এক পোষানি ছাগলে কাটল দুই যুগের কষ্ট

ঢাকা, মঙ্গলবার   ২৪ নভেম্বর ২০২০,   অগ্রহায়ণ ১০ ১৪২৭,   ০৭ রবিউস সানি ১৪৪২

এক পোষানি ছাগলে কাটল দুই যুগের কষ্ট

মেহেরপুর প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৬:৪৮ ২৪ অক্টোবর ২০২০  

একটি পোষানি ছাগল থেকে ১৯টি ছাগলের মালিক আনোয়ারা

একটি পোষানি ছাগল থেকে ১৯টি ছাগলের মালিক আনোয়ারা

অভাব-অনটন আর বহু কষ্টে কাটছিল আনোয়ারা খাতুনের সংসার। ২৫ বছর আগে হারান স্বামীকে। এরপর দুই ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে আসেন। তখনও অভাব তার পিছু ছাড়েনি। কিছু করার মতো তেমন টাকা-পয়সাও ছিল না। পরে অন্যের কাছ থেকে একটি পোষানি ছাগল নিয়ে পালতে শুরু করেন। আর এতেই ভাগ্যের চাকা ঘুরে আনোয়ারার।

অভাব-অনাহারে থাকা আনোয়ারার সংসারের সেই দুঃসময় এখন নির্বাসিত। তার ঘরে এখন জ্বলছে সাফল্যের প্রদীপ। ছাগল পালন করেই ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটিয়েছেন তিনি। আনোয়ার বাড়ি মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার সাহারবাটি গ্রামে।

সাফল্যের কথা তুলে ধরে আনোয়ারা বলেন, ছোট ছেলে-মেয়ে নিয়ে অন্যের বাড়িতে কাজ করে পেট চালাতাম। এক সময় গ্রামের একজনের কাছ থেকে একটি পোষানি ছাগল নিয়ে পালতে শুরু করি। এরপর আর পেছনে তাকাতে হয়নি। সঠিক চিকিৎসা ও পরিচর্যার কারণে অল্প দিনেই ছাগল পালনে লাভের মুখ দেখেছি। ধীরে ধীরে ছাগলের সংখ্যা বাড়তে থাকে। এরমধ্যেই ৩৫টি ছাগলের মালিক হই আমি। শুরু হয় দিন বদলের পালা। এখন আমার বাড়িতে ১৯টি ছাগল রয়েছে। যার মূল্য প্রায় ৬০ হাজার টাকা। প্রতি বছরেই আমি ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকার ছাগল বিক্রি করি।

তিনি বলেন, পোষানি ছাগল থেকে প্রথম বছরে একটি বাচ্চার ভাগ পাই। এরপর সেই বাচ্চা থেকে পরের বছর দুইটি ছাগল হয়। তখন থেকেই আমার জীবনের নতুন পথ শুরু হয়। শুরু হয় বেঁচে থাকার লড়াই। প্রায় ১৫ বছর আগের কথা। তখন আমার বড় ছেলে শরীফুল ইসলামের বয়স মাত্র আট বছর। আর মেয়ে দুইটি কোলে ছিল। দীর্ঘশ্বাস ফেলে কথাগুলো বলেন আনোয়ারা।

আনোয়ারা বলেন, এখন চৌগাছা ভিটাপাড়া গ্রামে সাত শতাংশ জমি কিনে বাড়ি করেছি। ৬০ হাজার টাকা দিয়ে মাঠে এক বিঘা জমি বন্ধক রেখেছি। এখন আমার সুখের সংসার। আমি আমার জীবনকে জয় করতে পেরেছি। ছেলে-মেয়ের বিয়ে দিয়েছি। তাদের থাকার জন্য জমি কিনে বাড়ি করে দিয়েছি।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর