ধর্ষণের ফলে জন্ম নেয়া শিশুকে পুড়িয়ে মারলেন ধর্ষক

ঢাকা, রোববার   ২৯ নভেম্বর ২০২০,   অগ্রহায়ণ ১৫ ১৪২৭,   ১২ রবিউস সানি ১৪৪২

ধর্ষণের ফলে জন্ম নেয়া শিশুকে পুড়িয়ে মারলেন ধর্ষক

যশোর প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৫:৩৩ ২৪ অক্টোবর ২০২০   আপডেট: ১৬:০৯ ২৪ অক্টোবর ২০২০

ধর্ষণের ফলে জন্ম নেয়া শিশুকে পুড়িয়ে মারলেন ধর্ষক - ডেইলি বাংলাদেশ

ধর্ষণের ফলে জন্ম নেয়া শিশুকে পুড়িয়ে মারলেন ধর্ষক - ডেইলি বাংলাদেশ

যশোরের ঝিকরগাছার শংকরপুর ইউপির বাঁকড়া গ্রামে পাঁচ বছরের এক শিশুকে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে। আল আমীন নামের ওই শিশুকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে ধর্ষক জন্মদাতা হাজি দাউদ সরদারের বিরুদ্ধে।

আল আমীনের মা তামান্না ডেইলি বাংলাদেশকে জানান, ছয় বছর আগে তিনি দাউদ সরদারের বাড়িতে গৃহপরিচারিকার কাজ করতেন। ওই সময় তাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ করেন দাউদ। লাগাতার ধর্ষণের ফলে আল-আমীনের জন্ম হয়। প্রথমে দাউদ অস্বীকার করলেও ডিএনএ টেস্টের মাধ্যমে আদালতে প্রমাণ হয় আল আমীন দাউদের সন্তান। আদালতের নির্দেশে একপর্যায়ে দাউদ তামান্নাকে স্ত্রী হিসেবে স্বীকৃতি দিলেও পরে তাদের বিচ্ছেদ হয়। 

শিশুটির নানি সাকিরন বলেন, একই গ্রামের দাউদ সরদার তার মেয়েকে ধর্ষণ করে। এতে আল আমীনের জন্ম হয়। পরে এই ঘটনায় মামলা হওয়ায় আদালতের নির্দেশে ডিএনএ পরীক্ষায় দাউদ সরদার শিশুটির বাবা প্রমাণিত হয়। পরে আমার মেয়েকে অন্য যায়গায় বিয়ে দিই। মেয়ে এখন অন্য গ্রামে থাকে।

তিনি আরো বলেন, গত ৭ অক্টোবর রাতে আল আমীনকে নিয়ে তিনি ঘুমিয়ে ছিলাম। রাত একটার দিকে আল আমীনের চিৎকারে তার ঘুম ভাঙে। তখন দেখেন, বিছানার একপাশে আগুন জ্বলছে। তাড়াতাড়ি পানি দিয়ে আগুন নিভিয়ে আল আমীনকে নিয়ে হাসপাতালে যাই। সেখানে চিকিৎসকরা আল আমীনকে মৃত ঘোষণা করেন।

অভিযোগ অস্বীকার করে দাউদ সরদার বলেন, এ ঘটনা মীমাংসার জন্যে তামান্নার মা সাকিরনকে তিনি টাকা দিয়েছেন। আল আমীনের সব খরচ বহন করার দায়িত্ব নিয়েছেন তিনি। প্রতিমাসে সন্তানের ভরণপোষণের জন্যে খরচও দেন। বেশ কিছুদিন আগে সাকিরন তার কাছে ১০ লাখ টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকার করায় আল-আমীনকে পুড়িয়ে মেরে তাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছেন সাকিরন।

বাঁকড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এসআই হাবিবুর রহমান জানান, অভিযোগ পেয়ে নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্যে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হয়। ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে জানা গেছে, আগুনে পুড়ে মৃত্যু হয়েছে আল আমীনের। মামলার তদন্তভার পেয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তদন্ত চলছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএস/টিআরএইচ