পোকার আক্রমণে দিশেহারা কৃষক

ঢাকা, শনিবার   ২৮ নভেম্বর ২০২০,   অগ্রহায়ণ ১৪ ১৪২৭,   ১১ রবিউস সানি ১৪৪২

পোকার আক্রমণে দিশেহারা কৃষক

ইউনুছ আলী আনন্দ, কুড়িগ্রাম ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১১:৩২ ২৩ অক্টোবর ২০২০   আপডেট: ১১:৩৩ ২৩ অক্টোবর ২০২০

পোকার আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত ধানক্ষেত

পোকার আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত ধানক্ষেত

কুড়িগ্রামে আমন ধানক্ষেতে মাজরা পোকা, ধান গাছ কেটে দেয়া কারেন্ট পোকা ও ধান গাছের মাজা খাওয়ার পাপড়ি পোকার আক্রমণে দিশেহারা হয়েছে কৃষক। এসব পোকার আক্রমণের কারণে এবার এখানে ফসল উৎপাদান ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। এর ফলে তাদের পারিবারিক খাদ্য জোগানের সংকট দেখা দিতে পারে এমনটিই আশঙ্কা করছেন তারা।

জানা যায়, এবার কুড়িগ্রামের ৯টি উপজেলায় পরপর পঞ্চম দফার বন্যার পানিতে ডুবে নষ্ট হয়ে যায় নিম্নাঞ্চলের কৃষকের আমন ক্ষেত। অনেক চেষ্টা চালিয়েও পরিবারের খাবারের প্রধান মাধ্যম ধানক্ষেত রক্ষা পারেনি এখানকার কৃষক। 

নিম্নাঞ্চলে বন্যায় আমন ধান ক্ষেত নষ্ট হলেও উঁচু স্থানের আমন ক্ষেত নষ্ট হয়নি। কিন্তু বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে এখানে বড় ধরনের বৃষ্টি না হয়ে কয়েক সপ্তাহ ধরে খরা বিরাজ করায় আমনক্ষেতে দেখা দেয় তীব্র পোকার আক্রমণ। 

পোকার আক্রমণে এখানকার সবুজের আমন ধানক্ষেত এখন সাদা হয়ে যাচ্ছে। কোনো কোনো ধান ক্ষেত আগুনের পোড়ার মতো রঙ ধারণ করেছে। এখানকার ভুক্তভোগী কৃষকরা স্থানীয় কৃষি বিভাগের পরামর্শ না পেলেও বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির শরণাপন্ন হচ্ছেন। কৃষকরা ওষুধ কোম্পানির কাছ থেকে পরামর্শ নিয়ে তারা ক্ষেতে ওষুধ স্প্রে করে ফসল বাঁচানোর চেষ্টা করছেন। তবে ওষুধ স্প্রে করে কারো সীমিত কাজ হলেও আবার কারো কাজেই আসছে না।

বড়ভিটা ইউপির ঘোগারকুটি গ্রামের কৃষক কীর্তি চন্দ্র বর্মণ বলেন, তাদের ৭ বিঘা আমন ক্ষেতে মাজরা পোকা, ধান গাছ কেটে দেয়া কারেন্ট পোকার আক্রমণ করেছে। স্থানীয় কৃষি বিভাগের পরামর্শ এখনো তারা পাননি।

তিনি বলেন, বায়ার ওষুধ কোম্পানির লোকজন তাদের ক্ষেত দেখে তাদের কোম্পানির ওষুধ স্প্রে করার পরামর্শ দিয়েছেন। তাদের পরামর্শে তিনি এখন তার আমন ক্ষেতে ওষুধ স্প্রে করছেন। তবে এসব ক্ষেতে ধানের উৎপাদন তেমন ভালো হবে না।

নাগেশ্বরী পৌর এলাকার সাপখাওয়া গ্রামের কৃষক আব্দুর রহমান বলেন, কৃষকের এবার শান্তি নেই। দফায় দফায় বন্যায় আমন ধান বাঁচানোর চেষ্টা করে নাজেহাল হয়েছি। বন্যার পর আমন ক্ষেতে মাজরা পোকা, ধান গাছ কেটে দেয়া কারেন্ট পোকা ও ধান গাছের মাজা খাওয়ার পাপড়ি পোকার আক্রমণে আমরা এখন দিশেহারা।

তিনি আরো বলেন, এবার আমন ফসলের উৎপাদন ভালো না হলে পারিবারিক খাদ্য সংকটে পড়ার আশঙ্কা করছি। 

এ প্রসঙ্গে স্থানীয় কৃষি অফিসের উপ-সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা শাহনাজ লাইজু বলেন, কুড়িগ্রামে বর্তমানে রাতে কুয়াশা ও দিনে রোদের কারণে আমন ধানের গোড়া স্যাঁতস্যাঁতে থাকায় ধানক্ষেতে পোকার আক্রমণ হচ্ছে। এ রোগ সম্পর্কে সচতেনতা ও কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রাসারণ অধিদফতরের দেয়া প্রতিষেধক ব্যবস্থার লিফলেট কৃষকের মাঝে বিতরণ করা হচ্ছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ