লালমনিরহাটে যুবককে পিটিয়ে হত্যার পর আগুনে পোড়ানো হলো লাশ

ঢাকা, শুক্রবার   ২৭ নভেম্বর ২০২০,   অগ্রহায়ণ ১৩ ১৪২৭,   ১০ রবিউস সানি ১৪৪২

লালমনিরহাটে যুবককে পিটিয়ে হত্যার পর আগুনে পোড়ানো হলো লাশ

লালমনিরহাট প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২৩:১৮ ২৯ অক্টোবর ২০২০   আপডেট: ০০:২৯ ৩০ অক্টোবর ২০২০

লালমনিরহাটে যুবককে পিটিয়ে হত্যার পর আগুনে পোড়ানো হলো লাশ

লালমনিরহাটে যুবককে পিটিয়ে হত্যার পর আগুনে পোড়ানো হলো লাশ

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলায় এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার পর লাশ আগুনে পোড়ানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। 

বৃহস্পতিবার মাগরিবের নামাজের আগে বুড়িমারী ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে ঘটে এ ঘটনা। এরপর লাশ নিয়ে বুড়িমারী প্রথম বাঁশকল এলাকায় জয় ট্রেডার্সের সামনে লালমনিরহাট-বুড়িমারী জাতীয় মহাসড়কের ওপর কাঠখড়ি ও পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে পুড়িয়ে দেয় বিক্ষুব্ধ জনতা।

পাটগ্রাম থানার ওসি সুমন কুমার মোহন্ত ও বুড়িমারী ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য হাফিজুল ইসলাম এসব তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

ইউপি সদস্য হাফিজুল ইসলাম মোবাইলে ঘটনার বর্ণনা দিয়ে জানান, আসরের নামাজ শেষে বুড়িমারী কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে দুইজন অজ্ঞাত ব্যক্তি আসেন। মসজিদের খাদেম জুবেদ আলীকে সঙ্গে নিয়ে তাদের একজন মসজিদে প্রবেশ করে কোরআন-হাদিসের বই রাখার তাকে অস্ত্র আছে বলে তল্লাশি শুরু করেন।

একপর্যায়ে মসজিদের সামনে থাকা ৫-৬ জন মুসল্লি মসজিদের প্রবেশ করে ওই ব্যক্তিকে এবং বারান্দায় থাকা অপর ব্যক্তিকে মারধর করেন। খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই দুই ব্যক্তিকে বুড়িমারী ইউনিয়ন পরিষদের একটি কক্ষের ভেতরে ঢুকে তালা লাগিয়ে রক্ষার চেষ্টা করি। তবে মুহূর্তে শত শত লোকজন জড়ো হতে থাকে। আমি ও স্থানীয় রফিকুল ইসলাম প্রধান নামে এক ব্যক্তি পাটগ্রাম থানার ওসি সুমন কুমার মোহন্ত, ইউএনও কামরুন নাহার, উপজেলা চেয়ারম্যান রুহুল আমীন বাবুল ও বুড়িমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এসএম নেওয়াজ নিশাতকে ফোন করে ঘটনাস্থলে আসতে বলি।

আরো পড়ুন: সন্তানকে হত্যা করে মা বললেন ‘ও খাটের নিচে ঘুমাচ্ছে’

এরই মধ্যে উত্তেজিত জনতা কারো কথা না শুনে পরিষদের দরজা-জানালা ভেঙে এক ব্যক্তিকে বাইরে বের করে পিটিয়ে হত্যা করে। পরে লাশ নিয়ে লালমনিরহাট-বুড়িমারী জাতীয় মহাসড়কের বুড়িমারী প্রথম বাঁশকল এলাকায় কাঠখড়ি ও পেট্রোল দিয়ে আগুন ধরিয়ে পুড়িয়ে দেয়। সেখানে ৫-৬ হাজার উত্তেজিত মানুষ ছিল, কারো কোনো নিয়ন্ত্রণ ছিল না।

তিনি আরো জানান, আমরা লোকজনের সঙ্গে কথা বলার সময় পাইনি। তাই পরিচয় নেয়া সম্ভব হয়নি। 

বুড়িমারী কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের মুয়াজ্জিন আফিজ উদ্দিন বলেন, আমি আসরের নামাজ শেষ করে বাইরে বের হয়ে যাওয়ার সময় দেখতে পাই খাদেম জুবেদ আলীকে দুইজন অপরিচিত ব্যক্তি সালাম দিয়ে হ্যান্ডশেক করে কথা বলছিলো। এরপর তারা মসজিদের ভেতরে ঢুকে যায়। আমিও চলে যাই। পরে ঘটনার কথা এসে শুনেছি। কিন্তু বিস্তারিত কিছু জানি না। 

ওই মসজিদের খাদেম জুবেদ আলী জানান, ওই দুই ব্যক্তি আমাকে জানান যে, কোরআন শরিফ ও হাদিস রাখার তাকে নাকি অস্ত্র আছে। এ কথা বলে তাদের একজন খোঁজা শুরু করেন। একপর্যায়ে সবকিছু তছনছ করেন। এ সময় মসজিদের বাইরে অবস্থানরত হোসেন আলী নামে এক মুসল্লিসহ ৫-৬ জন মুসল্লি মসজিদে প্রবেশ করে দুইজনকে আটক করে বাইরে নিয়ে আসেন। মসজিদের বারান্দার সিঁড়িতে প্রথম দফায় তাদের মারধর করা হয়। পরে হাফিজুল ইসলাম মেম্বার এসে তাদের নিয়ে যায়। এরপর কী হয়েছে আমি জানি না। 

অ্যাডিশনাল এসপি রবিউল ইসলাম ঘটনাস্থলে পৌঁছে জানান, দুইজনের মধ্যে একজন পুলিশ হেফাজতে আছেন। অপরজনকে পিটিয়ে মারার পর আগুনে পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে বলে শুনেছি। বিস্তারিত কিছু আর বলতে পারছি না।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে লালমনিরহাটের ডিসি আবু জাফর বলেন, সেখান সার্বিক পরিস্থিতি এখনই বলার মতো নয়। শুনেছি ইউনিয়ন পরিষদসহ বিভিন্ন জায়গায় অগ্নিসংযোগ করা হচ্ছে। একজনকে মেরে আগুনে পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে। এসব সার্বিক বিষয়ে সরেজমিন জানা ও পরিস্থিতি বোঝার জন্য ঘটনাস্থলের পথে রয়েছি।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএম