জামালপুরে কাজির বিরুদ্ধে মামলা করে উল্টো বিপাকে কনের বাবা

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ০৩ ডিসেম্বর ২০২০,   অগ্রহায়ণ ১৯ ১৪২৭,   ১৬ রবিউস সানি ১৪৪২

কাবিননামা জালিয়াতি

জামালপুরে কাজির বিরুদ্ধে মামলা করে উল্টো বিপাকে কনের বাবা

জামালপুর প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৭:৫৮ ২২ অক্টোবর ২০২০  

আসল ও নকল কাবিননামা

আসল ও নকল কাবিননামা

জামালপুরের মাদারগঞ্জে কাজির বিরুদ্ধে জালিয়াতির মাধ্যমে ভুয়া কাবিননামা তৈরির অভিযোগে আদালতে মামলা করে উল্টো বিপাকে পড়েছেন কনের বাবা। প্রতারক কাজিকে রক্ষা করতে প্রভাবশালী আসামিরা মামলা প্রত্যাহারের জন্য তাকে চাপ প্রয়োগ ও হুমকি দিচ্ছে। এ ঘটনায় নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তার জন্য মাদারগঞ্জ থানায় জিডি করেছেন তিনি।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৫ সালের ৮ ডিসেম্বর ওই উপজেলার গুনারীতলা গ্রামের হাফিজুর রহমান তার মেয়ে হিমি আক্তারকে মেলান্দহ উপজেলার শাহজাতপুরের সুজন মিয়ার ছেলে সৈকত হাসান আকাশের কাছে বিয়ে দেন। গুনারীতলা ইউপির ৬, ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের নিকাহ্ রেজিস্ট্রার (কাজি) ফজলুল হক প্রমাণিকের মাধ্যমে সাড়ে চার লাখ টাকা দেনমোহরে বিয়ে রেজিস্ট্রি করা হয়। হাফিজুর বিয়ের সময় যৌতুক হিসেবে ৩ লাখ টাকা ও গয়নাসহ প্রায় পাঁচ লাখ টাকা মালামাল দেন।

বিয়ের দুই বছর না যেতেই ফের যৌতুকের দাবিতে হিমির ওপর নির্যাতন শুরু করে স্বামী আকাশ। স্বামী-শাশুড়ির নির্যাতন করে তাড়িয়ে দেয় হিমিকে। নিরুপায় হয়ে মাদারগঞ্জ থানায় নারী ও নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন হিমির বাবা হাফিজুর রহমান। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় মামলাটি জামালপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠায় পুলিশ। বিচারক বাদি ও স্বাক্ষীদের জবানবন্দি রেকর্ডের পর আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।

হিমি-আকাশের বিয়ের আসল কাবিননামা

এজাহারে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, এ যৌতুক ও মামলা থেকে রেহাই পেতে আসামিরা কাজিফজলুল হক প্রমাণিককে ঘুষ দিয়ে আগের কাবিননামা রেখেই কনে ও স্বাক্ষীদের স্বাক্ষর জাল করে দেড় লাখ টাকা দেনমোহরের ভুয়া কাবিননামা তৈরি করায়। ভুয়া কাবিননামার খবর জানতে পেরে হিমির বাবা হাফিজুর রহমান কাজির কাছে বাড়িতে গেলে তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। একইসঙ্গে এ ঘটনায় আইনের আশ্রয় না নেয়ার জন্য হুমকি দেয়।

কাজির বিরুদ্ধে প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগে মাদারগঞ্জ আমলী আদালতে মামলা করেন প্রতারণার শিকার হাফিজুর রহমান। বিচারক মামলাটি তদন্ত করে ১১ নভেম্বরের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য জেলা রেজিস্ট্রারকে নির্দেশ দেন।

হিমির স্বামী আকাশের যোগসাজশে কাজি ফজলুল হকের তৈরি করা নকল কাবিননামা

বাদী হাফিজুর রহমান বলেন, মামলা করায় আমার মেয়ের স্বামী সৈকত হাসান আকাশ ও কাজি ফজলুল হকসহ অন্য আসামিরা ক্ষিপ্ত হয়ে মামলা তুলে নেয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করছে। এছাড়া মোবাইলে ও বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছে। অব্যাহত চাপ ও হুমকিতে আমি ও আমার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। এ কারণে পুলিশের সহায়তা চেয়ে মাদারগঞ্জ থানায় জিডি করেছি।

কাবিননামা জালিয়াতির বিষয়ে নিকাহ রেজিস্ট্রার ফজলুল হকের কাছে জানতে চাইলে তিনি কোনো সদুত্তর না দিয়ে জালিয়াতি ও হুমকির বিষয়টি এড়িয়ে যান এবং কল কেটে দেন।

জামালপুর জেলা রেজিস্ট্রার মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আদালতের নির্দেশ হাতে পেয়েছি। তদন্তের প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। আমার বদলির আদেশ আসায় তদন্ত আপাতত স্থগিত রয়েছে। পরবর্তী কর্মকর্তা তদন্তের বিষয়টি দেখবেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/এআর