‘কৃষিতে বাংলাদেশের সাফল্য সারাবিশ্বে প্রশংসিত’

ঢাকা, মঙ্গলবার   ২০ অক্টোবর ২০২০,   কার্তিক ৫ ১৪২৭,   ০৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

‘কৃষিতে বাংলাদেশের সাফল্য সারাবিশ্বে প্রশংসিত’

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৯:০৬ ১৬ অক্টোবর ২০২০   আপডেট: ১৯:২৮ ১৬ অক্টোবর ২০২০

বিশ্ব খাদ্য দিবস ২০২০ উপলক্ষে আয়োজিত টেকনিক্যাল সেশনে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক - ডেইলি বাংলাদেশ

বিশ্ব খাদ্য দিবস ২০২০ উপলক্ষে আয়োজিত টেকনিক্যাল সেশনে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক - ডেইলি বাংলাদেশ

কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, সরকারের যুগোপযোগী পদক্ষেপের ফলে গত এক দশকে কৃষি ক্ষেত্রে ও খাদ্য নিরাপত্তায় বাংলাদেশ অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে। নানামুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে বাংলাদেশ দানাদার খাদ্যে আজ স্বয়ংসম্পূর্ণ। কৃষি উন্নয়নের এই সাফল্য সারাবিশ্বে বহুলভাবে প্রশংসিত ও নন্দিত হচ্ছে। 

শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে বিশ্ব খাদ্য দিবস ২০২০ উপলক্ষে আয়োজিত টেকনিক্যাল সেশনে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন।

কৃষিমন্ত্রী আরো বলেন, করোনা, আম্ফান ও দীর্ঘমেয়াদি বন্যা মোকাবিলা করে বাংলাদেশ খাদ্য উৎপাদনের ধারা অব্যাহত রেখেছে। দুর্যোগের মাঝেও এ অর্থবছরে খাদ্যশস্যের (চাল, গম ও ভুট্টা) উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় ৪ কোটি ৫৩ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত হয়েছে।

তিনি বলেন, স্থানীয় ও বৈশ্বিক পর্যায়ে খাদ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য আমাদের অবশ্যই কৃষি গবেষণা ও উন্নয়ন সংশ্লিষ্ট বিশ্বব্যাপী জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের উপর জোর দিতে হবে। একইসঙ্গে টেকসই কৃষি উন্নয়নের জন্য জলবায়ু-স্মার্ট কৃষি প্রযুক্তির বিকাশে এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষায় আমাদের অত্যন্ত গুরুত্ব দিতে হবে।

কৃষিসচিব মো. মেসবাহুল ইসলাম বলেন, কৃষিক্ষেত্রের যেসব চ্যালেঞ্জ রয়েছে তা মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে কৃষি মন্ত্রণালয় নিরলসভাবে প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে।

সাবেক কৃষিসচিব মো. নাসিরুজ্জামান বলেন, খাদ্য উৎপাদনে আমরা সক্ষমতা দেখিয়েছি। করোনাকালেও দেশে খাদ্য উৎপাদনে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি। কিন্তু কৃষিপণ্যের বাজার ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে হবে। কৃষক বা কৃষিপণ্য উৎপাদনকারীদের হাতে বাজারের নিয়ন্ত্রণ থাকতে হবে তাহলে কৃষক যেমন উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য পাবে তেমনি ভোক্তারাও ন্যায্যমূল্যে পণ্য কিনতে পারবে।

‘এশিয়ান খাদ্য সিস্টেমে কোভিড-১৯ এর প্রভাব এবং কৃষির রূপান্তর’ শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এফএও’র সিনিয়র অর্থনীতিবিদ ড. ডেভিড ডো।

করোনাকালে এশিয়ার দেশগুলোর জিডিপির প্রবৃদ্ধির তুলনামূলক চিত্রে দেখা যায়, সেপ্টেম্বর ২০২০ পর্যন্ত প্রজেকশন অনুযায়ী দক্ষিণ এশিয়া, ইস্ট এশিয়া ও সাউথইস্ট এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে জিডিপির প্রবৃদ্ধিতে (৫ শতাংশ) বাংলাদেশ শীর্ষে রয়েছে। যেখানে ভারত, মালদ্বীপ, শ্রীলংকাসহ অনেক দেশের জিডিপির প্রবৃদ্ধি নিম্নমুখী।

করোনায় বিশ্ব খাদ্য মার্কেটে খাদ্যের সরবরাহ ভাল ছিল বলেও তুলে ধরেন তিনি। এছাড়া, আশা করা হচ্ছে চাল, গমসহ সিরিয়াল বা খাদ্যশস্যের সর্বকালের রেকর্ড উৎপাদন হবে এ বছর। অভ্যন্তরীণ বাজারে খাদ্যের দাম এখন পর্যন্ত স্থিতিশীল আছে বলেও প্রবন্ধে বলা হয়।

করোনাকালেও বাংলাদেশে খাদ্যের দাম এখন পর্যন্ত স্থিতিশীল আছে যেখানে পাকিস্তানে ৬ শতাংশ, ভিয়েতনাম, সিঙ্গাপুর ও থাইল্যান্ডে খাদ্যের দাম ৩-৪ শতাংশ বেড়েছে।

কৃষিসচিব মো. মেসবাহুল ইসলামের সভাপতিত্বে সাবেক কৃষিসচিব মো. নাসিরুজ্জামান, খাদ্য সচিব ড. মোছাম্মৎ নাজমানারা খানুম, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. আব্দুস সাত্তার মণ্ডল, আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ম্যাথিউ মোরেল, খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) বাংলাদেশ প্রতিনিধি রবার্ট ডি. সিম্পসন, বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির কান্ট্রি প্রতিনিধি রিচার্ড রাগান, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. শেখ মো. বখতিয়ার, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. মো. আব্দুল মুঈদ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএইচ/টিআরএইচ