তুচ্ছ বিষয়ে বছরজুড়ে নির্যাতন, শেষমেষ চোখ উপড়ে ঘাড় ভেঙে

ঢাকা, মঙ্গলবার   ২০ অক্টোবর ২০২০,   কার্তিক ৫ ১৪২৭,   ০৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

তুচ্ছ বিষয়ে বছরজুড়ে নির্যাতন, শেষমেষ চোখ উপড়ে ঘাড় ভেঙে শিশুকে হত্যা

সিলেট প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৯:৪১ ১৭ অক্টোবর ২০২০  

নিহত রবিউল ইসলাম

নিহত রবিউল ইসলাম

সিলেটের বিশ্বনাথে গরুর পা কাটার সাক্ষ্য দেয়ায় দুই চোখ উপড়ে ঘাড় ভেঙে রবিউল ইসলাম নামে এক শিশুকে হত্যা করা হয়েছে। হত্যার সময় শিশুটির শরীরের একাধিক স্থানে সিগারেটের ছ্যাঁকাও দেয়া হয়।

নিহত রবিউল ইসলাম উপজেলার রামপাশা ইউপির রহমাননগর গ্রামের আকবর আলীর ছেলে ও স্থানীয় লতিফিয়া ইরশাদিয়া দাখিল মাদরাসার চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র।

শনিবার সকালে কান্নাজড়িত কণ্ঠে খুনিদের নিষ্ঠুরতার বর্ণনা দেন রবিউলের বাবা মো. আকবর আলী। এ সময় তিনি বর্বর এ খুনিদের অবিলম্বে গ্রেফতার ও জড়িতদের ফাঁসির দাবি জানান।

শিশুটির বাবা মো. আকবর আলী বলেন, ১২ অক্টোবর বেলা ১১টার দিকে স্থানীয় গাংগের পাড় এলাকায় যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয় রবিউল। এরপর আর বাড়ি ফেরেনি। পরে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান মেলেনি। পরে এলাকায় মাইকিং করা হয়। এছাড়া ওই রাতেই বিশ্বনাথ থানায় জিডি করেন রবিউলের মামা শওকত আলী।

তিনি বলেন, নিখোঁজের পরদিন ১৩ অক্টোবর সকাল ৮টার দিকে রামপাশা-বৈরাগীবাজার সড়কের বাল্লার ব্রিজের সেতুর একটি ডোবায় রবিউলের লাশ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

স্থানীয়রা জানায়, বছরখানেক আগে করপাড়া গ্রামের ছাদিকুর রহমান ও আব্দুল কাদিরের ধানক্ষেতে চলে যায় গোয়াহরি গ্রামের আব্দুল হামিদের গরু। এ সময় ছাদিকুর রহমান ও আব্দুল কাদির গরুকে ধরে পা কেটে দেন। বিষয়টি দেখেছিল রবিউল ইসলাম। সাক্ষী হিসেবে সে এক সালিশ বৈঠকে বিষয়টি জানায়। এরপর থেকে ক্ষিপ্ত হয়ে প্রায় সময় রাস্তায় পেয়ে রবিউল ইসলামকে মারধর করতেন ছাদিকুর রহমান।

৭ অক্টোবর মুরিকোনা হাওরে গরুর ঘাস কাটতে যায় রবিউল। ওই সময় তাকে মারধর করেন ছাদিকুর রহমান। এ নিয়ে ৮ অক্টোবর রহমাননগর গ্রামের গণি মিয়ার বাড়িতে আরেকটি সালিশ বৈঠক হয়। ওই দিন বৈঠক শেষে রবিউলকে দেখে নেয়ার হুমকি দিয়ে ছাদিকুর রহমান চলে যান। হুমকি দেয়ার মাত্র তিনদিনের মাথায় রবিউল খুন হয়।

এ ঘটনায় ১৩ অক্টোবর ছাদিকুর রহমান ও আব্দুল কাদিরসহ তিনজনের নাম উল্লেখসহ আরো তিন-চারজনকে অজ্ঞাত হিসেবে বিশ্বনাথ থানায় হত্যা মামলা করেন নিহতের বাবা আকবর আলী। ওই দিন বিকেলে মামলার আসামি উপজেলার করপাড়া গ্রামের আব্দুল কাদিরের স্ত্রী মাজেদা বেগমকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

বিশ্বনাথ থানার ওসি শামীম মুসা বলেন, এ ঘটনায় এজাহারভুক্ত আসামি মাজেদা বেগমকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকিদেরও গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর