সড়ক দুর্ঘটনা নয়, রাবি শিক্ষার্থী খুনের দৃশ্য ধরা পড়ল সিসিটিভিতে

ঢাকা, বুধবার   ০২ ডিসেম্বর ২০২০,   অগ্রহায়ণ ১৮ ১৪২৭,   ১৫ রবিউস সানি ১৪৪২

সড়ক দুর্ঘটনা নয়, রাবি শিক্ষার্থী খুনের দৃশ্য ধরা পড়ল সিসিটিভিতে

সাভার প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২০:৩২ ২৪ অক্টোবর ২০২০   আপডেট: ২১:০৩ ২৪ অক্টোবর ২০২০

নিহত মোস্তাফিজুর রহমান

নিহত মোস্তাফিজুর রহমান

রাজশাহীর দুর্গাপুর নওয়াপাড়া গ্রামের মোস্তাফিজুর রহমান। তার কর্মস্থল ঢাকার সাভারে। শনিবার ভোরে বাড়ি থেকে বাসে কর্মস্থলে ফিরছিলেন তিনি। ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের শিমুলতলায় এসে বাস থেকে নেমে সিআরপি সড়ক ধরে হাঁটছিলেন। একটু সামনের দিকে যেতেই কয়েকজন যুবক তাকে ঘিরে ফেলার চেষ্টা করেন। এ সময় ব্যাগে থাকা সামগ্রী ও টাকা-পয়সা বাঁচাতে দৌড় দেন মোস্তাফিজ। কিন্তু বেশি দূর যেতে পারেননি।

ওই যুবকরা মোস্তাফিজকে ধরে ফেলেন। তার সঙ্গে থাকা ব্যাগ ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করেন তারা। একপর্যায়ে মোস্তাফিজকে আঘাত করে ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে যায় ওই ছিনতাইকারী চক্র। শনিবার ভোরে পুরো ঘটনাটি ধরা পড়ে ঘটনাস্থলের পাশের একটি বাড়ির সিসিটিভির ফুটেজে।

স্থানীয়রা জানায়, সিসি ক্যামেরায় ধরা পড়ার ঘটনা জানাজানির আগে ঘটনাটি নিছক একটি সড়ক দুর্ঘটনা বলে ধারণা করেছিল সবাই।

নিহত মোস্তাফিজ কাজ করতেন সভারের বিরুলিয়া ইউপির কমলাপুর এলাকায় গ্লোরিয়াস ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগ থেকে ২০১৯ সালে স্নাতকোত্তর শেষ করে মোস্তাফিজ বছরখানেক আগে এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন।

মোস্তাফিজের সহকর্মী সৌখিন আজিজ জানান, গ্রামের বাড়ি থেকে স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে আসতে বাড়ি গিয়েছিলেন মোস্তাফিজ। হয়তো কোনো কারণে তারা আসেননি। ফলে সাভারে তিনি একাই ফেরেন।

স্থানীয়রা জানায়, রক্তাক্ত লাশ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশের জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন দেয় এলাকাবাসী। পরে ওই যুবকের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। লাশের একটু দূরে সবজি ভর্তি একটি বস্তা, ব্যাংকের এটিএম কার্ড ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের একটি পরিচয়পত্র পাওয়া যায়।

এ বিষয়ে সাভারের গ্লোরিয়াস ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ জুবায়ের হাসান জানান, মোস্তাফিজ গত এক বছর আগে তার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দেন। তার মৃত্যুর বিষয়টি তিনি জেনেছেন। পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগও করেছেন। মোস্তাফিজ সাভারের ডগরমোড়া এলাকায় থাকতেন।

সাভার মডেল থানার ওসি এএফএম সায়েদ জানান, শনিবার ভোরে ৯৯৯-এ সিআরপি এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনার খবর জানায় এক ব্যক্তি। ঘটনাস্থলে গিয়ে সড়কের ধারে যুবকের লাশ দেখতে পায় পুলিশ। লাশের পাশে থাকা পরিচয়পত্র দেখে তার পরিচয় নিশ্চিত করা হয়।

তিনি আরো জানান, মোস্তাফিজের বুকের বাম পাশে বড় একটি ক্ষত রয়েছে। ওই ক্ষত থেকে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণেই তার মৃত্যু হয়। তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী না পেয়ে পুলিশ পাশের একটি বাড়িতে সিসি ক্যামেরা দেখতে পায়। পরে পুলিশ সেখানে গিয়ে ক্যামেরায় পুরো ঘটনাটিই রেকর্ড হয়েছে জানতে পারে।

ফুটেজে দেখা যায়, মোস্তাফিজকে ছুরিকাঘাত করে তার কাছে থাকা কালো রঙের ব্যাগ নিয়ে পালিয়ে যায় তিন যুবক। ফুটেজ পর্যালোচনা করে খুনিদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের এ কর্মকর্তা।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর