বিদেশেও সুখ্যাতি ছড়াচ্ছে চুয়াডাঙ্গার নারী উদ্যোক্তাদের পণ্য

ঢাকা, মঙ্গলবার   ২৭ অক্টোবর ২০২০,   কার্তিক ১৩ ১৪২৭,   ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

বিদেশেও সুখ্যাতি ছড়াচ্ছে চুয়াডাঙ্গার নারী উদ্যোক্তাদের পণ্য

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১০:৪৮ ১৭ অক্টোবর ২০২০   আপডেট: ১৪:৩৫ ১৭ অক্টোবর ২০২০

জ্যামিতিক হারে বাড়ছে নারী উদ্যোক্তা

জ্যামিতিক হারে বাড়ছে নারী উদ্যোক্তা

তিল থেকে তাল। সুতা থেকে জুতা। ঘরোয়া খাবার থেকে উন্নতমানের ফাস্টফুডের সমারোহ। কি নেই সেখানে? যা চাওয়া যাবে তাই পৌঁছে যাবে একদম ঘরের দরজায়। শুধু একটি স্মার্টফোনের আঙুলের ছোঁয়ায় মিলছে দেশি-বিদেশি খাদ্যদ্রব্য, প্রসাধনী সামগ্রী, জামা কাপড়সহ অঙ্গসজ্জা-অলংকার। দামও থাকছে হাতের নাগালে।

নিজেদের ফেসবুক পেজে বাহারি সব পণ্যের ছবি ও দাম লিখে পোস্ট দেন বিক্রেতারা। এরপর ক্রেতারা ইনবক্সে যোগাযোগ করে তা ক্রয় করে থাকেন। কুরিয়ারের মাধ্যমে পণ্য পাঠানো হয় কাঙিক্ষত ক্রেতাদের কাছে। এভাবে অনলাইন মাধ্যমে পণ্য কেনাবেচা হচ্ছে প্রতিনিয়ত।

গৃহিনী ও তরুণীদের কর্মস্থানের পথ হিসেবে ডিজিটাল প্লাটফর্মে বিশাল জায়গাজুড়ে অবস্থান করছে অনলাইনে বিজনেস বা ই-কমার্স। জেলা শহরের মতো জায়গায় ই-কমার্সের পরিধি বাড়ছে ব্যাপক হারে। যা একটা সময় ছিল কল্পনাতীত। কিন্তু সময় পাল্টেছে, পাল্টেছে মানুষের ধ্যান ধারণাও। আর তাই ক্রমশই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে চুয়াডাঙ্গায় ই-কমার্স বা অনলাইন ব্যবস্থাপনায় কেনাকাটা। জেলার কয়েকশ’ শিক্ষিত নারী এ ই-কমার্সের বিস্তৃতি ঘটাচ্ছে জ্যামিতিক হারে। বর্তমানে প্রতি বছর এ জেলা থেকে প্রায় ১০-১৫ কোটি টাকা পণ্য কেনাবেচা হচ্ছে।

উদ্যোক্তারা বলছেন, সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণ ও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে আরো দ্রুত বিস্তৃতি ঘটনা সম্ভব হবে অনলাইনভিত্তিক বিজনেসের। আর তার ইতিবাচক প্রভাব পড়বে জাতীয় অর্থনীতিতে।

ভিড় ঠেলে আর শপিংমলে যেতে হয় না ফ্যাশন প্রেমীদের। শপিংমলে বিক্রি হওয়া দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের পোশাক চলে আসছে ঘরে। ইন্টারনেটের মাধ্যমে ঘরে বসে স্মার্টফোন ও কম্পিউটারে চলছে এই অনলাইনে কেনাকাটা। অনলাইন কেনাকাটা মানেই ছিল পোশাক, শাড়ি, থ্রিপিস ও কসমেটিকস। বর্তমানে সেই বৃত্ত ভেঙে যোগ হয়েছে চাল, ডাল, আটা, সুজি, মশুর ডাল, খাঁটি মধুসহ কয়েকশ পণ্য। রয়েছে বাহারি ধরনের খাবারসহ দেশি-বিদেশি নারী-পুরুষদের অঙ্গসজ্জা ও অলংকার।

অনলাইন নারী উদ্যোক্তা রুমানা জামান মালিক জানান, ছোট থেকেই রান্নায় বেশ আগ্রহী ছিলো। বছর তিনেক আগে ‘অনলাইন কিচেন’ নামে একটি ফেসবুক পেজ খুলে তার শখের রান্নার ছবি পোস্ট করতেন রুমানা। সেই খাবারের অর্ডার, তারপর তা সরবরাহ। এতেই তার সফলতা। পেছন ফিরে দেখতে হয়নি আর। এখন জেলার অন্যতম খাবারের পেজ হিসেবে পরিচিতি মিলেছে। কাজ করছেন ফাস্টফুড বিরিয়ানি ও কেকের নানা আইটেম নিয়ে।

আরেক অনলাইন ব্যবসায়ী পাপিয়া সুলতানার মতে, অনলাইনে বেচাকেনা মানেই বুঝতেন জামা কাপড় ও খাবরের বিকিকিনি। এর বাইরেও যে ডিজিটাল মাধ্যমে দেশীয় চাল, ডাল, আটা, সুজি, মশুর ডাল, খাঁটি মধু ও খাবার বড়ি বেচাকেনা সম্ভব তা দেখিয়েছেন তিনি। সাড়াও বেশ পেয়েছেন তিনি। তার এসব পণ্যের বেশির ভাগ ক্রেতা জেলার বাইরে এমনকি দেশের বাইরেরও।

ডিজিটাল মাধ্যমে দেশীয় অঙ্গসজ্জা ও অলংকার নিয়ে কাজ করেন কলেজছাত্রী আবৃত্তি মেহেরিন। তিনি জানান, দেশীয় সংস্কৃতি নিয়ে বর্তমানে কাজ করছেন। নানা ধরেনর দেশীয় পুঁথিমালা, কানের দুল ও নাক ফুল রয়েছে তার ভান্ডারে। ক্রেতাদের পছন্দসই অনেক পণ্য নিজেও গড়িয়ে দেন তিনি।

শুধু নিজ জেলাতেই নয়, চুয়াডাঙ্গার নারী উদ্যোক্তাদের পণ্য এখন দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশেও খ্যাতি ছড়াচ্ছে। আর তাই প্রতিনিয়ত অনলাইন বিজনেসে নারী উদ্যোক্তাদের সংখ্যা বাড়ছে।

জ্যামিতিক হারে বাড়ছে নারী উদ্যোক্তাজেলার অন্যতম উদ্যোক্তা শিরিন আক্তারের মতে, ছোট শহরে ব্যবসায় নারীর অংশগ্রহণ ছিল অনেকটা চ্যালেঞ্জিং। সেই কঠিন বাস্তবতা মেনে অগ্রসর হচ্ছে কয়েকশ নারী উদ্যোক্তা। তাদের সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণ ও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা এখন সময়ের দাবি। সরকার থেকে সুদৃষ্টি পেলে আরো দ্রুত বিস্তৃতি ঘটনো সম্ভব হবে অনলাইন এ বিজনেসের।

চুয়াডাঙ্গার চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি হাজী ইয়াকুব হোসেন মালিক জানান, ভিন্ন ধরনের এক ইমেজ তৈরি করেছে অনলাইন বিজনেসে নারীর অংশগ্রহণ। বিদেশি পণ্যের পাশাপাশি দেশীয় খাঁটি পণ্য অনলাইনে ক্রয়-বিক্রয় বাড়ায় প্রতি বছরে চুয়াডাঙ্গায় ১০ থেকে ১৫ কোটি টাকা বেচাকেনা হচ্ছে। যার ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে জাতীয় অর্থনীতিতে।

চুয়াডাঙ্গার ডিসি নজরুল ইসলাম সরকার জানান, ব্যবসায় অংশগ্রহণ নারীর ক্ষমতায়নের একটি বড় উদাহরণ। এতে করে নারীরা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হচ্ছেন। বাংলাদেশ এগিয়ে যাওয়ার বড় দৃষ্টান্ত হতে পারে এটি। নারী উদ্যোক্তাদের সব ধরনের সহযোগিতার পাশাপাশি ব্যাংক ঋণ ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএম/জেএইচ