ভূমি অধিগ্রহণের টাকা ছাড় না হওয়ায় ধীর গতিতে চলছে কাজ

ঢাকা, মঙ্গলবার   ০১ ডিসেম্বর ২০২০,   অগ্রহায়ণ ১৭ ১৪২৭,   ১৪ রবিউস সানি ১৪৪২

ভূমি অধিগ্রহণের টাকা ছাড় না হওয়ায় ধীর গতিতে চলছে কাজ

জামালপুর প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২১:১০ ২৮ অক্টোবর ২০২০  

রেলওভারপাস

রেলওভারপাস

ভূমি অধিগ্রহণের টাকা ছাড় না হওয়ায় ধীর গতিতে চলছে জামালপুর শহরের রেলওভারপাস নির্মাণকাজ। এতে ভোগান্তিতে পড়েছে শহরবাসী। করোনার কারণে প্রকল্পটি নিম্ন অগ্রাধিকারভুক্ত হওয়ায় টাকা ছাড় পেতে বিলম্ব হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

রেলক্রসিংয়ের দক্ষিণে মধুপুর রোডে জাহিদা সফির মহিলা কলেজ পর্যন্ত রেলওভারপাসের চারটি পিলার নির্মাণ করা হয়েছে। সেখানে চলছে গার্ডার নির্মাণের কাজ। তবে রেল ক্রসিংয়ের উত্তরে স্টেশন রোডে এখনো পিলার ও গার্ডার নির্মাণ করা হয়নি।

রেলওভারপাস প্রকল্পের কাজ চলায় শহরের লম্বাগাছা থেকে জাহিদা সফির মহিলা কলেজ গেট পর্যন্ত সড়কের বেহাল অবস্থা দেখা গেছে। যত্রতত্র নির্মাণ সামগ্রী পড়ে থাকায় যানবাহন চলাচল ও পথচারীদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।

শহরের প্রধান সড়কের স্টেশন রোড ও মধুপুর রোডে রেলক্রসিং রয়েছে ফুলবাড়িয়া এলাকায়। রেলক্রসিং এলাকাটি স্থানীয়দের কাছে গেটপাড় এলাকা নামে পরিচিত। জামালপুর স্টেশন থেকে দেওয়ানগঞ্জ স্টেশন এবং সরিষাবাড়ি রুটে ট্রেন চলাচলের কারণে দিনের বেশিরভাগ সময় রেলক্রসিং এলাকায় যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানবাহনের জটলার মধ্যে আটকে থাকা লাগে যাত্রীদের। সময়ের অপচয় ছাড়াও মাঝে মধ্যে দুর্ঘটনা ঘটে।

‘যানজটমুক্ত শহর চাই’ শহরবাসীর এ দাবির প্রেক্ষিতে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং সাবেক বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজমের প্রচেষ্টায় গেটপাড় এলাকায় ৭৮০ মিটার রেলওভারপাস নির্মাণের একটি প্রকল্প নেয়া হয়।

ভূমি অধিগ্রহণ ও রেলওভারপাস নির্মাণে ব্যয় ধরা হয় ৩৪৪ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। এরমধ্যে শুধুমাত্র ভূমি অধিগ্রহণের জন্য ২৯১ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। রেলওভারপাস নির্মাণের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে বাকি ৫৩ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। ২০১৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারিতে তমা কনস্ট্রাকশন, মেসার্স জামিল ইসলাম ও মেসার্স মইন উদ্দিন বাঁশি যৌথভাবে কাজটি শুরু করে। চলতি বছরের জুনে কাজটি শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ২০২১ সাল পর্যন্ত সময় বাড়ানো হয়েছে।

পরিবেশ আন্দোলনের সভাপতি জাহাঙ্গীর সেলিম বলেন, শহরের রেলগেট এলাকায় একটি রেলওভারপাস নির্মাণের জন্য আমরা দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়েছিলাম। আমাদের সেই দাবি পূরণ হতে চলেছে। কিন্তু নির্মাণকাজ সময়মতো শেষ না হওয়ায় শহরবাসীকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি জামালপুর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মতিয়র রহমান বলেন, লম্বাগাছা থেকে গেটপাড় পর্যন্ত প্রায় এক হাজার ব্যবসায়ী রয়েছেন। রেলওভারপাস নির্মাণ কাজের জন্য আমাদের ব্যবসা প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের তত্ত্বাবধায়ক মো. রবিউল আলম বলেন, কাজে আমাদের কোনো গাফিলতি নেই। সড়ক ও জনপদ বিভাগ এখনো কাজের জায়গা বুঝিয়ে দিতে পারেনি। এরপরও যেখানে জায়গা ছিল, সেখানে কাজ করা হচ্ছে। ফলে পুরোদমে কাজ করা যাচ্ছে না। ফলে এ কাজে লোকসান গুনতে হচ্ছে। আমরা চাই দ্রুত কাজ শেষ করতে।

সড়ক ও জনপদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের জায়গার জন্য তিনটি এলএ কেসের মাধ্যমে ভূমি অধিগ্রহণের কার্যক্রম শুরু করা হয়। প্রথম ও দ্বিতীয় এলএ কেসের টাকা ভূমির মালিকদের বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। তৃতীয় এলএ কেসের ২৩ কোটি ৭৩ লাখ টাকা ছাড় দেয়া হয়নি। বাকি সব টাকা এরইমধ্যে ছাড় দেয়া হয়েছে। রেল ক্রসিংয়ের উত্তর পাশে স্টেশন রোডের পূর্ব পাশের দোকানপাট রয়েছে। তাদের অধিগ্রহণের টাকা দিতে না পারায় জায়গা খালি করা সম্ভব হচ্ছে না। করোনার কারণে প্রকল্পটি নিম্ন অগ্রাধিকারভুক্ত হওয়ায় টাকা ছাড় দেয়া হয়নি। ভূমি অধিগ্রহণের টাকা ছাড় দেয়ার জন্য একটি প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। শিগগিরই টাকা ছাড় পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন সওজ’র নির্বাহী প্রকৌশলী।

সওজ’র নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ভূমি অধিগ্রহণের টাকা ছাড় ছিল না নিম্ন অগ্রাধিকার প্রকল্পের ক্যাটাগরিতে থাকার কারণে। সেই সমস্যার সমাধান হয়ে গেছে। আমরা আশা করছি শিগগিরই টাকা ছাড় দিতে পারবো।

তিনি বলেন, জায়গা পেলে আরেকটা ডাইভারশন রোড করে দিয়ে আমরা মাঝখানে কাজ করতে পারবো। জায়গার জন্য আমরা সময়মতো কাজ করতে পারছি না। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান থেকে বলা হচ্ছে এ কাজে তাদের লোকসান গুনতে হচ্ছে। তারা উল্টো চাপ দিচ্ছে তাড়াতাড়ি কাজ শেষ করতে। অন্যথায় তারা ক্ষতিপূরণ দাবি করবে।

জামালপুরের ডিসি মোহাম্মদ এনামুল হক বলেন, সওজ কর্তৃপক্ষ টাকা ছাড় না দেয়ায় ভূমি অধিগ্রহণের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে আছে। সওজকে টাকা ছাড় দেয়ার জন্য চিঠি দেয়া হয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর