সহকর্মীর মুখে নখের আঁচড়, খুলল হত্যার রহস্য

ঢাকা, শুক্রবার   ২৩ অক্টোবর ২০২০,   কার্তিক ৮ ১৪২৭,   ০৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

সহকর্মীর মুখে নখের আঁচড়, খুলল হত্যার রহস্য

সিলেট প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৭:৪৫ ১৭ অক্টোবর ২০২০   আপডেট: ১৮:৩০ ১৭ অক্টোবর ২০২০

পাথরশ্রমিক হত্যায় গ্রেফতার চার সহকর্মী

পাথরশ্রমিক হত্যায় গ্রেফতার চার সহকর্মী

অপরাধীর অপরাধ প্রমাণে কোনো না কোনো ক্লু থেকেই যায়। এ কথার বাস্তব প্রমাণ মিলল সিলেটের গোয়াইনঘাটে পাথরশ্রমিক রাসেল আহমেদ হত্যার রহস্য উদঘাটনে। তার সহকর্মী হাসানের মুখে নখের আঁচড়ের দাগ দেখে সেই হত্যার রহস্য উদঘাটন করলেন গোয়াইনঘাট থানার ওসি মো. আবদুল আহাদ।   

নিখোঁজের দুদিন পর গত শুক্রবার  জাফলং কান্দুবস্তি এলাকার একটি পুকুর পাড়ের পাশের ধানক্ষেত থেকে পাথরশ্রমিক রাসেল আহমদের লাশ উদ্ধার করেছিল পুলিশ। হত্যার রহস্য উদ্‌ঘাটনে তার সহকর্মীদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে পুলিশ। এ সময় মেহেদী হাসান নামে এক শ্রমিকের মুখে নখের আঁচড় দেখতে পান গোয়াইনঘাট থানার ওসি মো. আবদুল আহাদ।

এরপরই মেহেদীকে আটক করে শুরু হয় জিজ্ঞাসাবাদ। এ সময় মেহেদীর শরীরে আরো বিভিন্ন স্থানে নখের আঁচড় পাওয়া যায়। একপর্যায়ে পুলিশের জেরার মুখে মেহেদী হাসান স্বীকার করেন নিহত রাসেলের সঙ্গে ধস্তাধস্তিকালে এ ক্ষতগুলো হয়েছে। এরপরই রাসেল হত্যার ঘটনায় মেহেদীকে গ্রেফতার দেখায় পুলিশ। পরে তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী আরো চারজনকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতাররা হলেন তাহিরপুর শ্রীপুর এলাকার মেহেদী হাসান, একই এলাকার ইব্রাহিম মিয়া, সুলেমান মিয়া, তরং এলাকার নজির হোসেন ও শাহিদুল ইসলাম।

প্রাথমিকভাবে জানা গেছে রাসেল আহমদ ওই পাঁচজনকে টাকা ধার দিয়েছিলেন। ১৫ অক্টোবর তারা বাড়ি চলে যেতে চাইলে রাসেল পাওনা টাকা চান। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাসেল সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের বেতগড় এলাকার বাসিন্দা। মাসখানেক আগে তিনি তাহিরপুর থেকে বালু-পাথরশ্রমিক হিসেবে কাজ করতে জাফলংয়ে আসেন। গত বুধবার রাতে নিখোঁজ হন রাসেল। সহকর্মীদের কাছ থেকে খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার গোয়াইনঘাট থানায় জিডি করেন বাবা সবুর মিয়া। এরপর থেকে তদন্তে নামে পুলিশ।

রাসেল জাফলংয়ে মেলার মাঠ এলাকার কলোনিতে থাকতেন। পুলিশের একটি দল সেখানকার বাসিন্দাদের সঙ্গে শুক্রবার দুপুরে কথা বলতে গেলে মেহেদী হাসানের মুখে নখের আঁচড় এবং অসংলগ্ন কথাবার্তার একপর্যায়ে তাকে আটক করা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে তথ্য দেন মেহেদী হাসান। তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী আরো চারজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তারাও জাফলংয়ে বালু-পাথরশ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। এ ঘটনায় রাসেলের বাবা সবুর মিয়া বাদী হয়ে পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে গোয়াইনঘাট থানায় হত্যা মামলা করেন।

গোয়াইনঘাট থানার ওসি মো. আবদুল আহাদ বলেন, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে রাসেল আহমদ ওই পাঁচজনকে টাকা ধার দিয়েছিলেন। ১৫ অক্টোবর তারা বাড়ি চলে যেতে চাইলে রাসেল পাওনা টাকা চান। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। একপর্যায়ে তাকে মারধর করে পাথর এবং টাইলসের ধারালো অংশ দিয়ে খুন করে লাশ ধানক্ষেতে ফেলে দেয়া হয়। এর আগে রাসেলের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে মেহেদী হাসানের মুখ-বুক ও শরীরের বিভিন্ন অংশে নখের আঁচড়ের দাগ লাগে।


 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ