সাত বছর কোমায় থেকেও কর্নেল পদে পদোন্নতি পেলেন তাছওয়ার রাজা

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২২ অক্টোবর ২০২০,   কার্তিক ৮ ১৪২৭,   ০৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কর্তৃক অসুস্থ অফিসারকে সম্মাননা প্রদর্শন

সাত বছর কোমায় থেকেও কর্নেল পদে পদোন্নতি পেলেন তাছওয়ার রাজা

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৬:৪৪ ১৬ অক্টোবর ২০২০   আপডেট: ২০:৩০ ১৬ অক্টোবর ২০২০

দেওয়ান মোহম্মদ তাছওয়ার রাজা চৌধুরীকে সিএমএইচে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় কর্নেল ব্যাজ পরিয়ে দেয়া হয় - ডেইলি বাংলাদেশ

দেওয়ান মোহম্মদ তাছওয়ার রাজা চৌধুরীকে সিএমএইচে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় কর্নেল ব্যাজ পরিয়ে দেয়া হয় - ডেইলি বাংলাদেশ

হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে কোমায় চলে যাওয়ার দীর্ঘ সাত বছর পর ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল দেওয়ান মোহম্মদ তাছওয়ার রাজা চৌধুরীকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কর্তৃক কর্নেল পদমর্যাদায় পদোন্নতি প্রদান করা হয়েছে। উল্লেখ্য, তার অবসর গ্রহণের দিনে অর্থাৎ গত ১২ অক্টোবর তারিখে লেফটেন্যান্ট কর্নেল দেওয়ান মোহম্মদ তাছওয়ার রাজা চৌধুরীকে সিএমএইচে চিকিৎসাধীন কোমায় থাকা অবস্থায় সেনা কর্তৃপক্ষ কর্তৃক কর্নেল ব্যাজ পরিয়ে দেয়া হয়।

দেওয়ান মোহম্মদ তাছওয়ার রাজা চৌধুরী বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আর্মার্ড কোরের কর্মকর্তা হিসেবে সেনা সদরে কর্মরত চাকুরীরত অবস্থায় ২০১৩ সালের ১১ মার্চ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে ঢাকা সিএমএইচে ভর্তি করা হয়। কিন্তু চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার পরিস্থিতির অবনতি হলে তিনি কোমায় চলে যান। 

সিএমএইচের ৩১৪ নম্বর কেবিন নন্দকুঁজা’য় দেওয়ান মোহম্মদ তাছওয়ার রাজা চৌধুরী কাটিয়েছেন সাত বছর - ডেইলি বাংলাদেশ

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উদ্যোগে বিদেশে নিয়ে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হলেও বর্তমান পর্যন্ত তার জ্ঞান ফিরেনি। তবে তার শরীরের অঙ্গসমূহ এখনো যথাযথভাবে কাজ করছে। উল্লেখ্য, তাকে ঢাকা সিএমএইচের ৩১৪ নম্বর কেবিন নন্দকুঁজা’য় রেখে চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে বিগত সাত বছর যাবৎ। এখানে থাকা অবস্থাতেই তাকে কর্নেল পদে পদোন্নতি প্রদান করা হয়েছে। 

দেওয়ান মোহম্মদ তাছওয়ার রাজা চৌধুরীর পরিবার এবিষয়ে সেনাবাহিনি প্রধানের প্রতি তাদের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে জানিয়েছেন যে, তাকে দেয়া এ পদোন্নতি সেনাবাহিনী প্রধানের এক মহানুভবতার পরিচায়ক এবং এটা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসকে আরো সমৃদ্ধ করবে।

দেওয়ান মোহম্মদ তাছওয়ার রাজা চৌধুরীর পরিবার - সংগৃহীত

দেওয়ান মোহম্মদ তাছওয়ার রাজা চৌধুরীর স্ত্রী মোসলেহা মুনিরা রাজা জানান, তাকে প্রদানকৃত এতো বড় সম্মানের বিষয়টি আমি চিন্তাও করতে পারিনি। আমি বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচ) কর্তৃপক্ষের নিকটে খুবই কৃতজ্ঞ। আমার অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার নয়।

সিএমএইচে চিকিৎসাধীন দেওয়ান মোহম্মদ তাছওয়ার রাজা চৌধুরীর চিকিৎসক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাসুদ মজুমদার বলেন, অসুস্থ হবার পর যখন তার হার্ট যখন কাজ করছিল না, তখন আমরা এডভান্স কার্ডিয়াক সাপোর্টের মাধ্যমে হার্টকে সচল করেছিলাম। আমরা এখনো তার সুস্থতার বিষয়ে আশাবাদী আছি।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একজন অসাধারণ পেশাদার, মিষ্টভাষী, হাস্যোজ্জ্বল, বিরাট হৃদয়ের কর্মকর্তা ছিলেন সদ্য অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল দেওয়ান মোহম্মদ তাছওয়ার রাজা চৌধুরী - সংগৃহীত

সদ্য অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল দেওয়ান মোহম্মদ তাছওয়ার রাজা চৌধুরী বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একজন অসাধারণ পেশাদার, মিষ্টভাষী, হাস্যোজ্জ্বল, বিরাট হৃদয়ের কর্মকর্তা ছিলেন। নানা গুণে গুণাণ্বিত এ সেনা কর্মকর্তা শৈশব থেকেই শিক্ষাসহ নানা ধাপে তার মেধার স্ফুরণ দেখিয়ে এসেছেন। উক্ত অফিসার সুস্থ থাকাবস্থায় বাংলাদেশের সেনাবাহিনীকে নিয়ে লেখা বেশকিছু বইয়ের অন্যতম প্রধান লেখক ছিলেন।

এগুলোর মধ্যে অন্যতম ‘ও জেনারেল মাই জেনারেল’, ‘বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর  আর্মার্ড কোরের ইতিহাস’ ও ‘বাংলাদেশ আর্মার্ড কোর’।  এছাড়া তিনি সেনাবাহিনীর বিশেষ বিভাগ, রেজিমেন্ট ও ইউনিট ইত্যাদি এবং বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে লিখেছেন। তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধের মুক্তিবাহিনীর সেনাপতি জেনারেল আতাউল গণি ওসমানীকে নিয়েও বই লিখেছেন, যা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মিলিটারি লাইব্রেরিসমূহে রয়েছে।

তাছওয়ার রাজা চৌধুরী বাংলাদেশের সেনাবাহিনীকে নিয়ে লেখা বইগুলোর অন্যতম প্রধান লেখক - সংগৃহীত

দেওয়ান মোহম্মদ তাছওয়ার রাজা চৌধুরী প্রখ্যাত মরমি কবি এবং বাউল শিল্পী হাসন রাজার বংশধর ও প্রপৌত্র। হাসন রাজাকে নিয়েও তার ‘লাইফ অ্যান্ড ওয়ার্কস অব ম্যাজিস্টিক পয়েট হাসন রাজা’ শিরোনামে একটি লেখা আছে। 

অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল দেওয়ান মোহম্মদ তাছওয়ার রাজা চৌধুরী দুই ছেলে ও এক মেয়ের জনক। তার মেয়ে ও এক ছেলে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/টিআরএইচ/আরএইচ