‘আল্লাহ তুমি ওই ডাইনির বিচার কইরো’ 

ঢাকা, রোববার   ২৯ নভেম্বর ২০২০,   অগ্রহায়ণ ১৫ ১৪২৭,   ১২ রবিউস সানি ১৪৪২

নির্যাতনে গৃহকর্মী সাদিয়ার মৃত্যু

‘আল্লাহ তুমি ওই ডাইনির বিচার কইরো’ 

শেরপুর প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ০০:০১ ২৪ অক্টোবর ২০২০   আপডেট: ০০:০৩ ২৪ অক্টোবর ২০২০

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

‘আল্লাহ তুমি ওই ডাইনির বিচার কইরো, কী অপরাধ করছিল আমার মাইয়া। দুইডা ভাতের লাইগা শাকিলের বাড়িত কাজে দিছিলাম। আর শাকিলের বউ ঝুমুর আমার মাইয়াডারে নির্যাতন কইরা মাইরা হালাইল।’ 

নির্যাতনের শিকার গৃহকর্মী সাদিয়ার মৃত্যুর পর তার মা আনোয়ারা বেগম এভাবেই চিৎকার করে আহাজারি করছিলেন আর মেয়ে হত্যার বিচার চেয়ে ওইসব কথা বলছিলেন। 

শুক্রবার সন্ধ্যায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় গৃহকর্মী সাদিয়া। সে শ্রীবরদী পৌরশহরের মুন্সীপাড়া এলাকার হতদরিদ্র ট্রলি চালক সাইফুল ইসলামের মেয়ে। 

গত ২৬ সেপ্টেম্বর শ্রীবরদী উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক আহসান হাবিব শাকিলের বাসভবন থেকে রাত দেড়টার দিকে গুরুতর আহত অবস্থায় পুলিশ উদ্ধার করে শিশু সাদিয়াকে। 

শাকিলের স্ত্রী রুমানা জামান ঝুমুর শিশুটিকে নানা অজুহাতে নির্যাতন করতেন। এক পর্যায়ে নির্যাতনের মাত্রা এতটাই বেড়ে যায় যে, শিশুটির গায়ের বিভিন্ন স্থানে গরম ছ্যাঁকা দেয়া থেকে শুরু করে গোপনাঙ্গে পর্যন্ত আঘাত করা হয়। নির্যাতনের ফলে তার মাথায় ব্যাপক ক্ষতের সৃষ্টি হয়। পিঠে আগুনের ছ্যাঁকায় ঘা সৃষ্টি হয়। ওই দিন গভীর রাতে নির্যাতনের শিকার শিশুটির আর্তনাদ শুনে প্রতিবেশীরা ৯৯৯ ফোন করেন। পরে পৌর শহরের বিথি টাওয়ারের ৬ তলায় শাকিলের ভাড়া বাসা থেকে পুলিশ উদ্ধার করে শিশুটিকে। 

উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রথমে শেরপুর জেলা হাসপাতাল ও পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় শিশুটিকে। এ ঘটনায় শিশুর বাবা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে শ্রীবরদী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। গ্রেফতারের পর আদালতের মাধ্যমে আসামি ঝুমুরকে কারাগারে পাঠানো হয়। 

শ্রীবরদী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আশরাফ হোসেন খোকা জানান, ছেলে শাকিলের সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই। অনেক আগে তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়া হয়েছিল। 

শ্রীবরদী থানার ওসি রুহুল আমিন তালুকদার বলেন, মেয়েটিকে আমানষিক নির্যাতন করা হয়েছে। এর ফলে শুক্রবার শিশুটি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। 

তিনি আরো বলেন, নির্যাতনের ঘটনায় শিশুর বাবা বাদী হয়ে থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করেন। সেই মামলায় গৃহকর্ত্রী ঝুমুর বর্তমানে জেলা কারাগারে আছেন। শিশু সাদিয়া মারা যাওয়ায় মামলাটি এখন হত্যা মামলায় রুপান্তরিত হবে।  

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে