বৃষ্টিতে ভেসে গেল ৫ কোটি টাকার মাছ

ঢাকা, রোববার   ২৯ নভেম্বর ২০২০,   অগ্রহায়ণ ১৫ ১৪২৭,   ১২ রবিউস সানি ১৪৪২

বৃষ্টিতে ভেসে গেল ৫ কোটি টাকার মাছ

বাগেরহাট প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৭:১৯ ২৫ অক্টোবর ২০২০  

টানা বৃষ্টিতে পুকুর ডুবে গেছে

টানা বৃষ্টিতে পুকুর ডুবে গেছে

বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ ও তিনদিনের টানা বৃষ্টিতে বাগেরহাটের বিভিন্ন এলাকায় হাজারো মাছের ঘের ও পুকুর প্লাবিত হয়েছে। এতে প্রায় পাঁচ কোটি টাকার মাছ ভেসে গেছে। এছাড়া পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন প্রায় অর্ধলক্ষাধিক মানুষ।

বিশেষ করে জেলার মোড়লগঞ্জ ও শরণখোলা উপজেলার প্রায় ৪০ হাজার মানুষ পানিবন্দি রয়েছেন। পানিবন্দি থাকায় তিনদিন রান্না করতে পারেনি অনেক পরিবার। ফলে পরিবারগুলো মানবেতর জীবনযাপন করছে।

এদিকে, পানি কমতে শুরু করলেও মাছ চাষিদের মুখে হাসি নেই। ঘেরের মাছ বের হয়ে যাওয়ায় নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন অনেক চাষি।

মোড়লগঞ্জ উপজেলার গুলিশাখালী গ্রামের মৎস্য চাষি রবিউল ইসলাম বলেন, বৃহস্পতিবার থেকে শনিবারের টানা বৃষ্টিতে মাছের ঘের তলিয়ে আমার সাত লাখ টাকার মাছ ভেসে গেছে। শুধু আমার নয় এলাকার বিভিন্ন মানুষের ঘের ও পুকুর ডুবে গেছে। অনেক মাছ চাষিই নিঃস্ব হয়ে গেছেন।

শরণখোলা উপজেলার রাজৈড় গ্রামের মৎস্য ঘের ব্যবসায়ী সোহেল ফরাজী ও সোহবান শেখ বলেন, এনজিও থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে মাছ ছেড়েছি। কিছুদিন পরে মাছ বিক্রি করার ইচ্ছা ছিল। বৃষ্টিতে সব শেষ হয়ে গেল আমার। এখন কী করব বুঝতে পারছি না।

পানিবন্দি হয়ে পড়েন হাজারো মানুষ

একই উপজেলার মহিবুন্নাহার, ছাহেরা বেগম, হাওয়া বেগম, শাহিনুর বেগমসহ অনেকেই বলেন, বৃষ্টিতে আমাদের বসতঘর, রান্নাঘর, গোয়াল ঘরসহ সব ডুবে ছিল। দুদিন দোকান থেকে চিড়া-মুড়ি ও রুটি কিনে খেতে হয়েছে।

শরণখোলার ইউএনও সরদার মোস্তফা শাহীন বলেন, বৃষ্টির পানিতে আমার উপজেলার প্রায় ৩০ হাজার মানুষ পানিবন্দি রয়েছেন। আমরা পানিবন্দি মানুষদের সহযোগিতা করার চেষ্টা করছি।

এ ক্ষতির পরিমাণ আরো বেশি বলে দাবি করেছেন বাগেরহাট জেলা চিংড়ি চাষি সমিতির সভাপতি মহিতুল ইসলাম সুমন। তিনি বলেন, বৃষ্টিতে বাগেরহাটের প্রায় ১৫ হাজার ঘের ও পুকুর ভেসে গেছে। চাষিদের ক্ষতি পোষাতে সহজ শর্তে ঋণ দেয়ার দাবি জানান তিনি।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ড. মো. খালেদ কনক বলেন, টানা বৃষ্টিতে বাগেরহাটের ৯ হাজার ৭৬১টি মৎস্য ঘের ও পুকুর ভেসে গেছে। এতে চাষিদের প্রায় ৫ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। আমরা চাষিদের সঙ্গে যোগাযোগ করছি। এ ক্ষতি পোষাতে চাষিদের প্রশিক্ষণ ও সরকারি বিভিন্ন প্রণোদনা দেয়ার চেষ্টা করা হবে।

বাগেরহাটের ডিসি মো. মামুনুর রশীদ বলেন, অতিবর্ষণের কারণে বাগেরহাট জেলায় বরাবরের মতো এবারও কিছু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। ভাটার সময় আবার সেই পানি নেমেও গেছে। এতে কিছু মাছের ঘেরও ভেসে গেছে। সব মিলিয়ে কী পরিমাণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আমরা সেই তালিকা প্রস্তুতের কাজ করছি।

তিনি বলেন, দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে পাওয়া দুই হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার বিভিন্ন উপজেলায় পাঠানো হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলাগুলোতে খাদ্যশস্য দেয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর