করোনার ধাক্কা সামলিয়ে পর্যটকে মুখর রাঙামাটি

ঢাকা, শুক্রবার   ২৩ অক্টোবর ২০২০,   কার্তিক ৮ ১৪২৭,   ০৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

করোনার ধাক্কা সামলিয়ে পর্যটকে মুখর রাঙামাটি

রাঙামাটি প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ০১:৩৮ ১৭ অক্টোবর ২০২০   আপডেট: ০১:৪১ ১৭ অক্টোবর ২০২০

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

করোনাভাইরাসের ধাক্কাকে সামলিয়ে আবারো পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে পার্বত্য রাঙামাটি।

মহামারি করোনার প্রভাবে দীর্ঘ সময় পর্যটনের স্থবিরতার পর পর্যটনকেন্দ্রগুলো খুলে দেয়ায় ক্রমান্বয়ে বাড়ছে পর্যটক। এতে করে করোনার ধাক্কা সামলিয়ে চাঙা হতে উঠেছে পাহাড়ের পর্যটন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মূলত সেপ্টেম্বর মাস থেকেই পার্বত্য রাঙামাটিতে শুরু হয় পর্যটন মৌসুম। এরই মধ্যে পাহাড়ি এই জেলার প্রায় সব পর্যটন ও বিনোদনকেন্দ্রে ভ্রমণপিপাসুদের সমাগম বাড়ছে। জেলার ‘দার্জিলিং খ্যাত’ সাজেক ভ্যালি, ‘সিম্বল অব রাঙামাটি’ খ্যাত ঝুলন্ত সেতুসহ, পলওয়েল পার্ক, ধুপপানি ঝরনা, সুবলং ঝরনাসহ অন্যান্য কেন্দ্রে ঘুরে বেড়াচ্ছেন তারা।

আবারো পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে রাঙামাটি

শুক্রবার বিকেলে রাঙামাটি পর্যটন ঝুলন্ত সেতুতে সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, সরকারি বন্ধের দিন শুক্রবার ও শনিবারের ছুটি পাহাড়ে কাটাতে ভিড় করছেন বিনোদনপ্রেমীরা। এতে চাঙা হয়েছে এই খাতসংশ্লিষ্ট সবার ব্যবসা-বাণিজ্য।

রাঙামাটি পর্যটন বোটঘাটের ম্যানেজার মো. রমজান আলী জানিয়েছেন, শুক্রবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত সুবলং এর উদ্দেশে ৩০টি ট্যুরিস্টবোট ছেড়ে গেছে। এছাড়া ২০টির অধিক ট্যুরিস্টবোট আশপাশের লেকে ঘুরা বেড়ানোর জন্য ভাড়া হয়েছে। মোটামুটি বলা চলে আমাদের ব্যবসা ভালো হচ্ছে। আমাদের বোট ব্যবসার সঙ্গে জড়িত সবাই আনন্দিত।

আবারো পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে রাঙামাটি

ঢাকা থেকে বেড়াতে আসা মো. মোকাম্মেল হোসেন জয় বলেন, এর আগে কখনোই আমার রাঙামাটি আসা হয়নি। পাহাড় লেকের সানিন্দ্যে এসে অনেক ভালো লাগছে। কাল সকালে সুবলং ঝরনার যাবো ঘুরতে।

রাঙামাটি জেলা শহরের দৃষ্টিনন্দন পার্ক পলওয়েলে ঘুরে বেড়ানো একঝাঁক ভ্রমণপ্রেমী জানান, কিভাবে একটি কৃত্রিম পর্যটন-বিনোদনকেন্দ্র গড়ে তোলা যায় তার অনন্য উদাহরণ পলওয়েল পার্ক। আমরা এখানে এসে ভালোই সময় কাটাচ্ছি।

সাজেকে বেড়াতে আসা আজিজুর রহমান জানান, করোনায় বাসাবাড়িতে বন্দি থেকে মানসিক ভেঙে অনেকটাই ভেঙে পড়েছি। সেই অবসাধ কাটাতেই সাজেক এলাম। সাজেকের প্রেমে আমরা মুগ্ধ। 

আবারো পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে রাঙামাটি

তিনি বলেন, সাজেকে এসেই বুঝলাম কেবল আমরাই না, কোনো ভ্রমণপিসাসুরা এখন আর ঘরে নেই। আমরা আসার এক সপ্তাহ আগে রুম বুকিং দিয়েও রুম পেতে কষ্ট হয়েছে।

রাঙামাটি শহরে অবস্থিত হোটেল মতি মহলের মালিক মো. শফিউল আজম বলেন, করোনার ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে আমরা চেষ্টা করছি। মোটামুটি পর্যটকদের রাঙামাটিতে সমাগম বাড়ছে। আশাকরি শীত বাড়লে পর্যটক আরো বাড়বে।

আবারো পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে রাঙামাটি

সাজেক কটেজ ও রিসোর্ট মালিক সমিতির সভাপতি সুপর্ণ দেব বর্মণ জানান, মোটামুটি সাজেক এখন পর্যটকে ভরপুর। শুক্রবার শনিবারে এ সংখ্যা আরো বাড়ে। যেভাবে পর্যটক আসছে এতে আমরা সন্তুষ্ট।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে