দেহের ভেতরে এত রক্তক্ষরণ খুব কম দেখেছি

ঢাকা, মঙ্গলবার   ২০ অক্টোবর ২০২০,   কার্তিক ৫ ১৪২৭,   ০৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

রায়হানের ময়নাতদন্তের রিপোর্ট নিয়ে ফরেনসিক বিভাগের মন্তব্য

দেহের ভেতরে এত রক্তক্ষরণ খুব কম দেখেছি

সিলেট প্রতিনিধি  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৫:০৩ ১৮ অক্টোবর ২০২০  

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

হকিস্টিক বা লাঠির মতো কোনো দেশীয় অস্ত্র দিয়ে প্রচণ্ড আঘাতের কারণে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে রায়হানের মৃত্যু হয়েছে। অতিরিক্ত আঘাতের কারণে তার শিরা উপশিরায় প্রচণ্ড চাপ পড়ে। এই চাপের কারণে রগগুলো ফেটে গিয়ে তার মৃত্যু হয়েছে। রায়হানের প্রথম ময়নাতদন্তের রিপোর্টে এসব আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে জানিয়েছেন সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. শামসুল ইসলাম।

শনিবার রাতে ডেইলি বাংলাদেশকে তিনি এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, রোববার ফ্রেশ বডি ময়নাতদন্তের পর তার শরীরে ১১১টি আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এর মধ্যে  ৯৭টি নীলা ফোলা আঘাত ও ১৪টি শিলা জখমের চিহ্ন ছিল। এছাড়া দুটি নখ উপড়ানো ছিলো। প্রথম ময়নাতদন্তের রিপোর্ট গত বৃহস্পতিবার পিবিআইকে হস্তান্তর করা হয়েছে। পুনরায় ময়নাতদন্তের রিপোর্ট মেডিকেল বোর্ড বসে সিদ্ধান্ত নেবে। আরো কয়েকদিন লাগবে।

ডা. শামসুল বলেন, রায়হানকে লাঠি দিয়েই আঘাত করা হয়েছে। অতিরিক্ত আঘাতের কারণে শরীরের ভেতর রগ ফেটে গিয়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়েছে। মেডিকেলের ভাষায় এটাকে এক্সট্রাভেকেশন বলে।

তিনি বলেন, আঘাতের কারণে শরীরের শিরা উপশিরায় চাপ পড়ে। রক্ত বাইরে বের হতে না পেরে শিরা উপশিরাগুলো ভেতরে ফেটে যায়। দীর্ঘক্ষণ যদি সজোরে আঘাত করলে এমন ঘটনা ঘটে। সবচেয়ে বেশি নির্ভর করে যে আঘাত করে তার হাতের শক্তির উপর। 

ডা. শামসুল ইসলাম বলেন, রায়হান হত্যাকাণ্ডে ফরেনসিক রিপোর্ট অনেক ব্যতিক্রম। আমরা অনেক ফরেনসিক রিপোর্ট করেছি কিন্তু দেহের ভেতরে এত রক্তকরণ খুব কম দেখেছি।

ফরেনসিক রিপোর্টে রায়হান নেশাগ্রস্ত ছিলেন কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তিনি নেশাগ্রস্ত ছিলেন কি না এজন্য আমরা ভিসেরা কেমিকেল সংগ্রহ করেছি। তার প্রথম ও দ্বিতীয় ময়নাতদন্তের ভিসেরা কেমিকেল সংগ্রহ করেছি। এগুলো চট্টগ্রামে সিআইডিতে পাঠানো হয়েছে। এই রিপোর্ট আসতে অন্তত ২০ দিন থেকে মাস খানেক সময় লাগতে পারে। এই রিপোর্ট আসলে আরো অনেক তথ্য পাওয়া যাবে।

ডা. শামসুল আরো বলেন, রায়হানের দ্বিতীয় ময়নাতদন্তেও আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তবে লাশ দাফন করায় মাংস পচে ও ফুলে যাওয়ায় আগের চেয়ে বেশি কিছু বুঝা যায়নি। তবে দ্বিতীয় ময়নাতদন্তের রির্পোট মেডিকেল বোর্ড বসে বিস্তারিত আলাপ আলোচনা করে দেয়া হবে। আরো সপ্তাহ খানেক সময় লাগতে পারে।

গত ১১ অক্টোবর ভোরে পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতন করে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর রায়হানের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা করেন নিহতের স্ত্রী তাহমিনা আক্তার তান্নি। মামলাটি পুলিশ সদর দফতরের নির্দেশে পিবিআইতে স্থানান্তর হয়। তদন্তভার পাওয়ার পর পিবিআই’র টিম ঘটনাস্থল বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ি, নগরীর কাস্টঘর, নিহতের বাড়ি পরিদর্শন করে।

এদিকে নির্যাতনে মৃত্যুর ঘটনায় বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়াসহ চার পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত ও তিনজনকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। ঘটনার পর সোমবার থেকে আকবর পলাতক রয়েছেন। তাকে ধরতে পিবিআই সারাদেশে ইমিগ্রেশনে চিঠি দিয়েছে। এছাড়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সারাদেশের সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করেছে। 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ