রায়হান হত্যা: ৫ দিনের রিমান্ডে কনস্টেবল হারুন

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২৬ নভেম্বর ২০২০,   অগ্রহায়ণ ১৩ ১৪২৭,   ০৯ রবিউস সানি ১৪৪২

রায়হান হত্যা: ৫ দিনের রিমান্ডে কনস্টেবল হারুন

সিলেট প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৭:৫৬ ২৪ অক্টোবর ২০২০   আপডেট: ১৮:০৬ ২৪ অক্টোবর ২০২০

আদালতে তোলার সময় কনস্টেবল হারুনুর রশিদ

আদালতে তোলার সময় কনস্টেবল হারুনুর রশিদ

সিলেটের বন্দরবাজার ফাঁড়িতে পুলিশের নির্যাতনে রায়হান হত্যা মামলায় সাময়িক বরখাস্ত কনস্টেবল হারুনুর রশিদের পাঁচদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।

শনিবার বিকেলে সিলেটের মুখ্য মহানগর বিচারিক হাকিম (তৃতীয় আদালত) শারমিন খানম নীলা তার এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

সিলেট মহানগর পুলিশের সিনিয়র সহকারী কমিশনার (প্রসিকিউশন) অমূল্য ভূষণ চৌধুরী বলেন, আদালতে হারুনুর রশিদকে হাজির করে সাতদিনের রিমান্ড চান মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিআইবি’র পরিদর্শক মাহিদুল ইসলাম। শুনানি শেষে তার পাঁচদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন বিচারক।

এ নিয়ে আলোচিত এ মামলায় বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির বরখাস্ত দুই কনস্টেবলকে গ্রেফতারের পর পাঁচদিনের রিমান্ডে নেয়। ২১ অক্টোবর পুলিশ সদস্য টিটু চন্দ্র দাসকে পাঁচদিনের রিমান্ডে নেয়া হয়।

এর আগে, ২৩ অক্টোবর রাতে প্রথমে পুলিশ লাইন থেকে বরখাস্ত হওয়া পুলিশ সদস্য হারুনকে গ্রেফতার করে পিবিআই। হারুন বন্দরবাজার ফাঁড়িতে কর্মরত ছিলেন। রায়হান হত্যার পর তাকেসহ চার পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

১০ অক্টোবর মধ্যরাতে রায়হানকে তুলে নিয়ে বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে আটকে রেখে নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ করেন তার স্বজনরা। ওইদিন সকালে তিনি এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান। নির্যাতন করার সময় তৌহিদ মিয়া নামে এক পুলিশ সদস্যের মুঠোফোন থেকে রায়হানের পরিবারের কাছে ফোন দিয়ে টাকা চাওয়া হয়। পরিবারের সদস্যরা সকালে ফাঁড়ি থেকে হাসপাতালে গিয়ে রায়হানের লাশ শনাক্ত করেন।

রায়হান সিলেট নগরীর আখালিয়ার নেহারিপাড়ার বিডিআরের হাবিলদার রফিকুল ইসলামের ছেলে। তিনি নগরীর রিকাবিবাজার স্টেডিয়াম মার্কেটে এক চিকিৎসকের চেম্বারে চাকরি করতেন।

এ ঘটনায় ১২ অক্টোবর রাতে অজ্ঞাতদের বিরুদ্ধে এসএমপির কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করেন রায়হানের স্ত্রী তাহমিনা আক্তার তান্নি।

মামলাটি পুলিশ সদর দফতরের নির্দেশে পিবিআইতে স্থানান্তর হয়। তদন্তভার পাওয়ার পর পিবিআইর টিম ঘটনাস্থল বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ি, নগরীর কাস্টঘর, নিহতের বাড়ি পরিদর্শন করে। সর্বোপরি লাশ কবর থেকে তোলার পর পুনরায় ময়নাতদন্ত করা হয়।

দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে রায়হানের শরীরে ১১১ আঘাতের চিহ্ন উঠে এসেছে। এসব আঘাতের ৯৭টি ফোলা আঘাত ও ১৪টি ছিল গুরুতর জখমের চিহ্ন। আঘাতগুলো লাঠি দিয়েই করা হয়েছে। অসংখ্য আঘাতের কারণে হাইপোভলিউমিক শক ও নিউরোজেনিক শকে মস্তিষ্ক, হৃৎপিণ্ড, ফুসফুস, কিডনিসহ গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলো কর্মক্ষমতা হারানোর কারণে রায়হান মারা যান।

এ ঘটনায় ২০ অক্টোবর দুপুরে বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির কনস্টেবল টিটু চন্দ্র দাসকে গ্রেফতারের পর পাঁচদিনের রিমান্ডে নেয়া হয়।

এর আগে, রায়হানের মৃত্যুর জন্য দায়িত্বহীনতার দায়ে বন্দরবাজার ফাঁড়ির ইনচার্জ (এসআই) আকবর হোসেন ভূঁইয়াসহ চার পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত ও তিনজনকে প্রত্যাহার করে তাদের পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়। এরমধ্যে এসআই আকবর ১৩ অক্টোবর সকালে পুলিশ লাইন থেকে পালিয়ে যান।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর