রক্তভেজা চিরকুটে তিন প্রিয়জনের কথা লিখে যান এমরুল

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ০৩ ডিসেম্বর ২০২০,   অগ্রহায়ণ ১৯ ১৪২৭,   ১৬ রবিউস সানি ১৪৪২

রক্তভেজা চিরকুটে তিন প্রিয়জনের কথা লিখে যান এমরুল

রাজশাহী প্রতিনিধি  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৭:৪২ ২১ অক্টোবর ২০২০  

রক্তভেজা চিরকুটে তিন প্রিয়জনের কথা লিখে যান এমরুল-সংগৃহীত ছবি।

রক্তভেজা চিরকুটে তিন প্রিয়জনের কথা লিখে যান এমরুল-সংগৃহীত ছবি।

রেললাইনে পড়েছিল বিচ্ছিন্ন মাথা। বাইরে ছিল মরদেহ। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হয় আংশিক রক্তভেজা দুটি চিরকুট। একটিতে লেখা ছিল মৃত্যুর পর যোগাযোগ করার নম্বর। অপরটিতে লেখা ছিল দাফনের জন্য নির্ধারিত কবরস্থানের নাম। লেখা ছিল তিন প্রিয়জনের কথাও। 

বুধবার সকালে রাজশাহী নগরীর বিলশিমলা বন্ধগেট এলাকা থেকে এমরুল হাসানের খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করেছে রেলওয়ে পুলিশ। সেই মরদেহের পোশাকের পকেটে মিলেছিল আংশিক রক্তেভেজা দুটি চিরকুট।

এমরুল হাসান চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার বোয়ালিয়া ইউপির ঘাটনগর ফিটু মিয়ার ছেলে।

উদ্ধার হওয়া দুটি চিরকুটের একটিতে এমরুল লিখেছেন, আমার জীবনে আমার আপনজন আমার বেটি (মেয়ে) ও স্ত্রী। তিনজন আমার প্রিয়। আমাকে আর ভালো লাগছে না। আমার লেখা কাগজ দুইটা আমার স্ত্রীকে দেবেন। কাগজের ফটোকপি পুলিশকে দেবেন। কাগজের মেইন কপি দুইটা আমার স্ত্রীকে দেবেন। কে তার কাছে কত টাকা পাবে তাও চিরকুটে লিখে যান এমরুল।

এমরুলের পকেট থেকে উদ্ধার হওয়া একটি চিরকুটে লেখা রয়েছে, জালাল, কালাম ও তাদের ছেলে রানা আমার হাত ও পা ভেঙেছে। এই কষ্টে আমি জ্বলে পুড়ে যাচ্ছিলাম।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে এমরুল ক্র্যাচে ভর দিয়ে রেললাইনের পাশ ধরে হাঁটছিলেন। ওই সময় রাজশাহী থেকে রহনপুরগামী কমিউটার ট্রেনটি ওই এলাকা পার হচ্ছিলো।

ট্রেনটি খুব কাছে চলে এলেই এমরুল রেললাইনে মাথা দেন। এতে তার মাথা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। রেললাইনের পাশে পড়ে থাকে এমরুলের দেহ আর তার ক্র্যাচ।

নিহত এমরুলের স্ত্রী আয়েশা বেগম জানান, গত সোমবার চিকিৎসার জন্য তারা রাজশাহী এসেছেন। নগরীর তেরোখাদিয়া এলাকায় তারা তার বোনের বাড়িতে ওঠেন। সকালে চা পান করতে বের হচ্ছেন জানিয়ে বাড়ি ছাড়েন এমরুল। এরপর তিনি রেললাইনে মাথা পেতে আত্মহত্যা করেন। পরে পুলিশ চিরকুটে থাকা তার বোনের নম্বরে ফোন করে বিষয়টি অবহিত করে।

আয়েশা জানান, প্রায় পাঁচ মাস আগে জালাল ও কালামরা তাদের জমি দখল করে বাড়ি করেছেন। এমরুল বাধা দিতে গেলে পিটিয়ে তার হাত ও পা ভেঙে দেয়া হয়। তার স্বামীকে ক্র্যাচে ভর দিয়ে চলতে হতো।

জমি দখলের বিষয়ে মামলা করলেও হাত-পা ভাঙার কারণে দৌড়াদৌড়ি করতে পারতেন না তার স্বামী। সে কারণে জমিও উদ্ধার করতে পারেননি। ক্ষোভে তার স্বামী আত্মহত্যা করেছেন।

রাজশাহী রেলওয়ে থানার ওসি শাহ কামাল জানান, এমরুলের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকেএ