চিরকুটটি ছিল রক্তে ভেজা, লেখা ছিল দেনা-পাওনা, দাফন সবই 

ঢাকা, বুধবার   ০২ ডিসেম্বর ২০২০,   অগ্রহায়ণ ১৮ ১৪২৭,   ১৫ রবিউস সানি ১৪৪২

চিরকুটটি ছিল রক্তে ভেজা, লেখা ছিল দেনা-পাওনা, দাফন সবই 

রাজশাহী প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৭:১২ ২১ অক্টোবর ২০২০   আপডেট: ১৭:১৫ ২১ অক্টোবর ২০২০

উদ্ধার হওয়া চিরকুট--ছবি সংগৃহীত

উদ্ধার হওয়া চিরকুট--ছবি সংগৃহীত

মৃত্যুর পর কোন মোবাইল নম্বরে ফোন করে খবর দেয়া যাবে। চিরকুটে দেয়া আছে সে মোবাইল নাম্বার। তার মরদেহ কোন কবরস্থানে দাফন করা হবে সেটিও উল্লেখ করা আছে। 

বুধবার সকালে রাজশাহী নগরীর বিলশিমলা বন্ধগেট এলাকা থেকে খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করেছে রেলওয়ে পুলিশ। সেই মরদেহের পরিহিত পোশাকের পকেট থেকে আংশিক রক্তে ভেজা দুটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়েছে। তাতে এসব লেখা রয়েছে।

এরইমধ্যে মৃত ব্যক্তির পরিচয় পাওয়া গেছে। তার নাম এমরুল হাসান। বয়স আনুমানিক ৪০। চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার বোয়ালিয়া ইউপির ঘাটনগর ফিটু মিয়ার ছেলে।

এমরুলের পকেট থেকে উদ্ধার হওয়া ওই চিরকুটে আরো লেখা রয়েছে, জালাল, কালাম ও তাদের ছেলে রানা আমার হাত ও পা ভেঙেছে। এই কষ্টে আমি জ্বলে পুড়ে যাচ্ছিলাম। কে তার কাছে কত টাকা পাবে।দুর্ঘটনাস্থল

উদ্ধার হওয়া দুটি চিরকুটের একটিতে এমরুল লিখেছেন, আমার জীবনে আমার আপনজন আমার বেটি (মেয়ে) ও স্ত্রী। তিনজন আমার প্রিয়। আমাকে আর ভালো লাগছে না। আমার লেখা কাগজ দুইটা আমার স্ত্রীকে দেবেন। কাগজের ফটোকপি পুলিশকে দেবেন। কাগজের মেইন কপি দুইটা আমার স্ত্রীকে দেবেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে এমরুল ক্র্যাচে ভর দিয়ে রেললাইনের পাশ ধরে হাঁটছিলেন। ওই সময় রাজশাহী থেকে রহনপুরগামী কমিউটার ট্রেনটি ওই এলাকা পার হচ্চিলো।

ট্রেনটি খুব কাছে চলে এলেই এমরুল রেললাইনে মাথা দেন। এতে তার মাথা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। রেললাইনের পাশে পড়ে থাকে এমরুলের দেহ আর তার ক্র্যাচ।

নিহত এমরুলের স্ত্রী আয়েশা বেগম জানান, গত সোমবার চিকিৎসার জন্য তারা রাজশাহী এসেছেন। নগরীর তেরোখাদিয়া এলাকায় তারা তার বোনের বাড়িতে ওঠেন। সকালে চা পান করতে বের হচ্ছেন জানিয়ে বাড়ি ছাড়েন এমরুল। এরপর তিনি রেললাইনে মাথা পেতে আত্মহত্যা করেন। পরে পুলিশ চিরকুটে থাকা তার বোনের নম্বরে ফোন করে বিষয়টি অবহিত করে।

আয়েশা জানান, প্রায় পাঁচ মাস আগে জালাল ও কালামরা তাদের জমি দখল করে বাড়ি করেছেন। এমরুল বাধা দিতে গেলে পিটিয়ে তার হাত ও পা ভেঙে দেয়া হয়। তার স্বামীকে ক্র্যাচে ভর দিয়ে চলতে হত।

জমি দখলের বিষয়ে মামলা করলেও হাত-পা ভাঙার কারণে দৌড়াদৌড়ি করতে পারতেন না তার স্বামী। সে কারণে জমিও উদ্ধার করতে পারেননি। ক্ষোভে তার স্বামী আত্মহত্যা করেছেন।

রাজশাহী রেলওয়ে থানার ওসি শাহ কামাল জানান, এমরুলের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ নিয়ে আইনত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ