সড়কের অভাবে অকেজো সেতু 

ঢাকা, শুক্রবার   ২৭ নভেম্বর ২০২০,   অগ্রহায়ণ ১৩ ১৪২৭,   ১০ রবিউস সানি ১৪৪২

সড়কের অভাবে অকেজো সেতু 

কাজী মফিকুল ইসলাম, আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৫:০২ ২৮ অক্টোবর ২০২০  

ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার ধরখার ইউপির বনগজ গ্রামে একটি সেতু নির্মাণ করা হলেও সড়ক নির্মিত হয়নি। ফলে অকেজো অবস্থায় পড়ে আছে সেতুটি। ২২ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতুটির সুফল পাচ্ছেন না স্থানীয়রা।

জানা যায়, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে বনগজ পূর্বপাড়া থেকে পশ্চিমপাড়া সংযোগ সড়কের খালের উপর ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরের অর্থায়নে ২২ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয়ে ৩৩ ফুট দৈর্ঘ্য একটি সেতু নির্মাণ করা হয়। মেসার্স প্যারেন্টস ঠিকাদার নামে একটি প্রতিষ্ঠান এই সেতুর নির্মাণ কাজ করে। নির্মিত এই সেতুটি সংযোগ সড়ক না করেই টাকা তুলে নিয়েছেন ওই ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান এমন অভিযোগ স্থানীয়দের।

সেতু নির্মাণের পর সড়ক না থাকার ফলে স্কুল-কলেজ ও মাদরাসার শিক্ষার্থী, পথচারী কৃষকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার লোকজন প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে তাদের চলাচল করতে হচ্ছে। 

স্থানীয়রা বলেন, তিতাসের তীর ঘেষা বনগজ গ্রামটি। ওই গ্রামে এক হাজারের বেশি মানুষের বসবাস। এই গ্রামসহ আশপাশের মানুষের যাতায়তের সুবিধার চেয়ে বর্তমানে অসুবিধে হচ্ছে বেশি। সংযোগ সড়ক হবে কি না কিছুই বলতে পারছে না স্থানীয়রা। সড়ক ছাড়া সেতু তৈরি করায় প্রতিনিয়ত পথচারীদের দুর্ভোগ বাড়ছে। 

তারা বলেন, কালিতলা পশ্চিম কবরস্থান থেকে কাদির মিয়ার বাড়ি পযর্ন্ত একটি খাল ছিল। কালের বিবর্তনে এই খালের কোনো চিহ্ন খুঁজে পাওয়া না গেলে ও একটি সেতু থাকার কারণে বুঝা যায় এখানে খাল ছিল। কিন্তু সেতু নির্মাণের পর থেকে স্থানীয় প্রভাবশালীরা অবৈধভাবে খাল দখল করে বাড়িঘর নির্মাণ করার ফলে পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় বিদ্যালয় মাঠসহ আশপাশে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি সেতুর দুপাশে সড়কের জায়গা ও দখলে চলে যাচ্ছে। 

মো. আল-আমীন, জামাল মিয়া মো. ইসমাইলসহ একাধিক লোকজন জানান, সেতুটি নির্মাণের ফলে প্রথমে তারা  খুশি হয়ে ছিলেন। তারা ভেবেছিলেন সেতুটির সঙ্গে সঙ্গে এলাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি সড়কও নির্মাণ হবে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণে সেতুর দুই পাশে সংযোগ সড়ক দীর্ঘ ৬ বছরে ও নির্মাণ না করায় তাদের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে।  জনস্বার্থে সেতুটির দুই পাশে সংযোগ সড়কের মাটির কাজ জরুরি ভিত্তিতে করার দাবি জানান। 

কৃষক ফরিদ বলেন, সড়ক না থাকার কারণে ধান কাটার সময় অনেক দূর দিয়ে কষ্ট করে ধান বাড়িতে আনতে হয়। এ জন্য অতিরিক্ত টাকা খরচ হয়। 

বনগজ  গ্রামের শফিকুল ইসলাম ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, সেতু করছে ঠিকই কিন্তু সেতু দুপাশে কোনো সড়ক নেই। কবে মাটি ফেলে সড়ক  করবে কে জানে। সড়কই যদি  না হয় তাহলে এত টাকা খরচ করে এই সেতু করার কি দরকার। যা গ্রামের মানুষের কোনো উপকারে আসে না।

আখাউড়া  উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা তাপস চক্রবর্তী ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, আমি যোগদান করার আগে এই সেতুটি করা হয়। কি কারণে সেতুর সঙ্গে সড়ক করা হয়নি এ বিষয়টি জানা নেই।  তবে যেখানে সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছে, সেখানে একটি খাল ছিল। বর্তমানে সেতুসহ আশপাশের জায়গা স্থানীরা দখল করে নেয়ায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। সেতুর দু’পাশে সড়কের জায়গা উদ্ধারসহ একটি প্রকল্প তৈরি করতে ইউপি চেয়ারম্যানকে বলা হয়েছে।

ইউএনও মোহাম্মদ নূর-এ আলম বলেন, খালের উপর অবৈধভাবে ঘরবাড়ি নির্মাণ করার বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। সরকারি খাল যারা অবৈধভাবে দখল করছে তাদের তালিকা তৈরি করে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে। সরকারিভাবে খালটি খনন করে এর নাব্য ফিরিয়ে আনা হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ