মৃত নারীর মুখ দেখে মুগ্ধ গবেষক, বানিয়ে ফেললেন মূর্তি

ঢাকা, সোমবার   ২৬ অক্টোবর ২০২০,   কার্তিক ১১ ১৪২৭,   ০৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

মৃত নারীর মুখ দেখে মুগ্ধ গবেষক, বানিয়ে ফেললেন মূর্তি

সাতরঙ ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৬:২৮ ১৮ অক্টোবর ২০২০   আপডেট: ১৬:৩৩ ১৮ অক্টোবর ২০২০

ছবি: তরুণীর হাসিমাখা মুখ দেখে মুগ্ধ হয়েছিল সবাই

ছবি: তরুণীর হাসিমাখা মুখ দেখে মুগ্ধ হয়েছিল সবাই

উনিশ শতকের শেষের দিকে প্যারিসের সিন নদীতে এক অজ্ঞাত তরুণীর লাশ ভাসতে দেখা যায়। কোথা থেকে এই নোংরা পানিতে এলো এই লাশ। কীভাবেই বা মারা গেল এই তরুণী কেউ কিছু বলতে পারছে না। তরুণীর শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্নও ছিল না।  

দেখে মনে হচ্ছে মনের আনন্দে পানিতে ভাসছে সে। লাশ উদ্ধার করে মর্গে রাখা হয় লাশ। যাতে পরিচয় শনাক্ত করা যায় সেজন্য অজ্ঞাত অনেক লাশের সঙ্গে একেও রাখা হয় সেখানে। প্রতিদিনই অনেক মানুষ লাশ দেখতে আসত। হারিয়ে যাওয়া স্বজনদের খোঁজেই মূলত এখানে আসত তারা। 

মর্গে শত শত মানুষ দেখতে আসত এই তরুণীকেদিনের পর দিন কেটে গেলেও অজ্ঞাত এই তরুণীর ব্যাপারে কিছুই জানা যাচ্ছিল না। তরুণীর বয়স আনুমানিক ১৬ বছর হবে। কেউ হত্যা করে পানিতে ফেলে গেছে এমন নমুনাও পাওয়া যায়নি। নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদন করা হয় এই তরুণীর লাশ নিয়ে। সেখানে তরুণীর সৌন্দর্য দেখে দার্শনিক ও লেখক অ্যালবার্ট ক্যামাস মুগ্ধ হয়ে যান। তিনি এর একটি নামও দিয়ে ফেলেন। ড্রোন্ড মোনালিসা কিংবা বলা যায় ডুবে যাওয়া মোনা লিসা। তিনি এই তরুণীর সৌন্দর্যে এতটাই মুগ্ধ হন যে মেয়েটির একটি মূর্তি তৈরি করে ফেলেন তিনি।

তুলির আঁচড়ে কতভাবে যে এই তরুণীর হাসিমাখা মুখ আঁকা হয়েছে তার হিসাব নেই তুলির আঁচড়ে একের পর এক আঁকা হচ্ছে তরুণীর স্কেচ। সেগুলোর শত শত কপি বিক্রি হতে থাকে প্রতিদিন। এই তরুণীর হাসিমাখা মুখের প্রেমে শুধু চিত্রশিল্পীরাই নন। কবি সাহিত্যিকরাও হাবুডুবু খেতে থাকেন। এই ঘটনার কয়েক দশক পরের কথা। আসমুন্ড লেয়ারডাল নামের এক ব্যক্তি ছিলেন নরওয়েতে। তিনি ছিলেন খেলনা প্রস্তুতকারক। কাঠের তৈরি ছোট খেলনা বানাতেন তিনি। এর আগে ১৯৪০ এর দশকের গোড়ার দিকে তার সংস্থা  শিশুদের বই এবং ক্যালেন্ডার ছাপতে শুরু করেছিল।  

স্কেচ বিক্রি হয় শত শত পিস যুদ্ধের পরে লেয়ারডাল একটি নতুন ধরণের উপাদান নিয়ে গবেষণা শুরু করেছিলেন যা সবেমাত্র ভর উত্পাদনে প্রবেশ করেছিল। সেটা প্লাস্টিক। প্লাস্টিক দিয়ে তিনি অজ্ঞাত এই মোনালিসার পুতুল বানিয়ে ফেললেন। পুতুলটি ছিল ঘুমন্ত। এর প্রাকৃতিক চুল লাগানো হয়েছিল। মানে সত্যিকারের চুল লাগানো হয়েছিল পুতুলের মাথায়। তরুণীর প্রেমে পড়েই এমনটা করেছিলেন তিনি। 

আরো পড়ুন: অদ্ভুত এসব সমাধির পেছনে রয়েছে না বলা অনেক কথা 

এই ঘটনা নিয়ে একটি নাটক মঞ্চায়িত হয়েছিল সেসময়। শেষমেশ এই তরুণীর লাশের কোনো তথ্যই পাওয়া যায় নি। অনেক চেষ্টা করেও কোনো ক্লু খুঁজে পাননি ইনভেস্টিগেশন দল। এরপর তারা একটি অনুমানের ভিত্তিতে এই ঘটনাটি সাজান। সেটা ছিল অনেকটা এমন। সেসময় কালে সম্ভ্রান্ত ঘরের মেয়েরা বিভিন্নভাবে যৌনকর্মে জড়িয়ে যেত। একসময় অনুতাপ থেকে তারা আত্মহত্যার পথ বেছে নিন। ধারণা করা হয় এই তরুণীর পরিণতিও তাই হয়েছিল।

ছাঁচে ঢেলে তরুণীর মূর্তি তৈরি করা হয় কেননা মানুষের মৃত্যুর সময় তাদের মুখভঙ্গির পরিবর্তন হয়। মুখ দেখেই বোঝা যায় কতটা কষ্ট পেয়ে মারা গিয়েছিল সেই ব্যক্তি। এই তরুণীর হাসিমাখা মুখ দেখে বোঝাই যায় মৃত্যু তার সুখের ছিল। এতেই সে সব বাঁধা থেকে মুক্ত হতে পেরেছিল। হাত পা ছড়িয়ে উড়াল দিয়েছিল পরপারে। 

আসমুন্ড লেয়ারডাল২০১১ সালের একটি গবেষণায় মৃত্যুর সময় মুখের ভঙ্গি কেমন হয় তা দেখা হয়েছিল।  বিজ্ঞান ডাইরেক্টে প্রকাশিত হয়েছিল প্রতিবেদনটি। গবেষণাটি করা হয়েছিল ইঁদুরের উপর। একেকভাবে এই ইঁদুরগুলোর মৃত্যুর ব্যবস্থা করা হয়েছিল। সেখান থেকেই প্রমাণ করা হয় স্বইচ্ছায় কিংবা সুখের মৃত্যুর পর চেহারায় কেমন ভাব থাকে। 

ডেইলি বাংলাদেশ/কেএসকে