স্বজনপ্রীতিতে পকেটবন্দি পটুয়াখালী জাপা

ঢাকা, বুধবার   ০২ ডিসেম্বর ২০২০,   অগ্রহায়ণ ১৮ ১৪২৭,   ১৫ রবিউস সানি ১৪৪২

স্বজনপ্রীতিতে পকেটবন্দি পটুয়াখালী জাপা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৬:৩১ ২৮ অক্টোবর ২০২০  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

পটুয়াখালীতে সাবেক নেতাদের স্বজনপ্রীতিতে পকেটবন্দি হয়ে পড়েছে জাতীয় পার্টি। এতে দেখা দিয়েছে বিশৃঙ্খলা, ক্ষোভে দল ছাড়ছেন ত্যাগী নেতা-কর্মীরা। যোগ্য নেতৃত্ব না থাকায় মাঠে দেখা যাচ্ছে না তৃণমূল কর্মীদের। সাম্প্রতিক করোনা পরিস্থিতিতেও জেলার অসহায় মানুষ পায়নি জাতীয় পার্টিকে।

একাধিক নেতা-কর্মী জানান, বর্তমানে জেলা জাতীয় পার্টি অগোছালো হয়ে পড়েছে। এ নিয়ে জেলা কমিটি তো দূরের কথা, নীতি নির্ধারকদেরও কোনো ভূমিকা দেখা যায়নি। দলের শৃঙ্খলা নিয়ে তৃণমূল নেতা-কর্মীরাও ক্ষুব্ধ। স্বজনপ্রীতির কারণেই এমন দশা হয়েছে। ক্ষোভে দল ছাড়ছেন অনেকেই।

জানা গেছে, পটুয়াখালী জাতীয় পার্টির সভাপতি ছিলেন গোলাম মোস্তফা তালুকদার। ২০১৫ সালে তার মৃত্যুর পর দলের প্রতি অনেক নেতা-কর্মী আস্থা হারিয়ে ফেলেছেন। এছাড়া জেলা জাতীয় পার্টিকে ধরে রাখার মূল কারিগর ছিলেন এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার। তিনিও আজকাল দল ও নেতা-কর্মীদের সঙ্গে খুব একটা থাকছেন না। তাদের জন্যই বর্তমানে দলের বেহাল দশা- এ অভিযোগ অনেক নেতাকর্মীর।

আরো জানা গেছে, ২০১৮ সাল থেকে পটুয়াখালী জাতীয় পার্টির সভাপতির পদে আছেন রুহুল আমিন হাওলাদারের বড় ভাই সুলতান আহম্মেদ হাওলাদার। এর আগে সভাপতি ছিলেন কলাপাড়া উপজেলার বাসিন্দা আব্দুর রাজ্জাক খান। তার ছেলে মাসুম খান বর্তমান কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক।

নেতা-কর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বর্তমান সভাপতিকে অনুরোধ করে মিটিংয়ে আনতে হয়। সাবেক সভাপতি রাজ্জাক খানের বাড়ি কলাপাড়া উপজেলায়। তাকেও দলীয় কর্মকাণ্ডে সবসময় পাওয়া যেত না। বিষয়টি কেন্দ্রীয় কমিটিতে একাধিকবার জানিয়েও কোনো লাভ হয়নি। বর্তমান জেলা কমিটি সুলতান আহম্মেদ হাওলাদার ও মাসুম খানের পকেটবন্দি। তাদের স্বজনপ্রীতির কারণে যোগ্য নেতারা কমিটি থেকে বাদ পড়ছেন।

জেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক খায়রুল আলম মামুন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাকির মাহামুদ সেলিমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা দলের বর্তমান প্রেক্ষাপট নিয়ে কোনো কথা বলতে রাজি হননি।

পটুয়াখালী জাতীয় পার্টির সভাপতি সুলতান আহম্মেদ হাওলাদার বলেন, কেন্দ্রীয় কমিটির নির্দেশনা না থাকায় জেলায় দলের কার্যক্রম থেমে আছে। করোনা পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হলে দলীয় কার্যক্রম শুরু হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এআর