মা-বাবাসহ ৪ গলাকাটা লাশের পাশে কাঁদছিল দুধের শিশু

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ০৩ ডিসেম্বর ২০২০,   অগ্রহায়ণ ১৯ ১৪২৭,   ১৬ রবিউস সানি ১৪৪২

মা-বাবাসহ ৪ গলাকাটা লাশের পাশে কাঁদছিল দুধের শিশু

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৫:১৩ ১৫ অক্টোবর ২০২০   আপডেট: ১৫:২০ ১৫ অক্টোবর ২০২০

ছয় মাসের শিশু মারিয়া (বামে)

ছয় মাসের শিশু মারিয়া (বামে)

একটি কক্ষে মাসহ দুই সন্তানের গলাকাটা লাশ পড়ে ছিল। আর মায়ের লাশের পাশেই শুয়ে কাঁদছিল ছয় মাসের শিশু মারিয়া সুলতানা। পাশের কক্ষে খাটের ওপরে বাবার পা বাঁধা লাশ পড়ে রয়েছে। একই পরিবারের চারজনকেই গলা কেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। তবে ভাগ্যক্রমে বেঁচে গেল শিশুটি।

বৃহস্পতিবার ভোরে হৃদয়বিদারক এ ঘটনাটি ঘটেছে সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার হেলাতলা ইউপির খলিসা গ্রামে। এ ঘটনার উদঘাটনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন টিম মাঠে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন সাতক্ষীরার এসপি মো. মোস্তাফিজুর রহমান।

নিহতরা হলেন- হেলাতলা গ্রামের ব্যবসায়ী মো. শাহীনুর রহমান, তার স্ত্রী সাবিনা খাতুন, ছেলে সিয়াম হোসেন মাহী ও মেয়ে তাসমিন সুলতানা।

নিহত শাহীনুরের ছোট ভাই রায়হানুল ইসলাম বলেন, বাড়িতে মা ও বড় ভাইয়ের পরিবারের সদস্যরা আমরা এক সঙ্গে থাকি। বুধবার আমার মা আত্মীয়ের বাড়িতে গিয়েছিলেন। রাতে পাশের আরেকটি ঘরে আমি ছিলাম। ভোরে পাশের ঘর থেকে বাচ্চাদের গোঙানির শব্দ শুনতে পাই। এরপর গিয়ে দেখি তাদের ঘরের দরজা বাইরে থেকে আটকানো। দরজা খুলে বীভৎস দৃশ্য দেখতে পাই। ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে ভাই, ভাবি, ভাতিজা ও ভাতিজির লাশ। প্রথমদিকে বাচ্চারা বেঁচে ছিল, তবে কিছুক্ষণ পর মারা যায়। মায়ের লাশের পাশে পড়ে ছিল ছয় মাস বয়সী মারিয়া।

তিনি বলেন, বড় ভাই শাহীনুর ইসলাম নিজস্ব ৭-৮ বিঘা জমিতে পাঙাস মাছ চাষ করতেন। ২২ বছর ধরে তাদের পারিবারিক সাড়ে ১৬ শতাংশ জমি নিয়ে প্রতিবেশী ওয়াজেদ কারিগরের ছেলে আকবরের সঙ্গে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে মামলা ও পারিবারিক বিরোধের জের ধরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে বলে ধারণা করছি।

স্বজনরা জানায়, ভোরে তারা ওই বাড়িতে চিৎকার চেঁচামেচি শুনে ছুটে যান। পরে দরজা খুলে দেখতে পান গলাকাটা লাশগুলো পড়ে আছে।

এদিকে, সকালে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। স্থানীয় নারী ইউপি সদস্য নাছিমা খাতুন জীবিত থাকা একমাত্র শিশুটিকে নিয়ে নিজের কাছে রাখেন। পরবর্তীতে শোকে কাতর পরিবারের কাছে দেন শিশুটিকে। সকাল ১০টা পর্যন্ত লাশগুলো পড়েছিল ওই ঘরের মধ্যে। পুলিশের ক্রাইমসিনের তদন্তের জন্য ঘরে ঢুকতে দেয়া হয়নি কাউকে।

জানা গেছে, নিহত শাহীনুর রহমানের তিন ভাইয়ের মধ্যে এক ভাই আশরাফুল ইসলাম মালয়েশিয়া থাকেন।

নিহতের বোন আছিয়া খাতুন আহাজারি করছেন। তিনি বলেন, আমার মা ও আরেকটা ভাই বাড়িতে থাকলে তাদেরও খুন করতো এরা।

হেলাতলা ইউপি চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, এটি একটি নৃশংস ঘটনা। একমাত্র শিশুকে রেখে পরিবারের বাকি চার সদস্যকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় যে বা যারাই জড়িত থাকুক তাদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি। একইসঙ্গে ঘটনার মূল রহস্য উন্মোচন করা হোক।

কলারোয়া থানার ওসি হারান চন্দ্র পাল বলেন, এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কাউকে আটক করা হয়নি। ঘটনাস্থলে এসপি মোস্তাফিজুর রহমানসহ সিআইডি, ডিবি পুলিশ, ডিএসবি, র‌্যাব ও অন্যান্য গোয়েন্দা বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত রয়েছেন। এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, মায়ের লাশের পাশে পড়ে কাঁদছিল ছয় মাস বসয়ী শিশু মারিয়া। সকালে স্থানীয় নারী ইউপি সদস্য তাকে তার দায়িত্বে রাখেন। এখনো মাঝে মধ্যে কাঁদছে শিশুটি। স্বজনদের কাছে রয়েছে ওই পরিবারের একমাত্র জীবিত থাকা শিশুটি। মা-বাবাকে খুঁজছে শিশুটি।

সাতক্ষীরার এসপি মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এ নির্মম-নৃশংস ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের খুঁজে বের করা হবে। আমরা তথ্য উপাত্ত নিচ্ছি। এ ঘটনায় যারাই জড়িত থাকুক তাদের খুঁজে বের করা হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর