বিলীনের পথে শাহজাদপুরের ৭ গ্রাম 

ঢাকা, বুধবার   ০২ ডিসেম্বর ২০২০,   অগ্রহায়ণ ১৮ ১৪২৭,   ১৫ রবিউস সানি ১৪৪২

বিলীনের পথে শাহজাদপুরের ৭ গ্রাম 

শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৬:৫২ ২৮ অক্টোবর ২০২০   আপডেট: ১৬:৫৬ ২৮ অক্টোবর ২০২০

যমুনা নদীর ভয়াবহ ভাঙন ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

যমুনা নদীর ভয়াবহ ভাঙন ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

যমুনা নদীর ভয়াবহ ভাঙনে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার জালালপুর ও খুকনি ইউপির ৭টি গ্রাম বিলীন হওয়ার পথে। 

বন্যার পানি কমতে থাকায় যমুনা নদীর তীরবর্তী গ্রামগুলোতে গত কয়েকদিন ধরে ভয়াবহ ভাঙন শুরু হয়েছে। গ্রামগুলো হচ্ছে- উপজেলার খুকনি ইউপির ব্রাহ্মণগ্রাম, আরকান্দি, জালালপুর ইউপির জালালপুর, ঘাটাবাড়ি, পাকুরতলা, বাঐখোলা ও কুঠিরপাড়া।

এরই মধ্যেই এ সব গ্রামের ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ২ হাজার হতদরিদ্র মানুষ বাড়িঘর, ফসলি জমি হারিয়ে পথে বসেছে। 

বর্ষার শুরুতে ব্রাহ্মণগ্রাম ও আরকান্দি গ্রামে বালু ভর্তি জিওটেক্স বস্তা ফেলার কারণে ভাঙন কম হয়। তবে অন্য গ্রামগুলো নদী ভাঙনে ক্রমেই বিলীন হয়ে যাচ্ছে।

ভাঙনে এরই মধ্যে প্রায় ২ শতাধিক বাড়িঘর, ১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ২টি মসজিদ, ২টি ঈদগাহ মাঠ, ১২০টি তাঁত কারখানা, ৪০০ বিঘা আবাদী জমি, ২ কিলোমিটার কাঁচা সড়ক, ১টি কবরস্থান, ১টি শ্মশান ঘাট, ১টি মন্দির ও ৪ শতাধিক গাছপালা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

নদী ভাঙনে ক্রমেই বিলীন হয়ে যাচ্ছে শাহজাদপুরের জালালপুর ও খুকনি ইউপির ৭টি গ্রাম

জালালপুর গ্রামের বাসিন্দারা জানান, দ্রুত সময়ের মধ্যে এ ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে অচিরেই এ সব গ্রাম ও ঘরবাড়ি যমুনা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।  

জালালপুর ইউপির ১ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য মহির উদ্দিন বলেন, নদী ভাঙনে মানুষজন ঘরবাড়ি হারিয়ে পলিথিন টানিয়ে খোলা আকাশের নিচে বাস করছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নেয়ার আহবান জানান তিনি।

খুকনি ইউপি চেয়ারম্যান মুল্লুক চাঁদ ও জালালপুর ইউপি চেয়ারম্যান সুলতান মাহমুদ বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডকে বারবার বলা সত্বেও তারা সময় মত ব্যবস্থা না নেয়ায় ৭টি গ্রামের অধিকাংশ বাড়িঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। বাকি যে টুকু আছে তা রক্ষা করতে অবিলম্বে ভাঙনরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানান।

শাহজাদপুরের ইউএনও শাহ মো. শামসুজ্জোহা বলেন, কয়েকদিন আগে সরেজমিনে ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেছি। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডকে অবগত করেছি। আশা করি খুব অল্প সময়ের মধ্যে তারা ব্যবস্থা নিবেন।

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম বলেন, নদী ভাঙন রোধে ব্রাহ্মণগ্রাম থেকে হাটপাচিল পর্যন্ত প্রায় ৩ কিলোমিটার এলাকায় প্রায় সাড়ে ৬০০ কোটি টাকা ব্যয়ে স্থায়ী বাঁধ ও তীরসংরক্ষণ বাঁধ নির্মাণের প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। এটি বাস্তবায়ন হলে এ সমস্যা আর থাকবে না। করোনার কারণে এ প্রকল্পটি একনেকে পাশ হতে বিলম্ব হচ্ছে। প্রকল্পটি পাশ হলেই কাজ শুরু করা হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে