দুই নেতার দ্বন্দ্বে বিপাকে কুড়িগ্রাম বিএনপি

ঢাকা, মঙ্গলবার   ২০ অক্টোবর ২০২০,   কার্তিক ৫ ১৪২৭,   ০৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

দুই নেতার দ্বন্দ্বে বিপাকে কুড়িগ্রাম বিএনপি

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৫:০৫ ১৮ অক্টোবর ২০২০   আপডেট: ১৯:৩৬ ১৮ অক্টোবর ২০২০

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

কুড়িগ্রামে এমনিতেই কোনো কার্যক্রমে নেই জেলা বিএনপি। করোনা-বন্যা পরিস্থিতিতে নামমাত্র ত্রাণ বিতরণের কর্মসূচি হাতে নিলেও তা পণ্ড হয়েছে অভ্যন্তরীণ গ্রুপিংয়ের কারণে। সম্প্রতি ত্রাণ বিতরণ করতে গিয়ে জেলা বিএনপির দুই নেতার গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। গ্রুপ দুটির কারণে বিপাকে পড়েছে তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকরা।

জেলা বিএনপির একটি গ্রুপের নেতৃত্ব দিচ্ছেন সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রহমান রানা, আরেকটি গ্রুপের নেতৃত্ব দিচ্ছেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ।

জানা যায়, শুধু ত্রাণ বিতরণ নয়; দলীয় যেকোনো কর্মসূচি আলাদাভাবে পালন করে সাধারণ সম্পাদক ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের গ্রুপ। একই স্থানে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি, একে অপরকে দোষারোপ, দলীয় গঠনতন্ত্র ভঙ্গ করাসহ নেতাদের নানা কর্মকাণ্ডে বিপাকে পড়েছে তৃণমূলের কর্মী ও জেলার মানুষ। করোনায় কর্মহীন, বন্যায় গৃহহীন মানুষগুলো রাজনৈতিক নেতা, বিত্তবানদের সহযোগিতার আশায় থাকে। কিন্তু বিএনপির দুই নেতার দ্বন্দ্বে সাহায্য বঞ্চিত হচ্ছে অসহায় মানুষ। সম্প্রতি কুড়িগ্রাম সদর উপজেলায় বন্যা পরবর্তী ত্রাণ তৎপরতায় কেন্দ্রীয় বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদের সামনেই দ্বন্দ্বে জড়িয়েছেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। চেয়ারে বসা নিয়ে তাদের দ্বন্দ্ব রূপ নিয়েছে সংঘর্ষে, পণ্ড হয়েছে গোটা ত্রাণ তৎপরতা।

জেলা বিএনপির কর্মীরা জানান, অসহায় মানুষ তো দূরের কথা দলীয় কর্মীদের দিকেই তাকায় না কুড়িগ্রাম বিএনপির নেতারা। দুই নেতা নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্ব নিয়ে পড়ে আছেন। আর এতে দিশেহারা হয়ে পড়েছে তৃণমূলের কর্মীরা। অনেকে তো আগের মতো দলীয় কর্মকাণ্ডে অংশই নেয় না। সাম্প্রতিক বন্যায় জেলার লাখো মানুষের মতো বিএনপির কর্মীদের বসতবাড়িও ডুবে গেছে। কিন্তু সেই সময় নেতাদের কাউকে পাশে পাওয়া যায়নি।

জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ বলেন, একাই সব ক্ষমতার অধিকারী হতে চান সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রহমান রানা। সব নেতা-কর্মীকে নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান তিনি। তার স্বৈরাচারী শাসনের প্রতিবাদ করায় তিনি সমর্থকদের নিয়ে আলাদা গ্রুপ তৈরি করেছেন। তার গ্রুপের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে দলীয় কর্মকাণ্ডের কোনো সম্পর্ক নেই।

সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রহমান রানা বলেন, আমার ওপর আনা সব অভিযোগ মিথ্যা। আমি দলীয় গঠনতন্ত্র মেনেই সব কর্মকাণ্ডে অংশ নিচ্ছি। কায়কোবাদ নিজেই উপরের পদ দখলের চেষ্টা করছেন। কর্মীদের দলবিমুখ করছেন, আলাদা গ্রুপ তৈরি করেছেন। জেলা বিএনপিতে আগে গ্রুপিং ছিলো না। তিনিই গ্রুপিংয়ের রাজনীতি শুরু করেছেন।

কুড়িগ্রাম বিএনপির সভাপতি তাসভীর উল ইসলাম বলেন, দুই নেতার দ্বন্দ্ব সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত। দলীয় কর্মকাণ্ডে এর প্রভাব পড়বে না। যেসব কর্মী দলবিমুখ হয়ে পড়েছেন, তাদের ফিরিয়ে এনে ঐক্যবদ্ধ করা হবে। করোনা পরিস্থিতি আরো স্বাভাবিক হলে কুড়িগ্রামে বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রম গতিশীল হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এআর/জেএইচ