থাকার ব্যবস্থা না থাকায় অসুস্থ বাবার কাছে গিয়ে
বেশিদিন থাকতে পারি না। বাবার শরীর খুব খারাপ। এখন তার যত্ন দরকার। প্রধানমন্ত্রী গরিব-অসহায় মানুষদের জন্য আশ্রয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে ঘর নির্মাণ করে দিচ্ছেন। এই ঘর পেলে আমার অসুস্থ বাবাকে নিয়ে ভালোভাবে বসবাস করতে পারতাম।

রতন মিয়া বলেন, আগে কাপড়ের ব্যবসা করে মোটামুটি সংসার চলতো। সড়ক দুর্ঘটনায় অসুস্থ
হওয়ার পর চিকিৎসায় জমানো টাকা খরচও হয়েছে। এছাড়া ধারও করতে হয়েছে। সহায় সম্ভল শেষ হওয়ার পর আমি পরিপূর্ণ সুস্থ হতে পারিনি। ছোট্ট একটা দোকান করে কোনো রকম সংসার চলে। আশ্রয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে একটি ঘর পেলে আমার জন্য অনেক উপকার হতো। 

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএম