বাসভবনে না থেকেও সাত লাখ টাকা ভাড়া দিলেন অধ্যক্ষ

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২৬ নভেম্বর ২০২০,   অগ্রহায়ণ ১২ ১৪২৭,   ০৯ রবিউস সানি ১৪৪২

বাসভবনে না থেকেও সাত লাখ টাকা ভাড়া দিলেন অধ্যক্ষ

ঝালকাঠি প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৮:২৬ ২৪ অক্টোবর ২০২০  

ব্যবহারের অনুপযোগী ও ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় অব্যবহৃত এবং পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে ঝালকাঠি সরকারি কলেজ অধ্যক্ষের বাসভবন

ব্যবহারের অনুপযোগী ও ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় অব্যবহৃত এবং পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে ঝালকাঠি সরকারি কলেজ অধ্যক্ষের বাসভবন

ব্যবহারের অনুপযোগী ও ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় অব্যবহৃত এবং পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে ঝালকাঠি সরকারি কলেজ অধ্যক্ষের বাসভবন। এ নিয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষ শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতরে বারবার চিঠি দিলেও কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না তারা। অথচ বাসভবন বাবদ অধ্যক্ষের বেতন থেকে প্রতিমাসে প্রায় ২৫ হাজার টাকা ভাড়া বাবদ কেটে নেয়া হচ্ছে। 

অপরদিকে বাসা ভাড়া করে থাকায় দুদিকেই আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হওয়ায় অধ্যক্ষের গলার কাটা হয়ে দাঁড়িয়েছে বাসভবনটি। 

কলেজসূত্রে জানা যায়, ঝালকাঠি সরকারি কলেজ অধ্যক্ষের জন্য ১৯৯৩ সালে নির্মিত আবাসিক ভবনের কক্ষগুলো অত্যন্ত সরু এবং পাশের চলাচলের রাস্তার চেয়ে নিচু হওয়ায় তা শুরু থেকেই ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়ে।

প্রতিষ্ঠার পর থেকেই প্রত্যেক অধ্যক্ষের বেতন থেকে বাসভবন ভাড়া বাবদ মোটা অঙ্কের টাকা কেটে নেয়া হয়। অধ্যক্ষের বাসভবন ব্যবহারের এতটাই অনুপযোগী যে, নির্মাণের পর থেকে সঠিকভাবে কোনো অধ্যক্ষই ওই ভবনে বসবাস করতে পারেনি। বর্তমানে ওই ভবনের ফ্লোর নিচু হওয়ায় একটু বৃষ্টি হলে বা পানি বৃদ্ধি পেলে মেঝে তলিয়ে যায়। ভবনের পাশেই পুকুর থাকায় অনেক সময় সাপের উপদ্রবও দেখা যায় ভবনটিতে। সেখানে অনুপযোগী পরিবেশের কারণে কোনো কর্মচারীও থাকতে না চাওয়ায় অব্যবহৃত এবং পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। কিন্তু কলেজের বর্তমান অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আনছার উদ্দিনের মাসিক বেতন থেকে প্রায় ২৫ হাজার টাকা  ভাড়া বাবদ কেটে নেয়া হচ্ছে। এ ব্যাপারে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতরে একাধিক চিঠি দেয়া হলেও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি অধিদফতর।

সরকারি কলেজ শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আ. ছালাম (সহযোগী অধ্যাপক), যুগ্ম সম্পাদক আসাদুজ্জামান রুবেল (সহকারী অধ্যাপক)সহ শিক্ষক মণ্ডলী জানান, সরকারি কলেজে অধ্যক্ষের জন্য মানসম্মত ডুপ্লেক্স ভবন নির্মাণ করা প্রয়োজন। পুরাতন ভবনটি ব্যবহারের অনুপযোগী হওয়ায় এখানে কেউই বসবাস করছে না। এ কারণে বর্তমানে ভবনটির বাইরে বিভিন্ন লতাপাতা জড়িয়ে এবং ভেতরের আস্তর খসে পড়ে ভুতুড়ে পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। অধ্যক্ষের বেতন থেকে প্রতিমাসে ২৫ হাজার টাকা কেটে নেয়া হচ্ছে। অপরদিকে তিনি বাসা ভাড়া করে থাকায় উভয় দিকেই আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আনছার উদ্দিন বলেন, বাসের অনুপযোগী হওয়ায় অধ্যক্ষের বাসভবনে আমি থাকছি না। তবুও আমার বেতন থেকে এ পর্যন্ত সাড়ে সাত লাখ টাকা বাড়ি ভাড়া বাবদ কেটে নেয়া হয়েছে। শিক্ষাপ্রকৌশল অধিদফতরকে একাধিকবার চিঠি দিয়ে অধ্যক্ষ বাসভবন সম্পর্কে অবহিত করা হলেও তারা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। ডিসিকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। 

তিনি আরো বলেন, অনার্স কোর্স চালু আছে এমন কলেজ অধ্যক্ষের জন্য ২ হাজার ২০০ বর্গ ফুটের ডুপ্লেক্স দ্বিতল ভবন করার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু ঝালকাঠি সরকারি কলেজে অধ্যক্ষের জন্য নির্মিত বাসভবনটি ১ হাজার ১০০ বর্গ ফুটের চেয়েও কম।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ