ইচ্ছেমতো ভাড়া আদায় করেন এই অ্যাম্বুলেন্স চালক

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২৮ জানুয়ারি ২০২১,   মাঘ ১৪ ১৪২৭,   ১৩ জমাদিউস সানি ১৪৪২

ইচ্ছেমতো ভাড়া আদায় করেন এই অ্যাম্বুলেন্স চালক

মনোহরদী (নরসিংদী) প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২৩:৩৩ ৫ অক্টোবর ২০২০   আপডেট: ২৩:৪৭ ৫ অক্টোবর ২০২০

অ্যাম্বুল্যান্স চালক আব্দুল আজিজ

অ্যাম্বুল্যান্স চালক আব্দুল আজিজ

নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অ্যাম্বুল্যান্স চালক আব্দুল আজিজের বিরুদ্ধে অভিযোগের অন্ত নেই। নিজে বসে থেকে অদক্ষ ও অপ্রাপ্ত বয়স্ক চালক দিয়ে গাড়ি চালানো, রোগী আনা-নেয়ার ক্ষেত্রে ইচ্ছেমতো ভাড়া আদায় এবং অবৈধভাবে পরিবারসহ হাসপাতাল কোয়ার্টারে বসবাস করাসহ নানা অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

১৯৯২ সালে মনোহরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অ্যাম্বুল্যান্স চালক হিসেবে যোগদান করেন আব্দুল আজিজ। দীর্ঘ ২৮ বছরে মাত্র দুইবার বদলি হয়েছেন তিনি। তাও নরসিংদী সিভিল সার্জন কার্যালয়ে দুই মাসের জন্য এবং বেলাব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুই মাসের জন্য। দীর্ঘ সময় এক উপজেলায় থাকায় সরকারি নিয়ম-নীতির প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ইচ্ছে মতো দায়িত্বহীনভাবে চাকরি করে যাচ্ছেন এ চালক। 

ইচ্ছে মতো অ্যাম্বুল্যান্স ভাড়া আদায়

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সরকারি হাসপাতাল পরিচালনা বিধিমালা-২০১৮ অনুযায়ী অ্যাম্বুল্যান্স, কেবল রোগী পরিবহনে অথবা জরুরি প্রয়োজনে রোগীকে এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে স্থানান্তরের জন্য ব্যবহার করা যাবে। এক্ষেত্রে সরকার কর্তৃক নির্ধারিত ফি প্রদান করতে হবে। মনোহরদী হাসপাতালে টানানো চার্ট অনুযায়ী অ্যাম্বুল্যান্স প্রতি কিলোমিটার আসা যাওয়া ২০ টাকা হারে ভাড়া নির্ধারিত আছে। এতে মনোহরদী থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পর্যন্ত ৯০ কিলোমিটার দূরত্ব ধরে নিলে একজন রোগীকে পরিবহন বাবদ অ্যাম্বুল্যান্স ভাড়া দিতে হয় এক হাজার ৮০০ টাকা। কিন্তু ড্রাইভার আব্দুল আজিজ সরকারি নীতিমালা অনুসরণ না করে রোগীদের কাছ থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা থেকে সাড়ে চার হাজার টাকা ভাড়া আদায় করে থাকেন।

এ ছাড়া প্রাইভেট অ্যাম্বুল্যান্সের মালিকের কাছ থেকে কমিশন নিয়ে নিজের ব্যস্ততা দেখিয়ে সেখানে রোগী পাঠিয়ে দেন ড্রাইভার আজিজ। সোমবার মনোহরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে মুমূর্ষু অবস্থায় একজন রোগীকে সরকারি অ্যাম্বুল্যান্সে করে জরুরিভাবে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এজন্য চালক আব্দুল আজিজকে তিন হাজার ৫০০ টাকা পরিশোধ করেছেন। 

নিজে না গিয়ে বাইরের চালক দিয়ে সরকারি অ্যাম্বুল্যান্সে রোগী পরিবহন

প্রতক্ষদর্শীরা জানান, আব্দুল আজিজ বেশির ভাগ সময় ঘরে বসে থেকে বাইরের অদক্ষ, লাইসেন্সবিহীন ও অপ্রাপ্ত বয়স্ক চালক দিয়ে সরকারি অ্যাম্বুল্যান্সে ঢাকায় রোগী পরিবহন করে থাকেন। গত সপ্তাহে তিনদিন ছুটি নিয়ে ময়মনসিংহের নিজ বাড়িতে গেলেও বসে থাকেনি তার অ্যাম্বুল্যান্স। মনির হোসেন নামে বাইরের অপ্রাপ্ত বয়স্ক ও লাইসেন্সবিহীন এক চালক দিয়ে তিনি অ্যাম্বুল্যান্স চালিয়েছেন। এভাবে প্রতিনিয়ত সরকারি অ্যাম্বুল্যান্স ইচ্ছে মতো ব্যবহার করে যাচ্ছেন তিনি। 

পরিচিত এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের অ্যাম্বুল্যান্স সেবা না দেয়া

পরিচিত এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিকে অ্যাম্বুল্যান্স সেবা না দেয়ার অভিযোগ করেছেন কয়েকজন। ইচ্ছে মতো ভাড়া আদায় করতে পারবে না এমনটা ভেবেই তিনি তাদেরকে পরিবহন সেবা দিতে অনিচ্ছুক বলে মনে করছেন তারা। 

হাসপাতালের কোয়ার্টার অবৈধভাবে বসবাস

হাসপাতালের ডাক্তারদের জন্য নির্ধারিত কোয়ার্টারে পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন ড্রাইভার আজিজ। ওই কোয়ার্টার শুধুমাত্র ব্যাচেলর ডাক্তারদের জন্য নির্ধারিত। তাছাড়া সেখানে পরিবার নিয়ে বসবাস করার নিয়ম নেই। এতে সরকারের দেয়া বাড়ি ভাড়া ফাঁকি দিয়ে যাচ্ছেন। 

ওভারটাইম ভাতা গ্রহণ

প্রতি মাসের সাতদিনও তিনি সন্ধ্যার পর অ্যাম্বুল্যান্স পরিবহন সেবা দেন না বলে অভিযোগ করছেন সংশ্লিষ্টরা। অথচ প্রতিমাসে বেতনের সমপরিমাণ অর্থ ওভারটাইম ভাতা সরকারের কাছ থেকে গ্রহণ করছেন তিনি। তাছাড়া গাড়ি মেরামত এবং তেলের ভুয়া ভাউচার দিয়ে নিয়মিত মোটা অঙ্কের টাকা তিনি হাতিয়ে নিচ্ছেন। 

ড্রাইভার আব্দুল আজিজ তার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সরকার নির্ধারিত ফি অনুযায়ী এখানে রোগীদের কাছ থেকে ভাড়া নেয়া হয়ে থাকে। কারো কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নেয়া হয় না। তাছাড়া বিইরের লোক দিয়ে অ্যাম্বুল্যান্স চালানোর তথ্য সঠিক নয় বলে দাবি করেন তিনি।

মনোহরদী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রাশেদুল হাসান মাহমুদ বলেন, রোগীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিষয়টি আমার জানা নেই। তাছাড়া বাইরের চালক দিয়ে সরকারি অ্যাম্বুল্যান্স চালানোর বিষয়টিও কেউ জানায়নি। 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ