যে কারণে ৬ জনকে সঙ্গে নিয়ে মাকে টুকরো করে ছেলে

ঢাকা, শনিবার   ২৮ নভেম্বর ২০২০,   অগ্রহায়ণ ১৪ ১৪২৭,   ১১ রবিউস সানি ১৪৪২

যে কারণে ৬ জনকে সঙ্গে নিয়ে মাকে টুকরো করে ছেলে

নোয়াখালী প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৫:৩৪ ২২ অক্টোবর ২০২০   আপডেট: ১৯:৫০ ২২ অক্টোবর ২০২০

হুমায়ুন কবির

হুমায়ুন কবির

ছয়জনের সহায়তায় মাকে হত্যা করে টুকরো টুকরো করে ছেলে। শুধু তাই নয় হত্যার পর মরদেহকে পাঁচ টুকরো করে জমিতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে দেয় হত্যাকারীরা।

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টায় নোয়াখালী জেলা পুলিশের সভাকক্ষে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন এক সংবাদ সম্মেলনে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনের বিস্তারিত জানান।

তিনি জানান, ৬ অক্টোবর রাতে নূরজাহান হত্যার পর মরদেহকে ৫ টুকরো করে জমিতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে দেয় ছেলে হুমায়ুন কবির। পরদিন নিজেই বাদী হয়ে চরজব্বার থানায় একটি মামলা করে। পুলিশ তাৎক্ষণিক নীরব নামে একজনকে গ্রেফতার করে। এরপর নীরবের দেয়া তথ্য অনুযায়ী স্থানীয় এক কসাইকে গ্রেফতার করে। এক পর্যায়ে তাদের দেয়া তথ্যে নিহতের ছেলে ও মামলার বাদী হুমায়ুন কবিরকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে হুমায়ুনের স্বীকারোক্তিতে পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার নীরব ও কসাই নূর ইসলাম আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে। ইসমাইল ও হামিদ নামে অন্য দুই আসামি এখনো পলাতক রয়েছে।

হত্যার দায় স্বীকার করে গ্রেফতাররা জানায়, নিহত নূরজাহানের আগের ঘরের ছেলে বেলালের চার লাখ টাকা ঋণ ছিল। সেই ঋণ শোধ না করেই মারা যান তিনি। বিষয়টি নিয়ে নূরজাহানের সঙ্গে প্রায়ই বাকবিতণ্ডা হতো তার বর্তমান স্বামীর ঘরের ছেলে হুমায়ুন কবিরের। এরই জেরে ৬ অক্টোবর রাতে ছয়জনকে সঙ্গে নিয়ে মাকে প্রথমে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করে হুমায়ুন। পরে মরদেহ পাঁচ টুকরো করে পার্শ্ববর্তী একটি ধানক্ষেতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখে।

স্থানীয়রা জানায়, হুমায়ুন মাদকাসক্ত ছিল। মাদকের টাকার জন্য প্রায় রাতেই নূরজাহানের সঙ্গে ঝগড়া করতো হুমায়ুন। এমনকি মায়ের গায়েও হাত তুলতো সে। তার বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসারও অভিযোগ রয়েছে।

 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএস/এআর