যে স্থানে ছেলের মৃত্যু, সেখানেই আমরণ অনশনে মা

ঢাকা, রোববার   ০৬ ডিসেম্বর ২০২০,   অগ্রহায়ণ ২২ ১৪২৭,   ১৯ রবিউস সানি ১৪৪২

যে স্থানে ছেলের মৃত্যু, সেখানেই আমরণ অনশনে মা

সিলেট প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১২:৪৭ ২৫ অক্টোবর ২০২০   আপডেট: ১৪:০৩ ২৫ অক্টোবর ২০২০

সিলেটের বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির সামনে অনশনে রায়হানের মা ও স্বজনরা

সিলেটের বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির সামনে অনশনে রায়হানের মা ও স্বজনরা

সিলেটে বন্দর বাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতনে রায়হান উদ্দিন আহমেদ হত্যার বিচারের দাবিতে এবার সেই ফাঁড়ির সামনেই অনশনে বসেছেন রায়হানের মা ও স্বজনরা। রায়হান হত্যায় জড়িতদের গ্রেফতার করা না পর্যন্ত অনশন ভাঙবেন না বলে জানান তারা।

রোববার সকাল সাড়ে ১১টা থেকে মাথায় কাফনের কাপড় বেঁধে বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির সামনে অনশন শুরু করেন তারা। এ সময় তাদের হাতে ছিল ‘আমার ছেলে কবরে, খুনি কেন বাইরে?’, ‘বোন বলে ডাকবে কে? আমার ভাইকে ফিরিয়ে দে’, ‘খুনি এসআই আকবরের ফাঁসি চাই’ লেখা পোস্টার ও প্ল্যাকার্ড।

রায়হানের মা সালমা বেগম বলেন, আমার ছেলের হত্যাকারীকে যতক্ষণ পর্যন্ত গ্রেফতার না করা হবে ততক্ষণ অনশন চালিয়ে যাবো। আমার ছেলেকে যেখানে হত্যা করা হয়েছে, প্রয়োজনে আমিও সেখানে মারা যাব।

তিনি আরো বলেন, যারা পুলিশ হেফাজতে রয়েছে তাদের কেন এখন পর্যন্ত গ্রেফতার করা হচ্ছে না? তাদেরকে দ্রুত গ্রেফতার করে রিমান্ডে নিলে এ ঘটনায় জড়িত সবার নাম বেরিয়ে আসবে। এই ফাঁড়ির ইনচার্জ আকবরকেও দ্রুত গ্রেফতার করতে হবে। সব দোষীরা গ্রেফতার না হওয়া পর্যন্ত আমাদের কর্মসূচি চলবে।

রায়হানের স্বজনরা জানান, আমরা এর আগে সংবাদ সম্মেলন করে জড়িতদের গ্রেফতারে ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছিলাম। কিন্তু এখন পর্যন্ত মূল আসামি এসআই আকবর গ্রেফতার হয়নি। এ কারণে আমরা আমরণ অনশনে নেমেছি। যতক্ষণ তাকে গ্রেফতার করা না হবে ততক্ষণ অনশন চলবে।

রায়হান হত্যা ও এসআই আকবরকে গ্রেফতারের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করে সিলেটবাসী

এদিকে এসআই আকবরকে দ্রুত গ্রেফতারের দাবিতে সড়কে নেমেছে স্থানীয়রা। দুপুর ১২টার দিকে শত শত মানুষ মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে। বিক্ষোভকারীরা জানায়, রায়হানকে নির্যাতন করে হত্যা করেছে এসআই আকবর। এই অঞ্চলের অনেক মানুষ তার নির্যাতনের শিকার হয়েছে। তার কারণে ব্যবসায়ীরা শান্তিতে ব্যবসা করতে পারতো না, বিভিন্ন সময় তাদের কাছে চাঁদা দাবি ও হয়রানি করতো এসআই আকবর। তার ফাঁসির দাবিতে সিলেটের মানুষ ফুঁসে উঠেছে।

এর আগে, রায়হান হত্যার বিচারের দাবিতে টানা ১৩ দিন বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন নিহতের পরিবার ও স্বজনরা। ৮ দিনের মাথায় তার পরিবার ও এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন করা হয়। এতে ৬ দফা দাবিসহ এসআই আকবরকে গ্রেফতারে ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেয়া হয়।

১১ অক্টোবর সিলেট মহানগর পুলিশের বন্দর বাজার ফাঁড়িতে নির্যাতনে রায়হানের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় মামলা করেন নিহতের স্ত্রী, বরখাস্ত করা হয় ফাঁড়ি ইনচার্জ এসআই আকবরসহ চারজনকে। এছাড়া প্রত্যাহার করা হয় আরো তিনজনকে। বর্তমানে মামলাটি তদন্ত করছে পিবিআই। ঘটনার পর থেকে এসআই আকবর পলাতক থাকলেও গ্রেফতার করা হয়েছে টিটু চন্দ্র দাস ও হারুনুর রশীদ নামে দুই পুলিশ সদস্যকে। তাদের পাঁচ দিনকরে রিমান্ডে নিয়েছে পিবিআই।

ডেইলি বাংলাদেশ/এআর