কুংফু চর্চার পুণ্যভূমি: আত্মরক্ষায় নিজেদের উৎসর্গ করে শিক্ষার্থীরা

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২৯ অক্টোবর ২০২০,   কার্তিক ১৪ ১৪২৭,   ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

কুংফু চর্চার পুণ্যভূমি: আত্মরক্ষায় নিজেদের উৎসর্গ করে শিক্ষার্থীরা

ফিচার ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৩:১৫ ১৮ অক্টোবর ২০২০   আপডেট: ১৩:১৫ ১৮ অক্টোবর ২০২০

ছবি: কুংফু চর্চা

ছবি: কুংফু চর্চা

খালি হাতে শত্রুকে মোকাবিলা করার সবচেয়ে মোক্ষম উপায় মার্শাল আর্ট। আত্মরক্ষার জন্য শারীরিক এই রণকৌশলের সুপ্রাচীনকাল থেকেই চীন কুংফু চর্চার পুণ্যভূমি। 

চীনের সাহিত্য, সংস্কৃতি আর সভ্যতার প্রতিটি স্তরে কুংফু জড়িয়ে আছে ওতপ্রোতভাবে। ডেংফেং মধ্য চীনের একটি ছোট শহর।

উঁচু-নিচু ভবনের ফাঁকে একটি মাঠে লাল বৃত্তগুলো ফুটে ওঠে। এই মাঠটি শাওলিন কুংফু স্কুলের মাঠ। এটি পৃথিবীর সবচেয়ে ব্যতিক্রমধর্মী বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে একটি। 

কঠিনা অধ্যাবসায় করতে হয় তাদেরশিক্ষার্থীরা এখানে শাওলিন কুংফু সাধনায় নিজেদের উত্‍সর্গ করে। চীনের ম্যান্ডারিন ভাষায় কুংফু শব্দের অর্থ কঠিনতম প্রশিক্ষণ। শাওলীন কুংফু অনুশীলনের মজা পেতে হলে সবাইকে অন্তত দুই বছর অনুশীলন করতে হবে। 

বেসিক স্টেন্স, কিক, পান্স ও স্ট্রেচিং পরিপূর্ণ হওয়ার পর শাওলীন কুংফুর মজা পাওয়া সম্ভব। এই সময়ের আগেই অনেকে কুংফু প্রাকটিস ছেড়ে দেয়। 

তারা না পাই কুংফুর পরিপূর্ণ মজা না পারে নিজেকে ডিফেন্স করতে। তাই শাওলীন কুংফু শিখতে হলে সবার মনস্থির করতে সবে অন্তত চার বছর একাডেমিতে প্রশিক্ষণ নিতে হবে। 

কংফু প্রশিক্ষণ চলছেআর মনে রাখতে হবে অল্প বিদ্যা ভয়ঙ্কর। প্রথাগত শিক্ষার মতোই এই শিক্ষার্থীরা দিনে ৬ ঘণ্টা, সপ্তাহে ৬ দিন কুংফু চর্চা করেন। 

শিক্ষার্থীদের সব পরিশ্রম আর প্রশিক্ষণের ফলাফল একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রদর্শিত হয়। অনুষ্ঠানটি এতই মনমুগ্ধকর যে ভূমি এবং আকাশ থেকে দৃশ্যগুলো সমান চিত্তাকর্ষক।

স্যাটেলাইট চোখে শিক্ষার্থীদের তৈরি নকশাগুলো ফুটে ওঠে আরও বর্ণিল হয়ে। হাজারো শিক্ষার্থীর কুংফু চর্চা এখানে একই ছন্দে গাঁথা। কুংফু চর্চা সর্বপ্রথম শুরু হয়েছিল প্রাচীন ভারতে। 

কুংফু চর্চা৫০০ শতাব্দীর দিকে ভারতের বৌদ্ধ মন্দিরগুলোতে কুংফু চর্চার নিদর্শন পাওয়া যায়। পরবর্তীকালে চীনে বৌদ্ধ ধর্ম প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে কুংফুও স্থান করে নিতে থাকে চীনা সমাজে।

কুংফু আত্মোন্নয়ন এবং শৃংখলাবদ্ধ জীবনের এক অনন্য মাধ্যম। শৃঙ্খলা একটি জাতিকে সাফল্যের সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছে দিতে সক্ষম। শৃঙ্খলা বিহীন জাতি হাল বিহীন নৌকার মতই পথভ্রষ্ট।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস