আধুনিকতা ও নান্দনিকতার মিশেল ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ০৩ ডিসেম্বর ২০২০,   অগ্রহায়ণ ১৯ ১৪২৭,   ১৬ রবিউস সানি ১৪৪২

আধুনিকতা ও নান্দনিকতার মিশেল ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে

নাদিম হোসাইন, মুন্সিগঞ্জ ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২০:১৯ ২৭ অক্টোবর ২০২০   আপডেট: ২২:০৭ ২৭ অক্টোবর ২০২০

এক সময় ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের যাত্রীদের ভোগান্তির শেষ ছিল না। ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থাকতে হয়েছে। গরমের মধ্যে অনেক ভোগান্তির শিকার হয়েছেন যাত্রীরা। কিন্তু এখন আর সেই দুর্ভোগের চিত্র নেই। এ মহাসড়কটি বর্তমানে অকল্পনীয় এক নান্দনিক এক্সপ্রেসওয়েতে রূপ নিয়েছে। যাতায়াতে ফিরেছে স্বস্তি।

দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষ এখন সহজেই গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন। ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে মুন্সিগঞ্জের লৌহজং উপজেলার শিমুলিয়া থেকে মাত্র ২৭ মিনিটেই এখন ঢাকায় পৌঁছানো যাচ্ছে। এ এক্সপ্রেসওয়েতে রয়েছে নান্দনিকতার ছোঁয়া। এটি দেশের প্রথম এক্সপ্রেসওয়ে।

২০১৬ সালের মে মাসে পদ্মা নদীর দুই পাশে এ এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজ শুরু হয়। শুরুতে প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছিল ৬ হাজার কোটি টাকা। তবে শেষ পর্যন্ত এ সড়কটি নির্মাণে খরচ হয়েছে ১১ হাজার কোটি টাকা। চার বছরে নান্দনিক এ এক্সপ্রেসওয়ের কাজ শেষ হয়েছে।

সড়কে বিভিন্ন ধরনের গাছ লাগানো হয়েছে

৩৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এ এক্সপ্রেসওয়ে যানজট দূরীকরণের পাশাপাশি স্বস্তিতে ঢাকা থেকে মাওয়া ও মাওয়া থেকে ঢাকায় যাতায়াত সহজ করেছে। এতে মুন্সিগঞ্জবাসীর ঢাকা যেতে সময় লাগে ২৭ মিনিট।

চলতি বছরের ১২ মার্চ ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর মধ্য দিয়ে এক্সপ্রেসওয়ের যুগে প্রবেশ করে বাংলাদেশ।

মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার কুচিয়ামোড়া এলাকার ইমরান প্রতিদিন ঢাকায় যাওয়া-আসা করেন। তিনি বলেন, ব্যবসার কাজে প্রতিদিন ঢাকায় যেতে হয়। আগে যাতায়াতে অনেক কষ্ট ছিল। কিন্তু এক্সপ্রেসওয়ে হওয়ার পর সে কষ্ট লাঘব হয়েছে। এখন রাত ২টা বাজলেও আধা ঘণ্টার মধ্যে ঘরে ফিরছি।

এক পথচারী বলেন, এমন পরিবেশ দেখতে ভালোই লাগে। রাতে এ সৌন্দর্য আরো বাড়ে।

স্বস্তিতে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন যাত্রীরা

নিমতলী এলাকার সৌদি আরব প্রবাসী আবুল কালাম আজাদ বলেন, বাংলাদেশে এমন সড়ক হবে কখনো ভাবিনি। এ সড়কে নিয়মিত পুলিশি টহল থাকে। এখানে ছিনতাই হওয়ার আশঙ্কাও কম।

শ্রীনগর উপজেলার ছনবাড়ি এলাকার দোকানি আনোয়ার হোসেন বলেন, এক সময় প্রায় প্রতিদিন কোনো না কোনো দুর্ঘটনা ঘটতো। কিন্তু এখন আর তেমন দুর্ঘটনা ঘটে না। মানুষ এখন শান্তিতে যাতায়াত করছে।

৫৫ কিলোমিটার এ মহাসড়ক নির্মাণে পিসি গার্ডার ২০টি ও ১১টি আরসিসি সেতুসহ মোট ৩১টি সেতু রয়েছে। আর বড় সেতুর মধ্যে ২৫৮ দশমিক ৫ মিটার দৈর্ঘ্যের ধলেশ্বরী-১, ৩৮২ দশমিক ৫ মিটার দৈর্ঘ্যের ধলেশ্বরী-২ সেতু এবং ৪৫০ দশমিক ৫ মিটার দৈর্ঘ্যের আড়িয়াল খাঁ সেতুও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এছাড়া ৪৫টি কালভার্ট, তিনটি ফ্লাইওভার, গ্রেট সেপারেটর হিসেবে ১৫টি আন্ডারপাস রাখা হয়েছে। দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের তেঘরিয়ায় একটি ও ফরিদপুরের ভাঙ্গায় একটিসহ দুটি ইন্টারচেঞ্চও নির্মাণ করা হয়েছে।

ঢাকা-খুলনা জাতীয় মহাসড়কের (এন-৮) যাত্রাবাড়ী ইন্টারসেকশন থেকে (ইকুরিয়া-বাবুবাজার লিংকরোড) মাওয়া পর্যন্ত এবং পাঁচ্চর থেকে ভাঙ্গা পর্যন্ত ধীরগতির যানবাহনের জন্য পৃথক লেনসহ চার লেনে উন্নীত করা হয়েছে। আধুনিক ‘ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা’ সমৃদ্ধ ছয় লেনের এ মহাসড়কটিতে চারটি ফ্লাইওভার রয়েছে। এছাড়া এ এক্সপ্রেসওয়েতে চারটি রেলওয়ে ওভারব্রিজ, চারটি বড় ব্রিজ, ১৯টি আন্ডারপাসসহ বিশ্বমানের সব নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর/এআর/এইচএন