কক্সবাজারে ছাত্রদলের কমিটিতে ইয়াবা ব্যবসায়ীরা

ঢাকা, মঙ্গলবার   ২০ অক্টোবর ২০২০,   কার্তিক ৫ ১৪২৭,   ০৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

কক্সবাজারে ছাত্রদলের কমিটিতে ইয়াবা ব্যবসায়ীরা

কক্সবাজার প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৫:২১ ১৭ অক্টোবর ২০২০   আপডেট: ১৯:১২ ১৭ অক্টোবর ২০২০

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

সম্প্রতি গঠিত কক্সবাজার জেলা ছাত্রদলের ১৮ শাখার আহ্বায়ক কমিটি নিয়ে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। এসব কমিটিতে ত্যাগীদের বাদ দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। টাকার বিনিময়ে ও স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে বিবাহিত, ইয়াবা ব্যবসায়ী, অছাত্র ও আন্দোলন সংগ্রামে ভূমিকাহীনদের কমিটিতে আনা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বঞ্চিতরা।

এর প্রতিবাদে গত ৯ অক্টোবর কক্সবাজার শহরে বিক্ষোভ মিছিল করেন পদ বঞ্চিতরা। ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত এ কর্মসূচি অব্যাহত ছিল। এতে বক্তব্য রাখেন হোসাইন মাদু, ওসমান সরওয়ার টিপু, রেজাউল করিম, আব্দুল হামিদ ও নজরুল ইসলাম।

তারা বলেন, জেলা কমিটির অধীনে সম্প্রতি ঘোষিত ১৮টি শাখার আহ্বায়ক কমিটিতে ৯০ শতাংশ বিগত দিনে আন্দোলন সংগ্রামে রাজপথে ছিল না। কোনো সময়ে পার্টি অফিসে তাদের দেখা যায়নি। অধিকাংশই অছাত্র ও বিবাহিত। শুধুমাত্র জেলা ছাত্রদলের সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) সাইফুর রহমান নয়ন ও সাধারণ সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) মিজানুল আলম তাদের পকেট ভারী করার জন্য কমিটি নিয়ে নয়ছয় করেছেন। আহ্বায়ক কমিটিতে রাখা অনেকেই চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী।

তাদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, ৭ অক্টোবর কক্সবাজার শহর শাখা, সদর উপজেলা শাখা, সরকারি কলেজ শাখা, কক্সবাজার সিটি কলেজ শাখা, রামু কলেজ শাখা, মহিলা কলেজ শাখা, ঈদগাঁও ডিগ্রি কলেজ শাখা, কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি শাখা, কক্সবাজার হাশেমিয়া কামিল মাদরাসা, ঈদগাঁও সাংগঠনিক উপজেলা, কক্সবাজার সরকারি মহিলা কলেজ, উখিয়া উপজেলা, টেকনাফ উপজেলা, টেকনাফ পৌরসভা, উখিয়া ডিগ্রি কলেজ, টেকনাফ সরকারি কলেজ, পলিটেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল।

বঞ্চিতদের মধ্যে নজরুল ইসলাম বলেন, আমি ছয় বছর ধরে ছাত্রদলের সঙ্গে যুক্ত। রাজপথের প্রতিটি মিছিল সংগ্রামে ছিলাম। কক্সবাজার সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী ছিলাম। কিন্তু কাউকে কিছু না জানিয়ে হঠাৎ করে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের পক্ষ থেকে আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। কমিটিতে রাখা কেউই ছাত্রদলের ডেডিকেটেড কর্মী নয়। এ কমিটি আমরা বাতিল চাই।

হোসাইন মাদু বলেন, কক্সবাজার শহর ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটিতে যাদের রাখা হয়েছে তাদের মধ্যে দুই-একজন ছাড়া বাকিরা সবাই অপরিচিত। তাদের শহর কমিটিতে আসার যোগ্যতা নেই। স্বজনপ্রীতি ও টাকার বিনিময়ে তাদের কমিটিতে রাখা হয়েছে। শহর শাখার মতো পুরো ১৮ কমিটিরই একই অবস্থা। এসবের মূল নায়ক হচ্ছে জেলা ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর/জেএইচ