আশুগঞ্জ রেলস্টেশনে জনবল সংকট, সেবাবঞ্চিত যাত্রীরা
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার মানুষ বিভিন্ন স্থানে নিরাপদ ও আরামে যাতায়াতের জন্য বেছে নিয়েছে ট্রেনকে। যতই দিন যাচ্ছে মানুষ সড়ক পথের তুলনায় রেলপথে ভ্রমণের দিকে ঝুঁকে পড়ছে। ফলে আশুগঞ্জ রেলস্টেশনে প্রতিনিয়ত বাড়ছে যাত্রীর সংখ্যা। কিন্তু এ রেলস্টেশনে পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন যাত্রীরা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আশুগঞ্জ রেলস্টেশনে কমপক্ষে ১০ জন জনবল থাকার কথা। কিন্তু বর্তমানে স্টেশন মাস্টারসহ সর্বমোট জনবল ৪ জন। এ কারণে যাত্রীদের পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দেয়া যাচ্ছে না। বাড়ছে চুরি-ছিনতাই ও দুর্ঘটনার ঝুকি।
সরেজমিনে দেখা গেছেম আশুগঞ্জ রেলস্টেশন থেকে প্রয়োজনের তাগিদে প্রতিদিন হাজারো যাত্রী ঢাকা, সিলেট, চট্টগ্রাম ও নোয়াখালীতে যাতায়াত করেন। কিন্তু পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় তাদের পোহাতে হয় চরম দুর্ভোগ। ট্রেন আসা-যাওয়ার সময় ছাড়া স্টেশনে গেলে কোনো সেবা পাওয়া যায় না। কাউন্টারে থাকে না টিকেট বিক্রেতা, প্যাটফর্মের বিশ্রামাগার প্রায় সময়ই বন্ধ থাকে। এতে দূর-দূরান্ত থেকে আসা যাত্রীরা পড়েন বিপাকে।
.png)

মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেনে ঢাকায় যাওয়ার জন্য স্টেশনে অপেক্ষা করছেন বৃদ্ধা জাহানারা বেগম। তিনি বলেন, বয়সের কারণে বাসে ভ্রমণ করতে পারি না। ট্রেনে যাওয়াই ভালো হবে মনে করে স্টেশনে এসেছি। কিন্তু এখানে এসে অনেক ঝামেলা পোহাতে হয়েছে। তিনটি কাউন্টারের দুটিই বন্ধ, একটি কাউন্টারে দীর্ঘ লাইন ধরে টিকেট কাটতে হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, অনেক কষ্টে টিকেট পেয়েছি। এরপর বিশ্রামাগারে গিয়ে দেখি তালা ঝুলছে। তালা খুলে দিতে কয়েকবার বললেও স্টেশনের কেউ আসেনি। এখন ট্রেন আসা পর্যন্ত বাইরেই অপেক্ষা করতে হবে।
আশুগঞ্জ রেলস্টেশনের মাস্টার নূর-নবী জানান, যাত্রীদের অসুবিধার বিষয়টি আমরা বুঝি। প্রয়োজনীয় লোকবলের অভাবে আমাদেরও স্টেশনের কার্যক্রম চালাতে কষ্ট হয়। এসব বিষয় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। রেলে নতুন নিয়োগ হলেই আমরা পর্যাপ্ত জনবল পাবো। যাত্রীদেরও আর ভোগান্তি পোহাতে হবে না।