আলু নিয়ে যত কারসাজি সিন্ডিকেটের

ঢাকা, বুধবার   ০২ ডিসেম্বর ২০২০,   অগ্রহায়ণ ১৮ ১৪২৭,   ১৫ রবিউস সানি ১৪৪২

আলু নিয়ে যত কারসাজি সিন্ডিকেটের

নাদিম হোসাইন, মুন্সিগঞ্জ ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৭:৩৪ ২১ অক্টোবর ২০২০  

বস্তায় আলু ভরছে কর্মচারীরা

বস্তায় আলু ভরছে কর্মচারীরা

মুন্সিগঞ্জের ছয়টি উপজেলার কোল্ড স্টোরেজগুলোতে পর্যাপ্ত পরিমাণ আলু সংরক্ষণ থাকা সত্ত্বেও বাড়ছে দাম। যার প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারেও। সবমিলিয়ে ভোক্তাদের নাভিশ্বাস অবস্থা।

কোল্ড স্টোরেজ কর্তৃপক্ষ ও মধ্যস্বত্বভোগীদের সিন্ডিকেটেই আলুর দাম বাড়ছে বলে কানাঘুষা চলছে। আলু উত্তোলনের শুরুতে জমি থেকে চাষিদের কাছ থেকে আলু কিনে নেন পাইকাররা। এরপর পাইকাররা কোল্ড স্টোরেজে সংরক্ষণ করেন।

চলতি বছরের এপ্রিল থেকেই আলুর দাম বাড়তে থাকে। তবে আগামী মাস থেকে চলতি মৌসুমের আলু চাষাবাদে জমিতে নামবেন কৃষকরা। আর এ সময়ে আলুর দাম আকাশ ছোঁয়া। এ নিয়ে ভোক্তাদের মাঝে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে।

এদিকে, সরকার নির্ধারিত মূল্যে আলু বিক্রি করতে ব্যবসায়ীদের চাপও দিচ্ছে প্রশাসন। কিন্তু মুন্সিগঞ্জে খুচরা বাজারে আলুর দাম নিয়ন্ত্রণে আসেনি। ৪৫ টাকা কেজিতেই আলু বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ ভোক্তাদের।

চার-পাঁচদিন আগেও জেলার বিভিন্ন খুচরা বাজারে প্রতিকেজি আলুর দাম ছিল ৫০-৫৫ টাকা। এর পরেই আলুর দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে খুচরা প্রতিকেজি ৩০ টাকা, পাইকারি ২৫ টাকা ও হিমাগারে ২৩ টাকা নির্ধারণ করে দেয় সরকার।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, মুন্সিগঞ্জে এবার সাড়ে ৩৭ হাজার হেক্টর জমিতে ১৩ লাখ ২৭ হাজার ২৭ মেট্রিক টন আলু উৎপাদন হয়েছে। যা গত বছরের চেয়ে বেশি। জেলায় বর্তমানে ৬৫টি সচল থাকা হিমাগারে ধারণ ক্ষমতা সাড়ে ৫ লাখ মেট্রিক টন। হিমাগারগুলোতে এখনো মজুত রয়েছে এক লাখ ৭৭ হাজার মেট্রিক টন আলু।

আলু বিক্রেতা জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, তিন-চারদিন আগে কেজিতে ৩৮ থেকে ৪০ টাকা দিয়ে আলু কেনা হয়েছে স্থানীয় হিমাগার থেকে। এখন সেই আলু ৩০ টাকা প্রতিকেজি বিক্রি করলে ক্ষতি হয়ে যাবে। এমতাবস্থায় ৪৫ টাকা দিয়ে প্রতিকেজি বিক্রি করতে হচ্ছে।

স্থানীয় বাজারের বিক্রেতারা জানান, সরকার থেকে বেঁধে দেয়া আলুর দাম এখন রাখা হলে লোকসান হয়ে যাবে। চার-পাঁচদিন আগে কেনা এসব আলু গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ১০-১২ টাকা পর্যন্ত লোকসান হয়ে যাবে কেজিপ্রতি আলুতে।

ব্যবসায়ীরা জানান, এক সপ্তাহের মধ্যে মজুত করা আলু স্বাভাবিকভাবে বাজারজাত করতে তাগিদ দিচ্ছে প্রশাসন। তাদের দাবি, করোনার সময়ে ত্রাণের জন্য ২০-২৫ টাকা দরে আলু বিক্রি হয়েছে। এখন ২০৫০-২২০০ টাকা প্রতি বস্তা কেনা হয়েছে। কিন্তু সরকার নির্ধারিত দামে ১১০০-১২০০ টাকায় বিক্রি করতে বলা হচ্ছে।

জেলা শহরের মুক্তারপুর এলাকার এলাইড হিমাগারের ম্যানেজার আতাউর রহমান বলেন, প্রতিকেজি আলু ২৩ টাকা দরে বাজারজাত করতে তাগিদ দিচ্ছে প্রশাসন। হিমাগার কর্তৃপক্ষ এসব আলুর মালিক নয়। মজুত করা আলুর অর্ধেক আছে বীজ আলু। কয়েক দফা হাত ঘুরে আলুর দাম বাড়ছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ শাহ আলম বলেন, জেলায় ৬৫টি হিমাগার রয়েছে। হিমাগারগুলোতে এখনো মজুত রয়েছে এক লাখ ৭৭ হাজার মেট্রিক টন আলু। এখনো কোল্ড স্টোরেজগুলোতে পর্যাপ্ত আলু রয়েছে।

তিনি বলেন, বাজারে চাহিদার তুলনায় সবজি কিছুটা কম। এটাকে কাজে লাগিয়ে মধ্যস্বত্বভোগীদের সিন্ডিকেটরাই আলুর দাম বাড়াচ্ছে। আলুতে কোনো ঘাটতি ছিল না। অন্যান্য সবজির দাম বেড়ে যাওয়ায় সুযোগটা নিচ্ছেন কিছু অসাধু ব্যবসায়ী।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শিহাবুল আরিফ বলেন, সরকার নির্ধারিত মূল্য মেনে না চললে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে। বর্তমানে যে সংকট তা মজুত করে সরবরাহ করা হচ্ছে না। আলুর স্বাভাবিক সরবরাহ বজায় থাকলে সংকট তৈরি হবে না।

মুন্সিগঞ্জের ডিসি মো. মনিরুজ্জামান তালুকদার বলেন, জেলায় এ বছর আলুর বাম্পার ফলন হয়েছে। চাষিরাও এতে লাভবান হয়েছেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে আলুর দাম বাড়ায় খুবই আলোচনায় এসেছে। যার কোনো কারণ আমরা দেখছি না। কিছু ব্যবসায়ীর সিন্ডিকেটের কারণে আলুর দাম বাড়ছে। তবে সরকার আলুর মূল্য নির্ধারণ করে দিয়েছে। নির্ধারিত দামে বিক্রি না করলে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর