খুলনায় দেখা মিলছে না জাপার নেতাদের

ঢাকা, রোববার   ২৫ অক্টোবর ২০২০,   কার্তিক ১১ ১৪২৭,   ০৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

খুলনায় দেখা মিলছে না জাপার নেতাদের

খুলনা প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৫:৪৮ ১৭ অক্টোবর ২০২০   আপডেট: ১৯:০৯ ১৭ অক্টোবর ২০২০

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

খুলনায় নিজস্ব জমিতে জাতীয় পার্টির কার্যালয় থাকলেও দেখা মিলছে না নেতা-কর্মীদের। সাইনবোর্ড সর্বস্ব মহানগরীর ডাক বাংলোর মোড়ের বেবি স্ট্যান্ড সংলগ্ন এ অফিসে এখন অনেকটা ভুতুড়ে পরিবেশ।

জানা গেছে, খুলনা মহানগরী জাতীয় পার্টি আবারো অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। ২০১৮ সালে খুলনা সিটি কর্পোরেশন (কেসিসি) নির্বাচনে চরম হতাশাজনক ফলাফলের পরে মহানগর কমিটি বিলুপ্ত এবং মেয়র প্রার্থী মুশফিককে দল থেকে অব্যাহতি দেয়ার পর এ সংকট দেখা দেয়।

তৃণমূল কর্মীরা বলেন, রব-কাশেম কমিটির পর মহানগর জাপার হাল ধরেন সাবেক এমপি আব্দুল গফ্ফার বিশ্বাস ও মোল্লা মুজিবর রহমানের নেতৃত্বাধীন কমিটি। গফ্ফার বিশ্বাসের পদত্যাগের পর থেকে সাবেক এমপি আবুল হোসেনের নেতৃত্বেই চলছিল নগর জাতীয় পার্টি। কিন্তু দলের প্রয়াত চেয়ারম্যানের হটকারী সিদ্ধান্তে একের পর এক বিব্রত পরিস্থিতিতে পড়তে হয় মহানগর জাপাকে।

তারা আরো বলেন, স্থানীয় রাজনীতিতে ইমেজ সংকটে পড়েছে দলটি। জাপার নগর সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম হত্যা মামলার অন্যতম আসামি মুশফিকুর রহমান জাতীয় পার্টিতে যোগ দিলে ক্ষোভে ফেটে পড়েন খুলনা জাপার তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা। বিরোধ চরম রূপ নেয় যখন এই মুশফিককেই কেসিসির মেয়র প্রার্থী ঘোষণা করেন দলের চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ।

২০১৭ সালের ১৪ মার্চ দলের চেয়ারম্যান খুলনায় এসে মুশফিককে মেয়র প্রার্থী হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেয়ার আগের দিন একযোগে পদত্যাগ করেন মহানগর জাপার অধিকাংশ নেতা। ওই দিন মহানগর শাখার সভাপতি শেখ আবুল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক তরিকুল ইসলাম ও যুগ্ম-সম্পাদক অধ্যাপক গাউসুল আজম দল থেকে পদত্যাগ করেন। একই দিন দল ত্যাগ করে আওয়ামী লীগে যোগ দেন মহানগর কমিটির যুগ্ম-সম্পাদক এমএ আল মামুন, সদস্য কাজী শরিফুল ইসলাম, সোনাডাঙ্গা থানা জাতীয় পার্টির সভাপতি সাইফুল আলমসহ অনেক নেতাকর্মী। এরপর থেকেই নগরীতে জাতীয় পার্টির পতন শুরু হয়।

খুলনা মহানগর কমিটির সাবেক সভাপতি আবুল হোসেন বলেন, একটা খুনিকে খুলনার রাজনীতিতে নিয়ে এসে মেয়র প্রার্থী করেছিলেন চেয়ারম্যান। তাই খুলনার মানুষ জাতীয় পার্টিকে প্রত্যাখ্যান করেছে।

এদিকে, জাতীয় পার্টিকে আবারো চাঙা করার জন্য এরইমধ্যে দলে ফিরে এসেছেন মহানগর জাপার সাবেক সভাপতি ও সাবেক এমপি আব্দুল গফ্ফার বিশ্বাস। দলে ফিরে আসার অপেক্ষায় রয়েছেন মহানগর জাপার সাবেক সভাপতি শেখ আবুল হোসেন ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোল্যা মুজিবর রহমান।

নেতাকর্মীরা বলেন, আব্দুল গফ্ফার বিশ্বাস দলে পুনরায় আসার পর অনেকে ভেবেছিলেন দল চাঙা হবে কিন্তু সে আশা পূরণ হয়নি। যে কারণে হতাশ অনেকে। খুলনায় ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করা জাতীয় পার্টি সাবেক চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদের মৃত্যুর পর আবারো ঝিমিয়ে পড়েছে।

খুলনা জেলা জাপার সভাপতি ও কেন্দ্রীয় যুগ্ম-মহাসচিব এসএম শফিকুল ইসলাম মধু বলেন, জাতীয় পার্টি একটি বড় রাজনৈতিক দল। দলের প্রয়োজনে কমিটি গঠন করা হয় আবার দলের প্রয়োজনেই কমিটি ভাঙা হয়। গফ্ফার বিশ্বাস আগে জাপার কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। এবার দলে ফেরার পর তাকে ভাইস চেয়ারম্যান পদে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর/জেএইচ