ওসমানী বিমানবন্দরের আয়তন বাড়ছে তিনগুণ

ঢাকা, রোববার   ০১ নভেম্বর ২০২০,   কার্তিক ১৭ ১৪২৭,   ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

ওসমানী বিমানবন্দরের আয়তন বাড়ছে তিনগুণ

শাহাদাত হোসেন রাকিব  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৬:০০ ১৮ অক্টোবর ২০২০   আপডেট: ১৬:০৭ ১৮ অক্টোবর ২০২০

সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের দৃষ্টিন্দন নকশা

সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের দৃষ্টিন্দন নকশা

মোট ২ হাজার ৭৬০ কোটি টাকা ব্যয়ে সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সম্প্রসারণের কাজ চলছে। এ কাজ শেষ হলে বিমানবন্দরের আয়তন বাড়বে তিনগুণ। এতে পুরোই বদলে যাবে চিত্র। আর নতুন রুপ পাবে বিমানবন্দরটি।  

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে বিদ্যমান প্যাসেঞ্জার টার্মিনালের যে আয়তন আছে তার তিন গুণেরও বেশি আয়তন নিয়ে তৈরি হচ্ছে সম্পূর্ণ নতুন টার্মিনাল। বর্তমান টার্মিনালে বছরে মোট ছয় লাখ যাত্রীকে সেবা দেয়া যায়। তবে নতুন টার্মিনালের মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে বছরে ২০ লাখ যাত্রীকে সেবা দেয়া যাবে।

বর্তমানে দ্রুত গতিতে এ বিমানবন্দরের সম্প্রসারণের কাজ চলছে। এর মধ্যে প্রথম পর্যায়ে ৪৫১ কোটি ৯৮ লাখ টাকা ব্যয়ে রানওয়ে শক্তিশালী করণ ও এয়ার ফিল্ড গ্রাউন্ড লাইটিং সিস্টেম স্থাপনের কাজ শেষের পথে রয়েছে।

গত ১ অক্টোবর দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বেইজিং আরবান কনস্ট্রাকশন গ্রুপ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে এ প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় নির্মাণ করা হবে ৩৪ হাজার ৯১৯ বর্গমিটারের আধুনিক প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল ভবন। এই টার্মিনালে আটটি বিমান একসঙ্গে যাত্রী ওঠানামা করতে পারবে। এর বাইরে ছয় হাজার ৮৯২ বর্গমিটারের কার্গো ভবন, দুই হাজার ৪১৫ বর্গমিটারের ফায়ার স্টেশন, দুই হাজার ৭৭২ বর্গমিটারের কন্ট্রোল টাওয়ার, এক হাজার ৩৯৫ বর্গমিটারের প্রশাসনিক ভবন নির্মিত হবে।

এছাড়াও প্রকল্পের আওতায় ৬০৬ বর্গমিটারের মেইনটেন্যান্স ভবন, দুই হাজার ৫২৪ বর্গমিটারের ইউটিলিটি ভবন এবং ৯ হাজার ২৯৯ বর্গমিটারের মধ্যে আবাসিক ভবন নির্মাণ করা হবে। বিদ্যমান সুবিধাসহ আরো সুপরিসর ছয়টি উড়োজাহাজ পার্কিং উপযোগী ৭১ হাজার ৭৪৩ বর্গমিটার অ্যাপ্রোন নির্মাণ, অ্যাপ্রোনের সংযোগকারী ট্যাক্সিওয়ে, বৈদ্যুতিক উপকেন্দ্রসহ ফুয়েল ডিস্ট্রিবিউশন অ্যান্ড হাইড্রেন্ট সিস্টেমসহ আনুষঙ্গিক অবকাঠামো ও স্থাপনাও নির্মিত হবে।

জানা গেছে, এই প্রকল্পের আওতায় আন্তর্জাতিকমানের যাত্রীসেবা প্রদানের জন্য ভবনে থাকবে ছয়টি বোর্ডিং ব্রিজ (ডাবল ডকিং দুটি, সিঙ্গেল ডকিং দুটি), কনভেয়ার বেল্টসহ ৩৬টি চেক-ইন-কাউন্টার, যার মধ্যে দুটি স্বয়ংক্রিয়, বহির্গামী ও আগমনী যাত্রীদের জন্য মোট ২৪টি পাসপোর্ট কন্ট্রোল কাউন্টার। এছাড়াও থাকবে ছয়টি এস্কেলেটর, ৯টি লিফট এবং আগমনী যাত্রীদের জন্য তিনটি লাগেজ কনভেয়ার বেল্ট, ভবনের ফ্লোরে বসবে ইঞ্জিনিয়ারড স্টোন। 

নতুন টার্মিনালের প্রথম তলা আগমনী যাত্রীদের এবং দ্বিতীয় তলা বহির্গামী যাত্রীদের জন্য ব্যবহৃত হবে। শহরের যেকোনো প্রান্ত থেকে আগত যাত্রী টার্মিনালের চেক-ইন লেভেলে পৌঁছে যাবেন। আবার বিদেশ থেকে আগত যাত্রীরা প্রথম তলা থেকে বিমানবন্দর ত্যাগ করে সারফেস রোড ব্যবহার করে শহরের যেকোনো প্রান্তে যেতে পারবেন। 

এ বিষয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী  বলেন, সিলেট বাসীর সুবিধার কথা ভেবে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সম্প্রসারণের কাজে হাত দেয়া হয়েছে। মোট ২ হাজার ৭৬০ কোটি টাকা ব্যয়ে এ কাজ সম্পন্ন হবে। কাজ সমাপ্তির পর ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হবে একটি সর্বাঙ্গীণ আধুনিক বিমানবন্দর।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএইচ