দুই মাস পর জখমে ভরা গৃহকর্মীর লাশ নিয়ে হাজির দম্পতি

ঢাকা, মঙ্গলবার   ০১ ডিসেম্বর ২০২০,   অগ্রহায়ণ ১৭ ১৪২৭,   ১৪ রবিউস সানি ১৪৪২

দুই মাস পর জখমে ভরা গৃহকর্মীর লাশ নিয়ে হাজির দম্পতি

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২০:১৫ ২৮ অক্টোবর ২০২০   আপডেট: ২০:২২ ২৮ অক্টোবর ২০২০

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

সাত বছর বয়সী শিশু মরিয়ম। অভাবের তাড়নায় মাত্র দুই মাস আগে ছোট্ট মরিয়মকে গৃহকর্মীর কাজের জন্য এক দম্পতির বাসায় দিয়েছিলেন তার বাবা-মা। দুই মাস পর বাবা-মায়ের কাছে ছোট্ট শিশুর লাশ নিয়ে হাজির হলো দম্পতি।

শিশুটির সারা শরীরে জখমে ভরা। নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

মরিয়ম কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার সাহেদল ইউপির বীর পাইকসা গ্রামের ভ্যানচালক সিরাজুল ইসলামের মেয়ে।

প্রতিবেশী নূর উদ্দিনের মেয়ে জান্নাতুল নাইম মরিয়মকে স্বামী এলাহী শুভর কুমিল্লার বাসায় নিয়ে যান। এলাহী শুভর বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। প্রাইভেট কোম্পানির চাকরি সূত্রে থাকেন কুমিল্লার দউদকান্দির বুল্লিরপারে।  

মঙ্গলবার রাতে প্রাইভেটকারে করে ওই দম্পতি মরিয়মের লাশ নিয়ে উপজেলার সিদলা ইউপির বীর পাইকশা গ্রামে মরিয়মদের বাড়িতে হাজির হন।  

ওই দম্পতি জানান, বাথরুম থেকে পড়ে গিয়ে মরিয়ম মারা গেছেন। তবে আবৃত কাপড় সরিয়ে মরিয়মের মা-বাবা ও স্বজনরা তার শরীরের স্থানে স্থানে অসংখ্য নিষ্ঠুর নির্যাতনের ক্ষত দেখে এলাকাবাসী পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ ওই দম্পতিকে আটক করে। ময়নাতদন্তের জন্য মরিয়মের মরদেহ কিশোরগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেছে।

জানা গেছে, বুধবার ভোরে ওই দম্পতি একটি পাইভেটকারে করে মরিয়মের লাশ গ্রামে নিয়ে আসে। মরদেহ কোনোমতে পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে তারা। মরদেহে অসংখ্য জখমের চিহ্ন দেখে পরিবারের লোকজনের চিৎকার ও কান্নায় স্থানীয়রা এগিয়ে আসে। এ সময় তারা ওই দম্পতিকে গাড়িসহ আটক করে পুলিশে খবর দেয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই দম্পতিকে পুলিশ হেফাজতে নেয়।

জখমে ভরা লাশ দেখে মরিয়মের মা কুলসুম বেগম অসুস্থ হয়ে শয্যাশায়ী হয়ে পড়েছেন। মেয়ের কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। 

তিনি বলেন, ‘বড়লোকের বাড়িত থাকলে একটু ভালা থাকব, এই আশায় ছিরিডারে দিছিলাম। আমার আদরের মরিয়মরে হেরা কী নির্যাতনই না করছে। আমার মেয়েরে যারা খুন করছে, হেরার বিচার চাই আমি।’ 

মরিয়মের বাবা সিরাজুল ইসলাম জানান, অনেক বলে কয়ে মরিয়মকে নিয়েছিল তারা। গ্রামের মেয়ে তাই সরল বিশ্বাসে তার হাতে তুলে দিয়েছিলাম আদরের সন্তানকে। শরীরের আঘাতের চিহ্ন দেখে মনে হয়েছে, তাকে প্রথম দিন থেকেই অত্যাচার করা হয়েছে। অসুস্থতার খবর পর্যন্ত আমাদের দেয়া হয়নি। ফোন করলে বলত আপনার মেয়ে ভালো আছে। কাল রাতে ফোন করে জানায়, মরিয়মের অবস্থা ভালো না। পরে জানায় মেয়ে মারা গেছে। আমি এদের বিচার চাই।

ওই দম্পতির ভাষ্য, বাথরুম থেকে পড়ে গিয়ে মরিয়ম মারা গেছে। তবে আবৃত কাপড় সরিয়ে মরিয়মের মা-বাবা ও স্বজনরা তার শরীরের স্থানে স্থানে অসংখ্য নিষ্ঠুর নির্যাতনের ক্ষত দেখে চমকে যান।

হোসেনপুর থানার ওসি (তদন্ত) নূর ইসলাম জানিয়েছেন, শিশুটির শরীরে অসংখ্য জখমের চিহ্ন রয়েছে। যা থেকে মৃত্যু হতে পারে শিশুটির। তবে তদন্ত না করে এ বিষয়ে বিস্তারিত বলা যাচ্ছে না। অভিযুক্ত দম্পতিকে আটক করা হয়েছে। যেহেতু ঘটনাটি ঘটেছে কুমিল্লার দাউদকান্দিতে। নিয়ম অনুযায়ী সেখানেই মামলাটি হবে।

এ ব্যাপারে পুলিশি কার্যক্রম চলছে। আর হত্যার কারণ জানতে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কিশোগরঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে