বয়স্ক ভাতা নাই, দোকানেই খাই-ঘুমাই

ঢাকা, শনিবার   ০৫ ডিসেম্বর ২০২০,   অগ্রহায়ণ ২১ ১৪২৭,   ১৮ রবিউস সানি ১৪৪২

বয়স্ক ভাতা নাই, দোকানেই খাই-ঘুমাই

বরিশাল প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১১:২১ ২৫ অক্টোবর ২০২০  

মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই, দোকানই সব বৃদ্ধ মান্নান ব্যাপারীর

মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই, দোকানই সব বৃদ্ধ মান্নান ব্যাপারীর

আব্দুল মান্নান ব্যাপারী। বয়সের ভারে অনেকটাই ন্যুব্জ হয়ে পড়েছেন। এই বয়সে এসেও নিজে কাজ করে জীবন চালাতে হচ্ছে তাকে। বরিশালের বানারীপাড়ার পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের কেন্দ্রীয় ঈদগাহ সংলগ্ন একটি ভাড়া ঘরে ছোট দোকান তার। এই দোকানেই রান্না, খাওয়া-দাওয়া করেন, দোকানেই ঘুমান বৃদ্ধ মান্নান ব্যাপারী। বয়স্ক ভাতার কার্ড করতে গিয়ে খরচ করেছেন ৩৭৫০ টাকা, তবু কার্ড পাননি। শেষ বয়সে এসে মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে অসহায় মান্নান ব্যাপারীকে।

বানারীপাড়া পৌরসভার সেই দোকানে গিয়ে পাওয়া গেল মান্নান ব্যাপারীকে। কথায় কথায় তিনি জানালেন শেষ বয়সের কষ্টের কথা, বয়স্ক ভাতার কার্ড করতে গিয়ে প্রতারিত হওয়ার কথা।

তিনি বললেন, চার মেয়েকে বিয়ে দিয়েছি। একটা ছেলে ঢাকায় থাকে, কনো খবর রাখে না। কয়েকদিন মেয়ে-জামাঈয়ের কাছে থেকেছি-খেয়েছি কিন্তু এভাবে আর কতো? তাই শেষ বয়সে কোনোরকমে কাজ করে দুইবেলা দুটো খাবারের ব্যবস্থা করি। দোকানেই খাই, দোকানেই ঘুমাই।

কথায় কথায় জানা গেল মান্নান ব্যাপারীর গ্রামের বাড়ি বানারীপাড়া উপজেলার বাইশারী ইউপির ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কচুয়ায়। তিনি বলেন, সেখানে মাথা গোঁজার ঠাঁই তো দূরের কথা মরে গেলে যে দাফন করবে সে জায়গাটুকুও নেই আমার। শেষ বয়সে বয়স্ক ভাতার জন্য এর-ওর কাছে বহুবার ঘুরেছি, টাকাও দিয়েছি। কিন্তু দুই বছরেও কার্ডের দেখা পাইনি।

ভাতা কার্ড না পাওয়ার বিষয়ে মান্না ব্যাপারী বলেন, বয়স্ক ভাতার কার্ড করে দেয়ার কথা বলে ২০১৯ সালের প্রথমদিকে বাইশারী ইউপির ৫ নম্বর ওয়ার্ড মেম্বার মো. ফরিদ হোসেন আমার কাছ থেকে তিন হাজার ৭৫০ টাকা নেন। এরপর বারবার গিয়েও ওই মেম্বারের নাগাল পাইনি। উপজেলার সমাজসেবা অফিসে গিয়েও খোঁজ নিয়েছি। কিন্তু আমার কার্ড হয়নি। এখন সব আশা ছেড়ে দিয়ে হাজার পাঁচেক টাকা মূলধন নিয়ে এই ছোটখাটো দোকান চালাচ্ছি। জীবন নামের
গাড়িটি এখন অনেক কষ্টে চলছে। আর কত বয়স হলে বয়স্ক ভাতা পাবো?

বাইশারী ইউপির ৫ নম্বর ওয়ার্ড মেম্বার মো. ফরিদ হোসেন বলেন, আমার ওয়ার্ডে ৬টি বয়স্ক ভাতার কার্ড বরাদ্দ হয়েছিলো। ওই সময় খরচ বাবদ মান্নান ব্যাপারীর কাছ থেকে প্রথমে তিন হাজার ২০০ টাকা নিয়েছি। পরে তার স্ত্রীর নামে কার্ড করিয়ে দিয়েছি। স্ত্রীর মৃত্যুর পর মান্নান ব্যাপারী নিজের নামে কার্ড করতে চান। কার্ড পরিবর্তনের জন্য আরো ৫৫০ টাকা নেই।

তিনি আরো বলেন, বৃদ্ধ মান্নান ব্যাপারীর কার্ড ভাতা কার্ড হয়েছে। এ বছরের শেষ দিকে তিনি কার্ড পেয়ে যাবেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/এআর