পড়তে এসে যে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রকৃতির পরশ পাওয়া যায়

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২৯ অক্টোবর ২০২০,   কার্তিক ১৪ ১৪২৭,   ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

পড়তে এসে যে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রকৃতির পরশ পাওয়া যায়

রুমান হাফিজ, চবি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৬:৫৮ ১৮ অক্টোবর ২০২০  

শাটলের জানালার বাইরে কাশফুলে স্পর্শ, যা কেবল চবিয়ানদের কাছেই আশা করা যায়

শাটলের জানালার বাইরে কাশফুলে স্পর্শ, যা কেবল চবিয়ানদের কাছেই আশা করা যায়

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি)। শহরের  কোলাহল আর যান্ত্রিকতা থেকে দূরে এ ক্যাম্পাস যেনো প্রকৃতির কোলে গড়ে উঠা এক অপরূপ ও অনন্য নৈস্বর্গ। সবুজ বৃক্ষসারির উপর উড়ন্ত বিচিত্র রঙের হরেক পাখি, সবুজ পাহাড়ের কোলে থাকা হরিণ, অজগর কিংবা বিচিত্র আর দুর্লভ প্রাণির জীবন্ত জাদুঘর চবি ক্যাম্পাস।

নিঝুমপুরীর ক্যাম্পাস: আঁকাবাঁকা পাহাড়ি পথ, বিভিন্ন প্রজাতির গাছ, বন্যপ্রাণী, কাটাপাহাড়, হতাশার মোড়, দোলা স্মরণী, একখণ্ড ঝুলন্ত সেতু, চালন্দা গিরিপথ, চবির সৌন্দর্য শুধু এগুলো নয়। ঋতু রাজ বসন্ত, ঝুম বৃষ্টির আষাঢ়, ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা শীতে শাটলের ক্যাম্পাস বদলায় তার রূপ। এছাড়াও কলা ও মানববিদ্যা অনুষদের পেছনে রয়েছে পাহাড়ি ঝর্ণা। 

শাটল ট্রেন: চট্টগ্রাম শহর থেকে ২২ কিলোমিটার দূরে এই ক্যাম্পাস। তাই শহরে থাকা শিক্ষার্থীদের সুখের ভরসা শাটল ট্রেন। প্রতিদিন ১৫-১৬ হাজার শিক্ষার্থী শাটলে যাতায়াত করেন। বিশ্বে একমাত্র চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়েই এখনো শাটল চলাচল করছে। এই শাটলের জানালার ফাঁকে দেখা যায়, মানুষের বিচিত্র জীবন, অপরূপ প্রকৃতি কিংবা রেললাইনের পাশে থাকা শুভ্র কাশফুলে হাতের স্পর্শ। যা কেবল চবিয়ানদের কাছেই আশা করা যায়। 

এক টুকরো রাঙ্গামাটি: সমাজবিজ্ঞান অনুষদের সামনে গেলেই চোখে পড়বে এক টুকরো ‘রাঙ্গামাটি’ অর্থাৎ ঝুলন্ত সেতু। দৈর্ঘ্য প্রস্থে রাঙামাটির মতো বৃহৎ না হলেও এটিকে ‘মিনি রাঙামাটি’ বলা যেতে পারে। চবির বিশেষ আকর্ষণ- এ ঝুলন্ত সেতু। ব্যতিক্রমী এ স্থাপনাকে ঘিরে সারাদিন চলে তারুণ্যের উচ্ছ্বাস, আড্ডা আর গানের মহড়া।

অন্যরকম শীত: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় পুরোপুরি গ্রামীণ আবহে তৈরি। এ কারণে শীতের প্রকোপটা এখানে একটু বেশি। ক্যাম্পাসের জিরো পয়েন্ট মোড় কিংবা কাটাপাহাড়ের পথ ধরে হাঁটলেই শীতের অনুভূতি টের পাওয়া যায়। গরম ভাঁপা পিঠা। ঝরে পড়া পাতা। হরেকরকম পাখির কলরব। এভাবেই আসে শীত। শীতের এই ছোঁয়া লাগে ক্যাম্পাসেও। 

রহস্যময় চালন্দা গিরিপথ: অগণিত লুকায়িত আকর্ষণের ভিড়ে চবি ক্যাম্পাসে রয়েছে রহস্যময় চালন্দা গিরিপথ। প্রাকৃতিক ঝরণা, পাহাড়ের প্রাণ জুড়ানো রূপে বহুদিন ঢাকা পড়েছিল চালন্দা গিরিপথের সৌন্দর্য। কলা অনুষদের ঝুপড়ির ছড়ার পানি দিয়ে ৫০ মিনিট পশ্চিমে হাঁটার পর ছড়ার বামে বা দক্ষিণে এই রহস্যময় মায়াবী সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়। সেখানে হাটু পরিমাণ পানি আছে কিছু কিছু জায়গায়। পাহাড়ের বিশুদ্ধ পানি সমৃদ্ধ এ গিরিপথ ধরে এগুতে থাকলে দেখা যাবে সেখানে পাহাড়ের আদা-সরিষাসহ বিভিন্ন ফসলের চাষাবাদের অভূতপূর্ব দৃশ্য। প্রকৃতিপ্রেমী শিক্ষার্থীরা প্রায় প্রতিদিনই উপভোগ করতে যায় নয়নাভিরাম সেই সৌন্দর্য। চালন্দা গিরিপথ হয়ে উঠেছে অন্যতম দর্শনীয় স্থান।

ফরেস্ট্রি এলাকা: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়কে অনেকটা দৃষ্টিনন্দন করেছে ফরেস্ট্রি এরিয়া। ইনস্টিটিউট অফ ফরেস্ট্রি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সের উদ্যোগে করা সবুজ বনায়ন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যম্পাসকে একটি আকর্ষণীয় পর্যটন স্পটে পরিণত করেছে। ৫০ একর ভূমির উপর প্রতিষ্ঠিত ফরেস্ট্রি এরিয়া সৌন্দর্যের এক অনন্য নিদর্শন। এখানে রয়েছে হেলিপ্যাড, লেক, সুইমিংপুল, মেমোরিয়াল গার্ডেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম