চোখের জলে গুলের বিদায়

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২৯ অক্টোবর ২০২০,   কার্তিক ১৪ ১৪২৭,   ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

চোখের জলে গুলের বিদায়

স্পোর্টস ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৩:১৪ ১৭ অক্টোবর ২০২০   আপডেট: ১৩:৪৬ ১৭ অক্টোবর ২০২০

অশ্রুসিক্ত নয়নে বিদায় নিচ্ছেন উমর গুল

অশ্রুসিক্ত নয়নে বিদায় নিচ্ছেন উমর গুল

পাকিস্তানের ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা ফাস্ট বোলার উমর গুল। গতকাল (শুক্রবার) সব ধরণের ক্রিকেট থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবসরে গিয়েছেন তিনি। প্রায় দুই দশকের ক্যারিয়ারে ২৩৭টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন এই পেসার। পাকিস্তানের অসংখ্য ম্যাচ জয়ে ভূমিকা রেখেছেন কিংবদন্তি এই বোলার। 

নিজের ক্যারিয়ারের শেষ প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচটিতে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারেননি গুল। পাকিস্তানের ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি লিগে আগে ব্যাট করে তার দল বেলুচিস্তান করেছিল ১৬১ রান। জবাবে মাত্র ১০.৪ ওভারেই রান তাড়া করে জিতে যায় সাউদার্ন পাঞ্জাব। এর মাঝে গুলের ২ ওভার থেকেই ৩৪ রান নিয়েছে দলটির ব্যাটসম্যানরা। 

ম্যাচ শেষে কান্নাভেজা চোখে মাঠ ছেড়েছেন উমর গুল। দীর্ঘ ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচটি খেলার পর নিজের আবেগ সংবরণ করতে পারছিলেন না তিনি। পেশোয়ারে জন্ম নেয়া এ পেসারকে সেসময় সতীর্থ ও প্রতিপক্ষ দলের খেলোয়াড়রা সান্ত্বনা দেয়ার চেষ্টা করেন। এছাড়া দুই দলের খেলোয়াড়রা মিলে দেন গার্ড অব অনার।

বিদায়ী বক্তব্যে গুল বলেন, ‘প্রায় দুই দশক ধরে নিজের ক্লাব, শহর, প্রদেশ এবং দেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করতে পারা অনেক বড় সম্মানের বিষয়। আমি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ক্রিকেটকে উপভোগ করেছি। এই খেলা আমাকে কঠোর পরিশ্রম, শ্রদ্ধা, আত্মনিবেদন ও অধ্যবসায়ের শিক্ষা দিয়েছে। আমি এমন অনেক মানুষের সঙ্গ পেয়েছি, যারা আমাকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছে। আমি তাদেরকে ও আমার সতীর্থদের ধন্যবাদ জানাতে চাই।’

তিনি আর বলেন, ‘আমার পুরো ক্যারিয়ারে সমর্থন দিয়ে যাওয়া ভক্তদের আমি অনেক ধন্যবাদ জানাই। সত্যি বলছি, তারা আমার জন্য বড় অনুপ্রেরণা ছিল। সবশেষ আমি আমার পরিবারকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। তাদের সাহস ও অনুপ্রেরণায় আমি ক্রিকেট খেলতে পেরেছি। পরিবারের আত্মত্যাগের কল্যাণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সফর করতে পেরেছি। একেবারে ক্রিকেটের বাইরে থাকা অনেক কঠিন। আবার ফিরব ক্রিকেটে।’

বিদায়ের সময় গুল২০০১-০২ মৌসুমে মাত্র ১৭ বছর বয়সে পাকিস্তানের ঘরোয়া ক্রিকেটে গুলের অভিষেক হয়। জাতীয় দলে নাম লেখাতে মাত্র ৯টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলেন তিনি। ২০০৩ সালে বাংলাদেশ দলের পাকিস্তান সফরে ঝাঁকড়া চুলের এ পেসারের টেস্ট অভিষেক হয়। একই মাসে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হয় ওয়ানডে অভিষেক।

প্রায় চার বছর আগে পাকিস্তানের হয়ে সবশেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচটি খেলেছেন গুল। ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে ইংল্যান্ড সফরে শেষবার জাতীয় দলের জার্সি গায়ে নেমেছিলেন তিনি। প্রায় এক যুগের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে ৪৭ টেস্ট, ১৩০ ওয়ানডে ৬০ টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন গুল। যেখানে তিনি শিকার করেছেন যথাক্রমে ১৬৩, ১৬৯ ও ৮৫টি উইকেট।

উমর গুলের ঘরোয়া ক্রিকেটের পরিসংখ্যান অসাধারণ। প্রায় ২০ বছরের ক্যারিয়ারে ১২৫ প্রথম শ্রেণির ম্যাচ, ২১৩ লিস্ট ‘এ’ ম্যাচ ও ১৬৭ টি-টোয়েন্টি খেলেছেন ডানহাতি এই ফাস্ট বোলার। সবমিলিয়ে ৯৮৭বার উইকেট শিকারের আনন্দে মেতেছেন তিনি। এছাড়া ২০০৯ সালে পাকিস্তানকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জেতানোর পথে সেই আসরের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারী হয়েছিলেন গুল।

এমন একজন ক্রিকেটারের বিদায়ের পর তার পরবর্তী জীবনের জন্য শুভ কামনা জানিয়েছেন দলের সাবেক সতীর্থরা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটারে নিজেদের শুভেচ্ছা বার্তা দিয়েছেন তারা। কেবল সতীর্থরাই নয়, গুলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন বোর্ড কমকর্তারাও। পাকিস্তানের ক্রিকেট ইতিহাসে বেশ উপরের দিকেই থাকবে গুলের নাম। 

ডেইলি বাংলাদেশ/এএল