‘শ্রীলংকায় জন্ম নিয়ে আমি কী ভুল করেছি?’

ঢাকা, রোববার   ২৫ অক্টোবর ২০২০,   কার্তিক ১১ ১৪২৭,   ০৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

‘শ্রীলংকায় জন্ম নিয়ে আমি কী ভুল করেছি?’

স্পোর্টস ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৭:৪৯ ১৮ অক্টোবর ২০২০   আপডেট: ১৮:০৭ ১৮ অক্টোবর ২০২০

মুত্তিয়া মুরালিধরণ

মুত্তিয়া মুরালিধরণ

বিখ্যাত ক্রিকেটারদের জীবনী নিয়ে বায়োপিক তৈরি করা ভারতে এক প্রকার চল হয়ে গেছে। নিজ দেশের কয়েকজনকে নিয়ে বানানোর পর এবার শ্রীলংকান কিংবদন্তি মুত্তিয়াহ মুরালিধরণকে নিয়ে বায়োপিক তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে দেশটির এক প্রযোজনা সংস্থা। তবে এরই মধ্যে তা নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক। এবার এই প্রসঙ্গে মুখ খুলেছেন মুরালিধরণ নিজেই।

মোহাম্মদ আজহারউদ্দিন, এম এস ধোনির জীবন নিয়ে তৈরি বায়োপিকগুলো সবাই সাদরে গ্রহণ করেছে। মূলত দক্ষিণ ভারতে বিতর্কের মুখে পড়েছে মুরালির বায়োপিক। সেখানে বলা হচ্ছে, ছবিতে নাকি দেখানো হয়েছে, শ্রীলংকায় সংখ্যালঘু তামিলদের উপর অত্যাচারে কিংবদন্তি এই স্পিনারের সমর্থন ছিল। এই কারণে '‌৮০০'‌ সিনেমাটি বয়কট করারও দাবি উঠেছে। এমনকি এই ছবিতে মুরালির ভূমিকায় বিজয় সেতুপাথি অভিনয় করায় তাকেও আক্রমণের শিকার হতে হচ্ছে। 

এমন ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন মুরালিধরন। সেখানে তিনি বলেন, আমি এক যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে বড় হয়েছি। যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে যে ভয়াবহতা ও বেদনা সৃষ্টি হয়েছিল আমি সেটাই সকলের সঙ্গে ভাগ করতে চাই। 

তিনি আরো বলেন, আমরা শ্রীলংকায় ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে যুদ্ধের মাঝে থেকেছি। আমি কীভাবে ক্রিকেট দলে যোগ দিতে পেরেছি এবং কঠিন পরিস্থিতিতে থেকেও কীভাবে নিজেরা সাফল্যের স্বাদ পেয়েছি, সেই গল্পই '৮০০' ছবিতে বলা হয়েছে। শ্রীলংকায় জন্ম নিয়েছি বলে কী আমি ভুল করেছি? আমি আমার জীবনের গল্প তুলে ধরতে পারব না?

ঘটনাটিকে ব্যাখ্যা করে মুরালিধরণ বলেন, ২০১৯ সালে আমি বলেছিলাম যে আমার জীবনের সবচেয়ে সুখের বছর ছিল ২০০৯ সাল। লোকেরা মনে করেন ওই বছরে আমাদের দেশে তামিলদের হত্যা করা নিয়ে যে খবর ছড়িয়েছিল, সেই ঘটনাকে সমর্থন করে আমি ওই বছরটিকে সুখের বছর বলেছি। কিন্তু আপনি একটি সাধারণ মানুষের দৃষ্টিকোণ থেকে চিন্তা করুন। আমি যুদ্ধকালীন সময়ে বড় হয়েছি, অনেক কষ্টে সাফল্য অর্জন করেছি। আমি কীভাবে তা সমর্থন করব?

এই কিংবদন্তি ক্রিকেটার আরো বলেন, এমনও হয়েছে স্কুলে গিয়ে আমি খোঁজ নিতাম, যারা গতকালও আমার সঙ্গে গল্প করেছিল তারা আজ বেঁচে আছে কিনা। একজন সাধারণ নাগরিক হিসাবে আমি সবার সুরক্ষা সম্পর্কে ভেবেছিলাম। আমি হলফ করে বলতে পারি, গত ১০ বছরে উভয় পক্ষে কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। এই কারণেই আমি বলেছিলাম যে ২০০৯ সালটি আমার জীবনের সবচেয়ে সুখের বছর। আমি কখনোই নিরীহ মানুষ হত্যার পক্ষে সমর্থন করিনি। ভবিষ্যতেও কখনো এই জাতীয় কাজ সমর্থন করব না।

ডেইলি বাংলাদেশ/এএল