স্বামীর অমানবিক নির্যাতনে কিশোরী বধূ নিহত

ঢাকা, মঙ্গলবার   ২৪ নভেম্বর ২০২০,   অগ্রহায়ণ ১১ ১৪২৭,   ০৭ রবিউস সানি ১৪৪২

স্বামীর অমানবিক নির্যাতনে কিশোরী বধূ নিহত

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৯:৪৮ ২৬ অক্টোবর ২০২০   আপডেট: ১৪:২৩ ২৭ অক্টোবর ২০২০

স্বামী রাজিব খানের সঙ্গে নুর নাহার

স্বামী রাজিব খানের সঙ্গে নুর নাহার

টাঙ্গাইলের বাসাইলে ৩৪ বছর বয়সী স্বামীর বর্বর যৌনসঙ্গমে নুর নাহার নামে ১৪ বছরের এক কিশোরীর মৃত্যু হয়েছে। মাত্র ৩৪ দিন আগে তার বিয়ে হয়।

রোববার ভোরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। যৌনাঙ্গ থেকে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে নুর নাহারের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাসাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ফিরোজুর রহমান।

আরো পড়ুন: হাজী সেলিমের ছেলের বারান্দায় ‘সোনার’ দূরবীণ, নজরে পুরো এলাকা

স্থানীয়রা জানায়, নুর নাহার অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী। তিনি অত্যন্ত মেধাবী ছিলেন। তবে পরিবার অসচ্ছল হওয়ায় নানার বাড়ি উপজেলার কলিয়া গ্রামে থেকে পড়াশোনা করতেন তিনি। এক মাস চারদিন আগে একই উপজেলার ফুলকি পশ্চিমপাড়া গ্রামের আব্দুর রশিদের ছেলে ৩৪ বছর বয়সী প্রবাস ফেরত রাজিব খানের সঙ্গে নুর নাহারের বিয়ে হয়। ইসলামী শরীয়ত মোতাবেক বিয়ে হলেও রেজিস্ট্রি হয়নি।

আর বিয়ের দিন থেকে নুর নাহারের সঙ্গে মেলামেশা করেন রাজিব খান। পরে ওইদিন থেকেই তার যৌনাঙ্গে রক্তক্ষরণ হয়। একপর্যায়ে শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে কবিরাজ দিয়ে চিকিৎসা করান। রক্তক্ষরণ হলেও স্বামী রাজিব খানের ‘বর্বর’ যৌনসঙ্গমের নেশা কমেনি। এতে আরো অসুস্থ হয়ে পড়েন কিশোরী নুর নাহার। পরে ২২ অক্টোবর তাকে টাঙ্গাইলের একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে চিকিৎসা দেয়া হয়।

অবস্থার অবনতি হলে নুর নাহারকে মির্জাপুর কুমুদিনী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে চিকিৎসকরা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। রোববার ভোরে সেখানেই নুর নাহারের মৃত্যু হয়। ময়নাতদন্ত শেষে ওইদিনই নানার বাড়ির কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

আরো পড়ুন: ভিডিওতে দেখুন এমপি হাজী সেলিমের ‘অন্দরমহল’

এ ব্যাপারে নুর নাহারের নানা লাল খান বলেন, বিয়ের রাত থেকেই যৌনাঙ্গ থেকে রক্তক্ষরণ হচ্ছিল বলে নাতনি আমাকে জানিয়েছে। এ জন্য নুর নাহারের শাশুড়ি তাকে কবিরাজের ওষুধ খাওয়ান। কিন্তু রক্তক্ষরণ বেশি হলে তাকে হাসপাতালে পাঠানো হয়।

বাসাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ফিরোজুর রহমান বলেন, নারীর প্রথম যৌন মিলনে ভয় ও আতঙ্ক কাজ করে। অপ্রাপ্ত বয়সে বিয়ে হলে রক্তক্ষরণ হতে পারে। এ জন্য দ্রুত গাইনি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেয়া উচিত।

টাঙ্গাইলের এএসপি আব্দুল মতিন বলেন, এ ঘটনায় অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর/জেএইচএফ