নিহতের ছেলেকে ডেকে একসঙ্গে খোঁজাখুঁজি করে খুনিরা

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২৬ নভেম্বর ২০২০,   অগ্রহায়ণ ১২ ১৪২৭,   ০৯ রবিউস সানি ১৪৪২

নিহতের ছেলেকে ডেকে একসঙ্গে খোঁজাখুঁজি করে খুনিরা

ধামরাই প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১০:৩৫ ২৮ অক্টোবর ২০২০  

ছুরিকাঘাতে নিহত শুকুর আলী

ছুরিকাঘাতে নিহত শুকুর আলী

ঢাকার ধামরাইয়ের বাইশাকান্দা ইউপির কাছৈর গ্রামের কৃষক শুকুর আলী শনিবার রাতে খুন হন। মঙ্গলবার ওই হত্যাকাণ্ডের দুই আসামি- জাকারিয়া হোসেন হোসেন জাকির ও ফিরোজ হোসেন চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

আসামিদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে কৃষক শুকুর আলীর খুনের ঘটনা উদঘাটিত হয়েছে। 

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এস আই আবুল খায়ের মিয়া জানান, কৃষক শুকুর আলী জাকিরদের বাড়ির দক্ষিণের ১৬ শতাংশ জমি ক্রয় করা নিয়ে বিরোধ ও জাকিরদের বাড়ির কাছের পুকুরের পাশ দিয়ে জাল পেতে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।

অপরদিকে শুকুর আলীর স্ত্রী রেবেকার কাছ থেকে একই এলাকার হারুন মিয়ার ছেলে শাহিন (চিটার শাহিন হিসেবে পরিচিত) ৩৫ হাজার টাকা সুদে নিয়েছিল। এ টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে শুকুর আলীর স্ত্রী রেবেকাকে মারধর করেছিল শাহিন। এতে গ্রাম্য সালিশে ক্ষমা চাওয়া এবং সম্পূর্ণ টাকা পরিশোধ করতে হয় শাহিনকে। এসব ঘটনায় জেরেই শুকুর আলীকে মেরে ফেলার পরিকল্পনা করে জাকির ও চিটার শাহিন।

একই গ্রামের চকপাড়ার মীর হোসেনের ছেলে ফিরোজ, আফজাল হোসেনের ছেলে শাহিনুর ও তমেজ উদ্দিনের ছেলে মনোয়ার হোসেন মনুও এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। এরমধ্যে জাকির ও শাহিন শুকুর আলীর মাথায় ও মুখে কুপিয়ে হত্যা করে। এরপর মৃত্যু নিশ্চিত হলে শকুর আলীর মৃতদেহ প্রায় তিনশত গজ দূরে পানিতে ভাসিয়ে নিয়ে যায় শাহিনুর ও চিটার শাহিন। এসময় সড়কের দুই পাশে পাহারা দেয় ফিরোজ ও মনোয়ার।

শুকুর আলীকে হত্যার পর মনোয়ার তার মোবাইল ফোনে শুকুর আলীর ছেলে মোকলেছুর রহমানকে জানায়, ‘তোর বাবার গামছা ও জুতা পড়ে আছে’। খবর পেয়ে বাড়ির উত্তর পাশে প্রায় তিনশত গজ দুরে তার বাবার গামছা ও জুতা দেখতে পায় মোকলেছ। এরপর মোকলেছের সঙ্গে জাকির, ফিরোজ,মনোয়ার ও শাহিনুর মিলে খোঁজতে থাকে শুকুর আলীকে। ওই রাতে তাকে আর পাওয়া যায়নি। রোববার সকালে শুকুর আলীর লাশ বাড়ির উত্তর পাশে বিলের মধ্যে পানিতে ভাসমান অবস্থায় দেখতে পায় স্থানীয়রা।

এ ঘটনায় নিহত শুকুর আলীর ছেলে মোকলেছুর রহমান অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে মামলা করেন। রোববার সকালে হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে ঘটনাস্থল থেকেই জাকিরকে আটক করে ধামরাই থানার ওসি দীপক চন্দ্র সাহা।

ধামরাই থানার অফিসার ইনচার্জ দীপক চন্দ্র সাহা বলেন, আসামি জাকির ১৬৪ ধারায় ঢাকার মূখ্য বিচারিক হাকিম রাজিব হাসান আদালতে ও ফিরোজ হোসেন মূখ্য বিচারিক হাকিম আশরাফুল ইসলামের কাছে শুকুর হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। এছাড়া হত্যাকাণ্ডে জড়িত শাহিনুর ও মনোয়ার হোসেন মুনকে মঙ্গলবার রাতে গ্রেফতার করা হয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএস